Sunday, December 23, 2007

বৃত্তের বাইরেও জীবন আছে- সীমাহীন, অনন্ত...

ডিপার্টমেন্ট থেকে স্টাডি ট্যুরে যাব মনে হয় এ মাসের ৩০ তারিখ। পিছিয়ে অবশ্য জানুয়ারীর ২ তারিখও হতে পারে। নেপাল, দার্জিলিং। দেশের বাইরে যাওয়া হয়নি এর আগে কখনো। সেজন্য মনে মনে একটু উত্তেজিতই হয়ে আছি বলতে গেলে। এখন বেশ মনে হচ্ছে খুব মজা হবে, খুব মজা করব বন্ধুরা মিলে, গেলে কি হয় দেখা যাবে। হয়ত কিছুই মজা হবেনা, আমরা দেশে ফিরে শুধু ভান করতে থাকব যে আমরা অনেক এনজয় করে এসেছি, দেশে থাকা বন্ধুদেরকে কথায় কথায় বারবার বলব, “ তোরা তো জানিসনা কি মিসটা যে করলি!” হাঃ হাঃ!

দেশ-বিদেশে ঘোরাঘুরির অনেক শখ আমার। সাধ আছে, সাধ্য নেই। সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় যেদিন ঘটবে সেদিন হয়ত আর ইচ্ছেটা থাকবেনা। মনটা মরে যাবে কি? হয়ত, আবার হয়ত না। মাঝে মাঝে মনে হয় কি হবে ছাতামাথা এত লেখাপড়া করে? সেই চাকরি, সংসার, আর একঘেঁয়ে জীবন। এর চেয়ে যদি ইচ্ছেমত কোথাও বেরিয়ে পরতে পারতাম! জীবনের একেকটা দিন যদি একেক রকম হত! খুব ছেলেবেলা থেকেই আমাদের চারপাশে একটা ছক কেটে দেয় আমাদের পরিচিত মানুষগুলো। আমাদেরকে শেখানো হয় এই ছকের বাইরে যেন না যাই। সব মেনে যারা সেই ছকে বাঁধা জীবন কাটাতে পারে তারা বাবা-মায়ের বাধ্য ছেলেমেয়ে। সবার কাছে আদর্শ। আর যেই তুমি এক পা বাইরে বেরিয়েছ অমনি সবাই হা হা করতে করতে ছুটে আসবে তোমাকে রুখে দিতে। অমন অবাধ্য হবার ইচ্ছেটাকে দমিয়ে তুমি যদি সবার মন রেখে চলতে পার তবেই তুমি সার্থক। জান লাবন্য, ছোটবেলা থেকে খুব চাইতাম একটা ভাল মেয়ে হতে। ভাল কি সেই সংজ্ঞার কথা ভাবতামনা। শুধু এটাই ভাবতাম - ভাল হতে পারছি তো? আর এখন নিজেকেই প্রশ্ন করি এত চেষ্টা করেও আদৌ কি সবার কাছে ভাল হতে পেরেছি? পারিনি। তাহলে? আজকাল আমার খুব অবাধ্য হতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে যা খুশি তাই করার। মুখের কথায় রাজা উজির মেরে ফেলি এক নিমেষেই, কিন্তু কাজের বেলায় এখনো সেই পুরনো সংস্কার রয়ে গেল। আমার আর অবাধ্য হওয়া হলনা।

শিরোনামহীন-১

বড় বোন মাঝে মাঝে ফোন করে বিরক্ত হয়ে বলে - “এখানে ওয়েদারটা ভাল যাচ্ছে না, বরফ পড়ছে গত কয়দিন ধরে।” শুনি আর ভাললাগা নিয়ে ভাবতে থাকি-“ইশ, কি সুন্দর!”। কখনো বরফ পড়তে দেখিনি বলেই হয়ত বরফ পড়া নিয়ে একটা ফ্যান্টাসি আছে মনের মাঝে। বিদেশী ক্লাসিকগুলোর মধ্যে ছোটবেলায় মনে হয় সবচেয়ে বেশী পড়েছি রাশিয়ান বই। এখন নামও মনে পড়েনা। ওদের গল্পগুলোর ধরণ আমাদের গল্পগুলোর মত ছিলনা বলে খুব একটা ভাল বুঝতামওনা। তবু বরফ নিয়ে আমার ফ্যান্টাসিটা শুরু মনে হয় ওখান থেকেই। আমি যখন এই হাল্কা শীতেও ভারি ভারি গরম কাপড় পরে ঘরে বসে থাকতাম, আমার গল্পের ভাস্কা, সেরিওজা, লিদা-রা তখন বরফ হয়ে থাকা নদীর উপর দিয়ে হাল্কা পায়ে দৌড়ে যেত, স্নো বল ছুঁড়ে মারত এ ওর গায়ে, আর স্কী করতে ছুটে যেত পাশের ফাঁকা মাঠটায়। আমিও তখন মাফলার গলায় হাঁচতে হাঁচতে ওদের সাথে হারিয়ে যেতাম কল্পনায়।

ভাবতে ভাল লাগে- কাঠের একতলা একটা বাড়ি। বার্চ, পাইন আরো সব গাছে ভর্তি চারপাশ। চারদিক বরফে সাদা হয়ে আছে। বাড়ির চালাটা আর কাঠের বলে বোঝা যায়না। বাইরে কুচিকুচি মিহিদানার মত বরফ পড়ছে। ফায়ারপ্লেসের পাশে বসে আছি কফির কাপ হাতে। ঠান্ডায় হাত বের করা ও দায়!

স্বপ্নের মত মনে হয়...

Friday, November 23, 2007

সময় যখন অসময়

লাবন্য,
অনেকদিন পর লিখতে বসলাম। ভীষণ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। ঘুম, ক্লাশ, বাসা, পড়া, আবার ঘুম - এই আমার প্রতিদিনকার রুটিন এখন। দম ফেলার সময় নেই। নেটেও বসা হয়না বলতে গেলে। যা-ও বসছি, গুগলে ২-৪ টা সার্চ দিয়ে আবার বেরিয়ে যাই। এরই মাঝে ভীষণ পরিচিত আর ভীষণ বাজে দুটো ঘটনা ঘটল হঠাৎ।ভাবলাম তোমাকে জানাই। তা-ই আজ লিখতে বসা।

ঘটনা ১:
সকাল সাড়ে আটটা। একটু সময় হাতে নিয়েই বের হয়েছি হেঁটে বাস কাউন্টারে যাব বলে। ভার্সিটির বাস। গলির মুখে একটা রিক্সা দাঁড় করানো। ধীরে সুস্থে হাঁটছি। রিক্সার পাশে এসেছি মাত্র, হঠাৎ রিক্সার মুখ ঘুরল আর রিক্সাওয়ালা কিছু একটা বলল মনে হল। প্রথমে বুঝতে পারিনি আমাকেই বলেছে কিনা। জিজ্ঞেস করব কিনা ভেবে আর জিজ্ঞেস করলামনা। মনে হল দরকার হলে সে-ই আবার আমাকে ডেকে বলবে। আরো কিছু দূর যাওয়ার পরে হঠাৎ পাশে দিয়ে তীরবেগে একটা রিক্সা চলে গেল, এবং এবারো মনে হল আমাকেই উদ্দেশ্য করে কিছু বলল যেন। তাকিয়ে দেখি আগের সেই রিক্সাওয়ালাই! এবার আমি নিশ্চিত হলাম সে তখনো আমাকে উদ্দেশ্য করেই কিছু বলেছিল এবং দ্বিতীয়বারো সে একই সাহস দেখাল! দুঃখজনক হলেও সত্য যে এবার আমি ভয় পেয়ে গেলাম এবং রাগে- দুঃখে অপমানে আমার তখন দিশেহারা অবস্থা। ভয়- এ জন্য যে আবার যদি সামনে গিয়ে একই পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হয়! নিস্ফল রাগ, আর সীমাহীন অপমান! উফ।

ঘটনা ২:
একই দিনের ঘটনা। জানালার পাশে বসে গল্প করছি। চোখের কোণে হঠাৎ আলো দেখতে পেয়ে বাইরে তাকালাম। পাশের বাড়ীর জানালা। ছেলেটার বয়স কতই বা আর হবে? আমার চেয়ে তো ঢের ছোট। মোবাইলের ক্যামেরায় ছবি তুলছে। দেখে ফেলেছি বলে লুকিয়ে গেল। একটু পরে আবার আলোর ঝলকানি। আবার ক্যামেরার ফ্ল্যাশ। কি আর করা, হতাশ হয়ে পর্দা টেনে দিলাম।

রাস্তা-ঘাটে, বাসে - টার্মিনালে মেয়েদেরকে হয়রানি করা বা কটু মন্তব্য করা এখন অতি স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কিছু বলার নেই, বা দেখার নেই। আমরা নিজেরা সাহস করে কিছু বলতে পারছিনা কারণ মনে ভয় যদি আরো বেশী অপমানিত হতে হয়! অনেকেই হয়ত বলবেন ছেলেরা তো রাস্তার সব মেয়েকে দেখলেই শীষ বাজায়না, বা অশালীন মন্তব্য করেনা- তাহলে যেই মেয়েকে কটু মন্তব্য শুনতে হচ্ছে তার নিজের দোষেই শুনতে হচ্ছে। মানলাম দু’একজনের ক্ষেত্রে তাদের এ কথা খাটতে পারে, কিন্তু বাকিদের ক্ষেত্রে? এসব অসুস্থ মনের ছেলেদের কটু কথার দায়ও যদি আমাদের উপরেই চাপানো হয়, তাহলে এর চেয়ে বেশী দুঃখজনক আর কি হতে পারে? পাড়ার বখাটে থেকে শুরু করে রিক্সাওয়ালা, সবার কাছে আমরা জিম্মি। শুধু এ কারণে যে আমরা দুর্বল। আমাদেরকে কিছু বললে আমরা তেড়ে উঠে মারতে পারিনা, নিজের দুর্বলতা মেনে নিয়ে কিছু না শোনার ভান করে চলে আসি।তোমার পাশে দিয়ে যেতে কেউ তোমাকে কোন খারাপ কথা বলল, আর তুমি ভান করলে তুমি কিছু শোননি, যেন কিছু হয়নি এ ভাব নিয়ে তুমি হেঁটে চলে আসলে - লাবন্য তুমি কি জান নিজেকে কি ভীষণ তুচ্ছ মনে হয় তখন? এ যেন নিজের কাছে নিজের ছোট হয়ে যাওয়া। মাঝে মাঝে মনে হয় সমাজের মুলটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আজকাল সবার মাঝে নৈতিকতা, মূল্যবোধ- এ ব্যাপারগুলোর বড্ড অভাব যেন। কেউ মনে হয় এইসব সেকেলে ব্যাপার নিয়ে মাথাও ঘামায়না। নাহয় মাত্র কাল যেই ছেলেকে দেখলাম হামাগুড়ি দিয়ে বেড়াচ্ছে, আজ সে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আমাকে দেখেই শীষ দিচ্ছে! অবশ্য ঢালাওভাবে সবাইকে খারাপ বলাটা হয়ত ঠিক না, তবে ৭০ ভাগ খারাপের জন্য ৩০ ভাগ ভাল মানুষের কথা মনেও আসেনা। যদিও ভাল - খারাপ ব্যপারগুলো বড় বেশি আপেক্ষিক, তবু সেই আপেক্ষিক ভাল কাউকেও আজকাল খুঁজে পাওয়াটা বেশ কষ্টকর!

কোথায় গেলে শান্তি পাব বলতে পার?

Friday, November 2, 2007

মানুষ আমি

জীবন সম্পর্কে আমার কিছু অভিমান আছে। কেন যা চাই তা পাইনা? কেন তোমরা কেউ পাবে আর আমি পাবনা? আমার ঘাটতিটা কোথায়? ইচ্ছারতো ঘাটতি নেই - তবে? তবে কি ঘাটতি আমার ভাগ্যের? ভাল লাগেনা আমার, কিছুই ভাল লাগেনা। এমনি করে ভাবতে গেলে জীবনটা খুব জটিল মনে হয়। যখন জীবনের চাওয়া পাওয়ার সমীকরণের দিকে তাকাই, হয়ত চাওয়ার তুলনায় পাওয়াগুলোই বেশী থাকে, তবু শুধু যা পাইনি তা-ই নিয়েই হতাশা। হতাশা আর আক্ষেপ। সেগুলোই যেন এ জীবনের শ্রেষ্ঠ চাওয়া ছিল। জীবনের শ্রেষ্ঠ চাওয়াগুলো অপূর্ণই থেকে গেল মনে হয়। তবে এর দায় কিছুতেই পুরোপুরি আমার না। গভীর রাতে যখন আমার ইচ্ছা করে মাঝ নদীতে নৌকা ভাসিয়ে দিতে- নৌকো থেকে জোছনা দেখতে, নয়ত ফাঁকা রাজপথে হেঁটে যেতে অনেক দূর- আমি পারিনা কেন? যদি ভাবি গভীর রাতে শীতে কাঁপতে কাঁপতে খুব একা পাহাড়ী মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে যাব, হঠাৎ কোন চায়ের দোকান পেলে এক ভাঁড় চা খেয়ে নেব, চলতে থাকব আবার- নিজের মনেই বলে উঠতে হয়- “ধুর বোকা, এত রাতে একা মেয়েমানুষ তুমি ঘরের বাইরে থাকবে কি করে?” পারিনা, কিছুই করা হয়না। মনটাও বন্দী হয়ে গেছে যেন, স্বপ্ন দেখতেও ভয় পায়। এ সমাজ শুধুই ছেলেদের জন্যে, ওদের সব চাওয়া পুরণের জন্যে, আমাদের জন্যে না। আমাদের শখ থাকতে নেই, তাতে কষ্ট বাড়ে কেবল। আর অক্ষম আক্রোশ, নিস্ফল আক্ষেপ...

Saturday, October 27, 2007

দুষ্টু, কিন্তু বেশী নয়!

আমাদের এলাকাটা বেশ নিরিবিলি। পুরো এলাকার মাঝে আবার আমাদের গলিটা বেশিরকম চুপচাপ। বেলা হলে কিছু ফেরীওয়ালার ডাক আর মাঝে মাঝে কিছু গাড়ির হর্ণ। পাশের বাসার মিকি যদিও প্রথম প্রথম বেশ চিৎকার করত কাউকে চিনতনা বলে, কিন্তু ছেলেপুলেদের আওয়াজ পাওয়া যায়না বললেই চলে। আর আজকাল বাচ্চাগুলোতো ঘরের বাইরে এসে খেলাও ভুলে গেছে। করিডরে মাঝে মাঝে দু’একজনকে খেলতে দেখি। করিডরের দেয়ালে দেয়ালে কি কি সব লিখে রেখেছে। “সামিন পঁচা ছেলে” বা “পৃথা একটা আস্ত বোকা মেয়ে” ভুল বানানে এরকম কিছু প্রায়ই লিখে যায় ওরা। মাঝে মাঝে ওদের হুটোপুটিও শুনি বেশ, তবে খুব বেশী না। পড়াশুনা নিয়েই বেশী ব্যস্ত। নয়ত নাচের ক্লাশ, আঁকার ক্লাশ, ম্যাথের টিচার - আরো কত কি! সময় কোথায় হৈ-হুল্লোড় করার? খুব হঠাৎ হঠাৎ পিয়াল-পুশনরা বেড়াতে আসলে পরে বাচ্চাগুলো প্রাণ পায় আবার। মাঝে মাঝে দেখি আমার বাসায় চলে আসে।নিজেরাই পি.সি. নিয়ে বসে যায়। পিয়াল-পুশন তো সব গেমসই খেলতে পারে। সামিন ওদের সামনে পুরো ন্যাতানো। ভয় পায় মনে হয়। পৃথাটা তাও একটু ফটফট করে যেতে পারে সমান তালে, সেহরীন তো আর ছোট। ওকে সামিনই পাত্তা দেয়না, আবার পিয়াল-পুশন! সামিনের সাথে আবার আমার বেশ ঝগড়া। সামিন সব রোজা রাখতে পারেনা, আমি পারি। বা ওর হাতের লেখা বেশী সুন্দর, আমারটা তো একদমই গুটিগুটি। আমি অংক কষতেই পারিনা, আর টিচার শিখিয়ে দিলে ও চটপট সব অংক কষে ফেলে! ওর মামার চেয়ে আমি লম্বা হলে কি হবে, ও ঠিকই বড় হয়ে আমার চেয়ে লম্বা হয়ে যাবে- এইসব নিয়ে হরদম ঝগড়া চলতেই থাকে আমাদের। মাঝে মাঝে মারামারিও করি না যে তা না। ভুঁড়িতে একটা গোত্তা দিলেই ও রেগেমেগে একশেষ। যা মুখে আসে তা-ই বলে যায়! সেবার ওর সাথে সন্ধি করেছিলাম আর ঝগড়া করবনা বলে। মাঝে মাঝে মারামারি বা ঝগড়ার তুঙ্গে ওঠার পর মনে করিয়ে দিই সে কথা। ভাল ছেলে। থেমে যায়। আমার থার্ড ইয়ার ফাইনালের সময় একটা পেন্সিলও উপহার দিয়েছিল আমাকে। ওর যে অনেক পেন্সিল! তখন তখন আমাদের বেশ ভাব ছিল। চাইতেই পরেরদিন একটা নিয়ে আসল! আরেকবার একটা ‘mojo’ ও নিয়ে এসেছিল আমার জন্যে! পৃথা দারুন স্মার্ট। খুব ভাল নাচে। ওর কাজিন যে ঐশী- ও কিন্তু খুব ভাল গান করে।আরশী তো এখনো খুবই ছোট।তাই ও শুধু ছড়া বলতে পারে। আরেকটু বড় হলেই ও গান-নাচ শিখে ফেলবে।

সামনে পরীক্ষা বলে আজকাল বাচ্চাগুলোর দেখাই পাওয়া যাচ্ছেনা। পিয়াল - পুশনও মনে হয় ব্যাস্ত। আসা যাওয়ার পথে মাঝে মাঝে ওদেরকে যা ও দেখি তা ও কোন না কোন টিচারের বাসায় যাচ্ছে। মিকিও সবাইকে চেনে এখন। তাই আর চিৎকারও করেনা। সব চুপচাপ।

Friday, October 26, 2007

যায়- যায় বেলা..

আজকাল দিনগুলো যেন অনেক বড় হয়ে গেছে। কাটতেই চায়না। সময় কাটানোর জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠছি অনেক দেরি করে। কিন্তু দিনের বাকীসময়টা যেন আরো লম্বা হয়ে গেছে। কাজ নেই। ভুল বললাম আসলে। কাজ আছে, অনেক কাজ। করা হয়না কিছুই। শুধু আলসেমী আর আলসেমী। এই ত কদিন আগেও যখন ভাল মেয়ে ছিলাম খুব ভোরে ভোরে ঘুম থেকে উঠতাম। ভোর সকালটা ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয় সময়। আমার এই জানালা থেকে রাস্তা দেখা যায়না, কোন সবুজের ছিটেফোঁটাও দেখিনা- তবু জানালায় দাঁড়িয়ে আকাশ দেখা, ভোরের আকাশ- আমার খুব প্রিয় একটা কাজ ছিল। খুব সকালে উঠলে দিনটাই যেন অনেক বড় হয়ে যায়। তাই না? কত সময় থাকে কত কাজ করার মত! আগের বাসায় ছিলাম যখন, ভোরে আমার ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দায় পড়তে বসতাম। সেই বারান্দার সামনে ছিল আবার বিরাট বড় কবি বাড়ী। সবুজ আর সবুজ। আর কত যে পাখি! মাথাটা একটু কাত করে বাইরে তাকালে ভোরের সূর্য ওঠাটাও দেখতে পেতাম। এ বাসায় তেমন কিছু নেই। জানালায় দাঁড়ালে একটু দূরেই পাশের বাড়ী। তবু ভোরে আকাশটা দেখতে চমৎকার লাগে, ভুল বললাম, লাগত বলাই ঠিক। কতদিন দেখিনা...

বেলা বাড়তে থাকলে বাইরে রাস্তায় ফেরীওয়ালাদের হাঁক-ডাক শুরু হয়ে যায়। এই হাঁক ডাক না শুনলে আজকাল ভালই লাগেনা। মনে হয় দিনটাই যেন কেমন ম্যারম্যারা। খুব খেয়াল করে শুনে দেখ, তুমিও আমার মত উপভোগ করতে পারবে। ভাল লাগবে। ওদের কাউকে দেখিনা, শুধু শুনি - “এই যে লেপ-তোষক....” বা “শব্জী লাগবে...? তাজা তাজা শব্জী...” । আর ওই যে পাশের বাড়ির জানালায় বুড়ো মত যে দাদু বসে থাকে মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে- সবটাতেই ভীষণ প্রাণ খুঁজে পাই। মনে হয় বেঁচে থাকাটাই খুব সুখের।

আর সবচেয়ে ভাল লাগে অলস দুপুরগুলো। দুপুরে ভাত টাত খেয়ে যখন কোন কাজ থাকেনা, একটা গল্পের বই হাতে নিয়ে বা কিছুই না করে শুধু চুপ-চাপ শুয়ে থাকা...আর ভাবতে থাকা...। রোদটা যখন একটু থিতিয়ে আসে, মাঝে মাঝে কা-কা শব্দ, আর খুব মাঝে মাঝে দু’একটা ফেরীওয়ালার ডাক- আমার শুধু ভাল লাগতে থাকে। ছোটবেলায় এই দুপুরগুলোতে বসে বসে ক্লাশের হোম-ওয়ার্ক করতাম। মা শুয়ে থাকত, পাশে বসে আমার পড়াশুনা চলত। দুপুরে ঘুমানোর অভ্যাস আগে ছিলইনা বলতে গেলে, এখন ছুটি-ছাটা থাকলে মাঝে মাঝে ঘুমিয়ে পড়ি। এই ভাল লাগা দুপুরগুলোতে ঘুমিয়ে গেলেই খালি আফসোস হয়- “আহা, সময়টা নষ্ট হল” । আর বিকেলগুলো? ছেলেবেলায় তো সারাক্ষন মুখিয়ে থাকতাম বিকেলের জন্য। কখন বিকেল হবে, খেলতে যাব। আর বড়বেলায় বিকেলগুলোয় কিছু করার নেই। গান শুনি। ওহো বলাই হয়নি। গান শুনতে খুব ভাল লাগে আমার। স্লো মিউজিক পছন্দ করি সবসময়। ধুম-ধাড়াক্কা গান একটু শুনলেই মাথা ধরে যায়। তাই বলে শুধু রবিবাবুর গান শুনি তা কিন্তু না! ধিমে তালের যে কোন গানই ভাল লাগে। তবে আজকাল নতুন কিছু রিমিক্স বের হচ্ছে যে মাঝে মাঝে ওগুলোও শুনছি। যে যাই বলুক, আমার মনে হয় আমাদের মিউজিকের মান অনেক ভাল হচ্ছে ইদানিং। আগে রাস্তায় বের হলেই যেখানে হিন্দী সিনেমার গান শোনা যেত চারদিকে, এখন তা বেশ কমে গেছে। সে জায়গায় সবাই শুনছে টুটুল, হাবীব, তাহসান বা আমাদেরি অন্য কারো গান।

আর রাতগুলোতে শুধু অপেক্ষা করি কখন পরের দিন আসবে। নতুন একটা দিন। পুরনো সব কাজ। পুরনো সব অভ্যাস।

Wednesday, October 24, 2007

দ্বিতীয় সত্ত্বা

কয়দিন থেকে ভাবছি ব্লগ লেখার স্টাইলটা পালটে ফেলব। মাঝে মাঝে চিঠি লেখার মত করে ব্লগ লিখলে কেমন হয়? আমি এমন একজনকে কল্পনা করে লিখতে থাকব যাকে আমি খুব চিনি, খুব জানি। আমার সব অপূর্ণতা যাকে দিয়ে পূর্ণ হয়। আমার যা নেই সবই তার আছে, আমি যা না- সে তাই। হুম, এমনি করে লিখতে পারলে মন্দ হতনা। কিন্তু লেখার সম্বোধনটা যে কি হবে তা-ই ভাবছি। কি বলে ডাকব তাকে? নাম-না-জানা? অচেনা বন্ধু? কিন্তু আমি তো এমন কাউকে লিখতে চাই যে হবে আমার ভীষণ চেনা! তাহলে তো এমন নাম মানায়না! তবে? কোন রাশভারী নাম দিতে ইচ্ছা করছেনা, আবার খুব হাল্কা কোন নামও তাকে মানায়না।
হুম। ভাবছি।
...
...
...
ছোটবেলায়। স্কুলের এক স্যার আমাকে ডাকতেন লাবন্য বলে। তার কিছুদিন আগে ‘শেষের কবিতা’ পড়েছি মাত্র। লাবন্য আমার কোন প্রিয় চরিত্র না, অমিত-লাবন্যের অতসব কঠিন কঠিন কথা বোঝার বয়সও হয়নি তখন। স্যার আমাকে লাবন্য ডাকলে কেন যেন সেই লাবন্যের কথা মনে হত। এটা সে সময়ের কথা যখন স্কুলের টিচারদের সাথে খুব সহজ সম্পর্ক ছিলনা আমাদের, তখন তাদেরকে ভয়ই করতাম বেশী। তবু সাহস করে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম,” স্যার, আপনি তো আমার নাম জানেনই, তাহলে লাবন্য ডাকেন কেন?” উনি হেসে বলেছিলেন,” কেন, তোর নামটা পছন্দ না বুঝি? যা, আর ডাকবো না!” বললে কি হবে? যথারীতি উনি আমাকে পুরো স্কুলজীবনে লাবন্যই ডেকে গেছেন। আরেকদিন বলেছিলেন,” তোর নামটা মনে থাকেনা, বরং তোকে দেখলে এ নামটাই মনে আসে কেন জানি।” এরপর আর কখনো নাম নিয়ে আপত্তি করিনি আমি। বেশ কয়বছর পরে স্যারের সাথে দেখা হলে স্যার যখন ‘লাবন্য!’ বলে ডেকে উঠেছিলেন কেন যেন খুব ভাল লেগেছিল!

তাহলে কি দাঁড়াল?
চিঠির সম্বোধন তাহলে লাবন্য-ই হবে?
হোক তবে।
অন্তত নতুন কিছু মাথায় না আসা পর্যন্ত এ নামটাই থাক।

লাবন্য আমার দ্বিতীয় সত্ত্বা। আমি যা না, লাবন্য তা-ই।
আমি যখন ভরা বর্ষা, লাবন্য তখন শরতের রোদ।
আমি যখন রোদেলা দুপুর, লাবন্য তখন ঝিরঝিরে বিকেল।

Thursday, October 18, 2007

একজন বিপ্লবী - চে গুয়েভারা

I believe in the armed struggle as the only solution for those people who fight to free themselves, and I am consistent with my beliefs.

Many will call me an adventurer- and that I am, only one of a different sort: one of those who risks his skin to prove his platitudes.

- চে গুয়েভারা

কয়দিন ধরে মাথায় চে গুয়েভারা-র কথা ঘুরছে। সেদিন এক বন্ধুর বাসায় উনার ছবি দেখার পর থেকে মাথা থেকে তাড়াতে পারছিনা। আমি সবসময় চে-র একটা ছবিই দেখেছি। টি-শার্টের গায়ে যেটা থাকে সবসময়, বন্ধুর বাসায় আরো কিছু ছবি দেখে সুপুরুষ এই মহান মানুষটাকে নিয়ে কৌতুহল বেড়ে গেল হঠাৎ। বাসায় এসে Encarta খুলে বসলাম। উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী পড়লাম। ছোটবেলায় এ মানুষটার নাম শুনলেই কেন জানি মনে হত বুঝি চেকশ্লোভাকিয়ার কেউ হবে, বড় হয়ে জেনেছিলাম উনি আর্জেন্টাইন। সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন অবহেলিত মানুষদের মুক্তির জন্যে।

পুরো নাম আর্নেস্ট গুয়েভারা। ল্যাটিন অ্যামেরিকান এই গেরিলা নেতা বিশ্বাস করতেন বিপ্লব ছাড়া ল্যাটিন অ্যামেরিকার সামাজিক বৈষম্যদূরিকরণ অসম্ভব। কিউবান বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বিপ্লবে সাহায্যের জন্য এবং জনসমর্থন বাড়ানোর জন্যে ম্যাক্সিকো আসলে তার সাথে দেখা হয়ে যায় চে-র।একই আদর্শে বিশ্বাসী দু’জন সেই থেকে একই পথযাত্রী। বিপ্লব, বিদ্রোহ। কিউবাতে ক্যাস্ট্রোর গেরিলা যুদ্ধে তার বিশেষ অবদানের কারণে ক্যাস্ট্রো ক্ষমতায় গেলে চে- কিউবার শিল্প মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। চে বিশ্বাস করতেন, তৃতীয় বিশ্বের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন আসতে পারে কৃষকদের বিদ্রোহে। এ বিশ্বাসে ১৯৬৫ সালে কিউবা থেকে হঠাৎ চলে যান বলিভিয়ায়। সেখানে কৃষক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিতে। কিন্তু দুর্ভাগ্য। ১৯৬৭ সালে এক ব্যর্থ মিশনে, ব্যর্থ অপারেশনে মারা পরেন তাঁর সহযোগী বেশ কিছু যোদ্ধা সহ।

প্রায় ত্রিশ বছর পরে অবসরপ্রাপ্ত এক বলিভিয়ান সেনা অফিসার খোঁজ জানান চে-র শেষ সমাধির। আট-দশজন সাধারণ মানুষের মত তাঁকে সমাহিত করা হয়েছিল বলিভিয়ার এক গ্রামে। একি সাথে সমাহিত হয়েছিল তাঁর আরো তিন সহযোদ্ধা। অবশেষে অনেক পরীক্ষা- নিরিক্ষার পর চে-র লাশ সনাক্ত করা হয়।অনেক পরীক্ষা- নিরিক্ষার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উদ্ধার করা লাশটির ব্যাপারে আরো বেশী নিশ্চিত হতে পেরেছিলেন মৃতদেহের দু’টো হাতই কাটা দেখে। বলিভিয়া সরকার চে-গুয়েভারার মৃত্যুর পর প্রমাণস্বরুপ তাঁর হাত দু’টো কেটে কিউবায় পাঠিয়ে দেয়। যদিও অনেকে এখনও বলেন এটা স্রেফ একটা প্রপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয়। অনেকেই এখনো বিশ্বাস করেন না লাশটি চে-র ছিল বলে।

অবশেষে ত্রিশ বছর পরে এ বিপ্লবী নেতা ফিরে আসেন তাঁর প্রিয় কিউবাতে। তাঁকে সমাহিত করা হয় সান্তা ক্লারায়, যেখানে তিনি বিদ্রোহ পরিচালনা করেছিলেন প্রাক্তন কিউবান শাসক বাতিস্তার বিরুদ্ধে। সমাহিত করা হয়েছিল তাঁর ত্রিশতম মৃত্যুবার্ষিকিতে।

বি. দ্রঃ খুব সংক্ষিপ্ত জীবনী পড়েছি আমি চে-গুয়েভারার। এর মাঝে কোন ভুল তথ্য যদি দিয়ে থাকি তাহলে আমি বিশেষভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।

Tuesday, October 9, 2007

ওপেন্টি বাইস্কোপ, নাইন টেন টেস্কোপ!

অনেকদিন অসহ্য গরমের পর কাল থেকে বৃষ্টি শুরু হল। কি যে শান্তি। এ দুইদিন টানা বৃষ্টি হচ্ছে।সেই সাথে উপরি পাওয়া হিসেবে পাচ্ছি বৃষ্টির সোঁদা গন্ধ। মাতাল করে দেয়া এ গন্ধটা যে আমার কি ভীষণ প্রিয়! খুব ভাল লাগছে, ছেলেমানুষি ভাল লাগা। বাসার সামনে মনে হয় আজকে পানি জমে গেছে, নিচে নেমে দেখা হয়নি। মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে ধেই ধেই করে নাচতে ইচ্ছে হয় না?আজ আমার তেমনি নাচতে ইচ্ছে হচ্ছে। ছাদে উঠতে পারলে হত। কয়পাক নেচেই ছাড়তাম।

এবার বর্ষাতেও তেমন বৃষ্টি হয়নি। আবহাওয়াটাই কেমন যেন হয়ে গেছে আজকাল। সারা বছর শুধু গরম আর গরম। বর্ষাকালে বৃষ্টি নেই, এমনকি শীতকালে শীতটাও ঠিকমত পড়েনা। মনে আছে, ছোটবেলায় স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে দাদুবাড়ী আর নানুবাড়ী বেড়াতে যেতাম সবাই মিলে। ছোটবেলা থেকেই আমার ঠান্ডার ধাতটা একটু বেশিই । গরম কাপড়ের উপর আরো গরম কাপড় চড়িয়ে দিত মা। গলায় থাকত নানুর বোনা উলের মাফলার, তাও ছিল আবার বেশ ফ্যাশনেবল।মাথায় উলের টুপি, আর পায়ে মোজা তো বাধ্যতামুলক। এত্ত এত্ত শীতের কাপড় পরে সকালে উঠোনে বসে থাকতাম।ধান ভানা দেখতাম। দাদু বাড়িতে আমাদের চারপাশে তেমন কোন বাড়ি ছিলনা, সবচেয়ে কাছের বাড়িটাও ছিল বেশ দূরে। আমরা ছোটরা মিলে ইচ্ছেমত দস্যিপনা করতাম। আর ঢাকা থেকে এসেছি বলে বাড়তি খাতির তো থাকতোই। মায়ের উপর রাগ হত আমাকে এত্ত এত্ত ভারী কাপড় পরিয়ে রাখতো বলে। এগুলো পরে সবার মত ছুটোছুটি করতে পারতাম না যে, তাই মায়ের চোখের আড়ালে গিয়েই চটপট খুলে ফেলতাম টুপি, মাফলার, আর মোজা। ইচ্ছেমত লাফালাফি করে যখন ওগুলো হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরতাম, আর মায়ের সামনে গিয়ে পড়তাম- কি যে বকুনি খেতে হত! ইস, কতদিন তেমন মজা করা হয়না...

আর নানুবাড়ি গিয়ে নানুর কাছে আর কিছু খাবার আবদার না করলেও সকালে খোলাজালি পিঠা (রুটির মত এক ধরনের পিঠা ) খাওয়ার আবদার করতে ছাড়তামনা। সেই সকালগুলোতে নারিকেল-গুড় দিয়ে পিঠা খাওয়ার স্মৃতি - নাহ, ভোলার নয়। খেজুরের রস খেতে চাইতাম না বলে নানুর সেই যে কত কসরত আমাকে রস খাওয়ানোর জন্যে! বড়বেলায় একবার নানুবাড়ি গিয়ে খেয়ে এসেছিলাম ফেনা ওঠা সেই রস - ওহ, অসাধারণ। আগে খাইনি বলে খুব আফসোস করেছিলাম।

ঢাকায় ছোটবেলার তেমন কোন শীতের স্মৃতি নেই বললেই চলে। ওহো মনে পড়েছে। পরীক্ষা শেষে দাদুবাড়ি যাওয়ার আগে কিছুদিন তো ঢাকায় থাকতাম। তখন প্রতিদিন রাতের বেলা সব বন্ধুরা মিলে খেলতে বের হতাম। রাতের বেলা টিলেস-পিলেস ( হা হা, বড় হবার পর ঠিক নামটা শিখেছি। কিন্তুআমাদের কাছে সবসময় খেলাটা টিলেস-পিলেস ই থাকবে! ) খেলতাম । সবার সাথে সবাই সোয়েটার পাল্টা-পাল্টি করে নিতাম যেন চোর আমাদেরকে এক ঝলক দেখে চিনতে না পারে।একেত রাতের বেলা, তার ওপর সোয়েটার ও পালটানো - আহারে, চোর বেচারার জন্যে এখন মায়াই লাগে। যে চোর হত সেদিন সারা খেলায় তাকে চোর হয়েই থাকতে হত।

বৃষ্টির কথা লিখতে গিয়ে কি যে সব হাবিজাবি ছোটবেলার কথা লিখতে শুরু করলাম। নস্টালজিয়া পেয়ে বসেছে হঠাৎ।

ছোটবেলা থেকেই ঠান্ডার ধাতটা বেশী ছিল বলে বৃষ্টিতে তেমন একটা ভেজা হতনা। আবার একদমই যে ভেজা হতনা তাও না কিন্তু। ঝুম বৃষ্টিতে ঘর থেকে বন্ধুরা বের হয়ে গেলে মাকে খুব করে ধরতাম একটু বাইরে যেতে দেয়ার অনুমতির জন্যে। খুব করে বলার পরেও যদি রাজি না হত তখন শেষ অস্ত্র হিসেবে করুনমুখে বলতাম - “ মা, বৃষ্টিতে না ভিজলে যে আমার ঘামাচির যন্ত্রণাটা বেড়ে যায়!” আর যায় কোথায়? মাও রাজি হয়ে যেত। কিন্তু শুধু অল্প সময়ের জন্য ভিজতে অনুমতি মিলত। তাতেই সই আমার। একবার বের হতে পারলে আর ঘরে কে ফেরে সময়মত? বেশী দেরী করে ফেললে প্রতিবারই সেই একই অজুহাত- “ বাইরে বৃষ্টির তোড় কমে গিয়েছিল যে! সারা গায়ে পানি লাগাতে হবেনা?” হায়রে ছেলেবেলা। হায়রে দস্যিপনা।

আর বড়বেলার কথা বলতে গেলে দুটো ঘটনার কথা না বললেই চলেনা। এক ছিল ইউনিভার্সিটিতে নতুন ভর্তি হবার পর ডিপার্টমেন্টের ছাদে বৃষ্টিতে ভেজা, আরেকদিন চারুকলায় - পৃথিবী তোলপাড় করা বৃষ্টি নেমেছিল সেদিন। আর এখন তো মাঝে মাঝেই বৃষ্টির মাঝে ছাতা নিয়ে বন্ধুদের সাথে ডিপার্টমেন্ট থেকে বের হয়ে চা খাওয়া নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জীবনটা আসলেই সুন্দর।
আহা....

Monday, October 8, 2007

ভালবাসা শুনেছি যা...

কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে। কি নিয়ে লেখা যায় ভাবছি। কি নিয়ে লিখি? কি নিয়ে লিখি?
একটা গান শুনছি। নিখাদ ভালবাসার গান। ভালবাসা নিয়ে কিছু লেখা যায় কি না ভাবছি।
আচ্ছা, যাই হোক - মাথায় যা আসছে তা- নিয়েই লিখি।

“ আমি জোছনা হব,
জোছনা হব,
ভরা জোছনার এ রাতে”

-ফাহমিদা নবীর গাওয়া গান। শুনতে ভাল লাগছে।

ভালবাসা কি? যুগ যুগ ধরে মানুষ ভালবেসে আসছে, এরপরও এ প্রশ্ন আসলেই অবান্তর। মানুষ কেন ভালবাসে? সহজ উত্তর- ভালবাসতে ইচ্ছে করে, তাই বাসে! আর আমি কি ভাবছি ভালবাসা নিয়ে? হুমমম, বলি। এ অনুভূতিটা আসলেই চমৎকার। বুক ভরে যায়- এত চমৎকার। একজন মানুষ, একজন পুরো মানুষ - পুরোপুরিই আমার। কারো হাসি, কান্না, ভাললাগা সবকিছুই শুধু আমাকে ঘিরেই আবর্তিত- এই অনুভুতিটা আসলে ভাষায় বর্ণনা করার মত না। ভালবাসি- শুধু ছোট্ট এ কথাটাই মনের মাঝে কি দারুন সুখ এনে দিতে পারে, আর দিতে পারে শক্তি। ভালবাসার শক্তি।
ভালবাসতে বাসতে কখনো কখনো নিঃস্ব হয়ে যেতে ইচ্ছে করে...

ভালবাসি।
ভালবাসি।
ভালবাসি।

Sunday, October 7, 2007

বিবর্ণ হতাশা...

দুই মাস ধরে ইউনিভার্সিটি বন্ধ। কথা ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কোন গন্ডগোল হবেনা, আমরা নির্বিঘ্নে অনার্স ফাইনাল দিয়ে বের হয়ে যাব। হলনা।সাড়ে চার মাসে কোর্স শেষ করার কথা, সে আশায় গুড়ে বালি। দুই মাসের ধাক্কা। কাটিয়ে উঠতে আরো দু’ মাসের বেশি লাগবে মনে হয়। মাঝে মাঝে ভাবি- এই তো বেশ, চাকরী বাকরীর চিন্তা নেই - খাচ্ছি, দাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি। আর কি চাই? আবার মাঝে মাঝে খুব টেনশন হয়। হতাশ হতাশ লাগে। বুয়েট, মেডিক্যাল - সবার ক্লাশ চলছে, শুধু আমরাই বসে আছি। বন্ধুরা অনেকে পাশ করে বেরিয়ে গেছে , আর আমরা এখনো Graduate- ই হতে পারিনি । কার দোষে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন জ্যাম থাকবে - জেনেই ভর্তি হয়েছি। কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে হতাশ হয়ে পড়ছি দিনদিন। জীবন থেকে খুব মুল্যবান কিছু সময় হারিয়ে যাচ্ছে। কিছু করার নেই। নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগে। এ অবস্থা শুধু আমার একার না, হাজার হাজার ছাত্র- ছাত্রীর। এবারের গন্ডগোলের কথা ভিন্ন। এবার না হয় সংগত কারণেই ভার্সিটি বন্ধ। এবং এক্ষেত্রে আমি পুরোপুরি ছাত্রদের সাথে একাত্ব, যদিও শেষদিকে অন্যদের হস্তক্ষেপে ব্যাপারটা অনেকটা তিক্ত হয়ে গিয়েছিল, তবু যতক্ষন ছাত্ররা আন্দোলন করেছে তাদের সাথে একাত্ব থেকেছি, কিন্তু অন্য সময়গূলোতে? ছাত্রনামধারী কিছু অছাত্রেরহাতে গোটা ইউনিভার্সিটি জিম্মি! স্বীকার করি একসময় এদেশের রাজনীতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। কিন্তু এখন তো অবস্থা সেরকম নয়! আমাদের নিজেদের দেশ, আমাদের নিজেদের সরকার। সেক্ষেত্রে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তাটা কি? শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য, এছাড়া আর কি ই বা কারণ থাকতে পারে। মুখ্যত ছাত্র রাজনীতির কারণেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন জ্যাম আছে - এ কথা কে না জানে? তবু কেন সংশ্লিষ্ট কারো টনক নড়েনা? তাদের ছেলেমেয়েরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ণ করছেনা বলে? একেকজন ছাত্র নেতা কত বছর তার ছাত্রত্ব ধরে রাখে তার একটা জরীপ চালালে মন্দ হতনা। শুধু নিজেদের ছাত্রত্ব বজায় রাখার জন্য হাজার হাজার ছাত্রের জীবন নিয়ে জুয়া খেলা চলছে দিব্যি। যে ছেলেটার উপর তার পুরো পরিবার ভরসা করে আছে যে সে পাশ করে কোন চাকরীতে প্রবেশ করলে কৃষক বাবা বিশ্রাম পাবে- সেই ছেলেটার জীবন থেকে এই সময়গুলো কেড়ে নেবার অধিকার আমাদের রাজনীতিবিদদের কে দিয়েছে?

এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরই প্রথমদিককার সময়ে শুনেছিলাম আইন করে বন্ধ করে দেয়া হবে ছাত্র- রাজনীতি। খুশী হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আমাদের ছাত্র জীবনে না হলেও হয়ত ছোট বোনটার ছাত্রজীবনে হয়ত এর সুফল দেখতে পাব। কিন্তুবিধি বাম, এর কোন বাস্তব প্রয়োগএখন পর্যন্ত দেখছিনা।

যদি ফের জন্ম নিতাম

গত হপ্তায়। এক বন্ধুহঠাৎ জিজ্ঞেস করল, “ আচ্ছা, তোমাকে যদি একটা সুযোগ দেয়া হয় অন্য কোন সময়ে জন্ম নেবার, কোন সময়টা বেছে নেবে?” চিন্তায় পড়ে গেলাম। ভাবছি। তাই তো? কোন সময়ে জন্ম নিতাম?

গত কয়দিন সুনীলের “ সেই সময়" পড়লাম। এত ভাল একটা বই, অথচ আগে পড়া হয়নি। অনেকদিন পরে এত ভাললাগা নিয়ে কোন বই শেষ করলাম। ধন্যবাদ সুনীলকে। সেই সময়কার সমাজটাকে এত চমৎকার করে তুলে ধরেছে সুনীল, এক কথায় অসাধারন। যাই হোক, সেই সময়-- এর কথা কেন তুল্লাম বলি। বন্ধুর সাথে সেদিন আসলে এই বইটা নিয়েই কথা হচ্ছিল। এই বইটা মানে সেই সময়টা। তখনকার বিধবাদের কথা - বিশেষ করে বালবিধবাদের কথা পড়ে খারাপ লেগেছে ভীষণ। আগেও পড়েছি, কিন্তু এভাবে উপলব্ধি করতে পারিনি । সাম্প্রতিককালে ইন্ডিয়াতে বিধবাদেরকে নিয়ে একটা মুভি হয়েছে “ওয়াটার” । দারুন একটা মুভি। সে সময়কার বিধবাদের আরেকটা করুন চিত্র পাওয়া যায় এখানে। একটা উক্তি বলি এখানে। বই থেকেই ধার করা। “ হিন্দু বিধবাদের আত্মত্যাগেই হিন্দু ধর্ম টিকে আছে” - কি মর্মান্তিক উক্তি! যে নিদারুন আত্মত্যাগ বিধবাদের করতে হত তাতে এ উক্তি কোন বিধবার নিজের মুখ নিঃসৃত হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই, বরং যথার্থইউক্তিটি নিঃসৃত হয়েছিল কোন পুরুষের মুখ থেকেই। আরেকটা ব্যাপার পড়ে খারাপ লাগল খুব তা হল বিধবাদেরকে কাশী বা বেনারস পাঠিয়ে দেবার পর তাদের পরিবারের সদস্যরা অনেকটা যেন দায়িত্বমুক্ত হয়ে যেত। খবরাখবর নেয়ার কোন তাড়া দেখা যেতনা কারো মাঝে, এমনকি যে বিধবাদের কাউকে মন দেয়া - হোক না যতই গোপনে- নিষিদ্ধ ছিল, এমনকি ভয়ানক পাপ বলে বিবেচিত হত- তারাই কাশী গিয়ে কোন বাবুর রক্ষিতা হয়ে গেলেও কারো কোন মাথাব্যাথা ছিলনা! এইটুকু এইটুকু মেয়েরা যারা কিনা পৃথিবীকে বুঝে ওঠার আগেই বিধবা হয়ে যেত তাদের জন্য পৃথিবীর সব আনন্দ নিষিদ্ধ করে দেয়া হত! কি ভয়ানক অমানুষিক ব্যাপার। অন্যদিকে সে সমাজে পুরুষদের কথাই চিন্তা করা যাক।অকালবৃদ্ধ কি না কুমারী উদ্ধারের নামে ৮ বছরের বালিকাকে বিয়ে করতে পারত। তাদের ক্ষেত্রে কোন বাধা তো দুরের কথা, সবাই বরং বাহবা দিত এই উদ্ধার কার্যের কারনে। আর তাদের জন্য তো ২-৪ টা বাধা মেয়েমানুষ রাখা কোন ব্যাপারই ছিলনা, বরং না রাখাটাই মানহানিকর বলে মনে করত অনেকে। আচ্ছা, এ ভয়ানক প্রথাগুলো কারা চালু করেছিল? তাদের কারো কি ঘরে মেয়ে ছিলনা? কেউ প্রাণে ধরে নিজের মেয়েদের সর্বনাশ করতে পারে? হিন্দু ধর্ম নিয়ে আমার কোন বিরোধিতা নেই, তবে সে সময়কার প্রথাগুলো আমাকে অবাক করে শুধু... নাহ, যদিও সে সময়ে সমাজ সংস্কারের অনেক কাজ হয়েছে, একই সাথে শিল্প- সাহিত্য অনেক ক্ষেত্রেই প্রভূত উন্নতি হয়েছিল, আমি তবু সেই কলংকিত সমাজে জন্ম নিতে চাই না।

আমি যুদ্ধের মাঝেও জন্ম নিতে চাই না। আমরা কি ভাগ্যবান, যারা যুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন দেশে জন্ম নিয়েছি! একটা যুদ্ধ, আমি ভাবতেও পারি না। আমাকে ভীরু, কাপুরুষ যাই বলনা কেন....

তাহলে কবে জন্ম নিতাম?
ভাবছি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী অবস্থা নিয়ে বেশ অনেক লেখা পড়েছি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত জার্মানী বা রাশিয়া। কেমন টালমাটাল হয়ে পড়েছিল ওদের সব। যুদ্ধটুকু বাদ দিয়ে শুধু পরের অবস্থাটা দেখার জন্য একবার সে সময়টায় জন্ম নেয়া যেতে পারে! নাহ, জন্ম না, একবার ঘুরে আসা যায় বরং।

যাদুঘরে সেবার একটা কোরিয়ান মুভি দেখেছিলাম। নাম মনে নেই। দেখেছিলাম, ওরা গ্রামে যারা থাকে অনেকের মধ্যে এখনো গোষ্ঠীবদ্ধভাবে থাকার প্রবণতা দেখা যায়। গ্রামের সব ছেলেরা একসাথে ক্ষেতে কাজ করে, মেয়েরা একসাথেই সবাই মাঠে গিয়ে তাদের খাবার দিয়ে আসে। আর মৌসুম শেষে সব ফসল একসাথে তুলে রাখা হয়। সেখান থেকে গোষ্ঠীপতি সবার প্রয়োজন অনুযায়ী বিলি-বন্টণ করেন।সমাজতান্ত্রিক ব্যাবস্থা অনেকটা। কারো ব্যাক্তিগত ফসল নয়, ফসল সবার। ভাল লেগেছিল খুব। কাজ শেষে সবাই রাতে একসাথে বসে হৈ-হুল্লোড়, গান-বাজনা করছে। সব একসাথে। এমন একটা সমাজে জন্মাতে ইচ্ছে হয় মাঝে মাঝে।

আবার মাঝে মাঝে মনে হয় স্কটল্যান্ডের কোন গ্রামের মেয়ে হতাম যদি। উহু, স্কটল্যান্ডের কোন গ্রাম দেখিনি আমি। কিন্তু কল্পনায় দেখি। আমার ভাল লাগে.....

কিন্তু এগুলো তো নির্দিষ্ট কোন সময়ে জন্মাবার কথা হল না। তাহলে?

হুমম...ভাবছি...

Saturday, October 6, 2007

অনাধুনিক আমি

কয়দিন থেকে মাথায় একটা কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। আজকাল কি অশ্লীলতার আরেক নাম স্মার্টনেস? কালকে ছোট বোনটার সাথে বেশ জমিয়ে আলোচনা করছিলাম ব্যাপারটা নিয়ে। প্রশ্নটা মাথায় হঠাৎ কেন আসলো বলি। ঈদে কোন কোন চ্যানেলে কি কি প্রোগ্রাম দেখাবে তার বিজ্ঞাপন প্রচার করা শুরু হয়ে গেছে। তো গতকাল কোন এক চ্যানেলে যেন দেখলাম একটা টেলিফিল্ম দেখানো হবে - “ চলনা বৃষ্টিতে ভিজি “ । যাই হোক, বিজ্ঞাপনটা দেখলাম। এবারের লাক্স- চ্যানেল আই সুপারস্টারদের কেউ কেউ আছে মনে হ্ল। পুরো টেলিফিল্মটা কি হবে এখনো জানিনা, তবে বিজ্ঞাপণ দেখে কিছুটা অবাকই হলাম। প্রথম যে কথাটা মনে হল, সিনেমা হলটা মনে হয় ড্রয়িং রুমে চলে এসেছে আজকাল। তবে ঢালাও ভাবে সব সিনেমার দোষ দিইনা, আজকাল বেশ ভাল ভাল সিনেমাও হচ্ছে। লাক্স- চ্যানেল আই সুপারস্টার খোঁজার প্রয়াসটা ভালই। গুনী অভিনেত্রী খুঁজে বের করার চেষ্টা। গতবারের প্রোগ্রামটা বেশ অনেকখানি দেখেছিলাম, খারাপ লাগেনি। এবার দেখা হয়নি। তেমন একটা সময়ও পাইনি, আর যা ও দু’একবার দেখতে বসেছি মাথায় রক্ত উঠে গিয়েছিল। অভিনেত্রী খোঁজার নামে কি শুরু হল? বেসিক্যালি এই প্রোগ্রামটাসুন্দরী প্রতিযোগীতারইএকটা পরিশীলিত নাম বলে মনে হয় আমার। তবু সেবার মনে হয়েছিল নির্লজ্জভাবে শুধু সুন্দরী না খুঁজে একটুখানি গুনেরও কদর করছে হয়ত। কিন্তু এবার মনে হল পুরো ব্যাপারটাই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেছে। আমি জানিনা যাদেরকে খুঁজে পেয়েছে তারা কতটুকু অভিনয় জানে, কিন্তু তারা যে বাড়াবাড়ি রকমের খোলামেলা সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ নেই। মাঝে টুকটাক যে দুটো-- চারটে পর্ব দেখেছি তাতে তেমনি মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর টেলিফিল্মের বিজ্ঞাপন দেখে ধারণাটা আরেকটু বদ্ধমুল হল আর কি! এখন তো মনে হচ্ছে এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেখতে ভাল আর চলনসই অভিনয় জানা কিছু মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে যাদেরকে খুশীমত ব্যবহার করা যাচ্ছে। হতে পারে আমি নিজে নতুন কিছু গ্রহণ করতে পারছিনা, কিন্তু একটা ব্যাপার আমি নিশ্চিত যে আমার সাথে একমত হবার মত মানুষের অভাব হবেনা। কারনটা বলি। আমার মনে হয় জাতিগতভাবে আমরা বাংলাদেশিরা এখনো ততটা উচ্ছৃংখল হয়ে যাইনি যে যা ইচ্ছা তাই মিডিয়াতে শো করা হবে, আর আমরাও মন থেকে মেনে নেব। বাংলাদেশের কয়জন মেয়ে বা আরো সহজভাবে বললে কত শতাংশ মেয়ে ইউরোপীয় ধাঁচের পোশাক পরে রাস্তায় বের হয়? আমাদের নাট্য-পরিচালকরা তো এটুকু অন্তত মাথায় রেখে নাটকের পোশাক নির্বাচন করতে পারেন। আরেকটা কথা বলতে চাই। তা হল, কাহিনী বিন্যাসের ক্ষেত্রে কি আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোকে তুলে আনা যায়না? আর যা ও তুলে আনা হয়, সেক্ষেত্রে কি মধ্যবিত্ত জীবনধারাটাই ফুটিয়ে তোলা যায়না? তাহলে মনে হয় আমাদের নাটকগুলো আরো অনেক বেশী দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করতে পারত।

একটা মুভি

আজকে একটা মুভি দেখলাম। জুলিয়া রবার্টসের। “ স্টেপ মম"। ইংলিশ মুভি খুব বেশি দেখা হয়না আমার। টুকিটাকি যা দেখি তার মাঝে জুলিয়া রবার্টসকে ভাল লাগে। আর সত্যি বলতে, আমি ওদের সায়িন্টিফিক মুভিগুলো খুব ভাল বুঝিনা। আর অ্যাকশন মুভিতো আরো বেশি হাবিজাবি মনে হয়। এর চেয়ে হাল্কা রোমান্টিক মুভিগুলো আর ফ্যামিলি মুভিগুলোই ভাল মনে হয়।যেমন আজকের মুভিটা ভাল লেগেছে আমার।

আসলে আমরা বড়রা বাচ্চাদের সাইকোলজিটা বুঝতে চেষ্টা করিনা। আমরা ভাবি যা আমরা ভাল মনে করছি তাই বুঝি ওদের জন্যে ভাল হবে। যেমন মুভিটা ছিল এই নিয়ে যে, স্বামী- স্ত্রীর মাঝে মনের মিল না হলে দুম করে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাচ্ছে। একবারও কি ওরা ভাবছে এতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হচ্ছে কাদের? অবশ্যই তাদের সন্তানদের! এটা ঠিক যে যখন দুজনের মনের মিল হচ্ছেনা, বরং অশান্তিটাই বেশী হচ্ছে সেক্ষেত্রে সংসার হয়ত টিকিয়ে রাখার কোন মানে হয়না, কিন্তু আরেকবার চেষ্টা করা যায়না? নাহ, এ কথাটাও মনে হয় সবার বেলায় খাটেনা। কেউ কেউ হয়ত সত্যি- ই চায় সংসারটা টিকিয়ে রাখতে, হয়ত শেষমেষ বাধ্য হয়েই সংসার ভাঙ্গে। বাবা হয়ত বাচ্চাদের সুবিধার জন্য বা নিজেরো কিঞ্চিত সুবিধার জন্য আবার বিয়ে করছে, কিন্তু বাচ্চারা তাদের নতুন মা-কে কতটা স্বাভাবিকভাবে গ্রহন করছে? বা নতুন মা-ই বা কতটা প্রান দিয়ে তাদেরকে ভালবাসতে পারছে?

মুভিটা ভাল...