দুই মাস ধরে ইউনিভার্সিটি বন্ধ। কথা ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কোন গন্ডগোল হবেনা, আমরা নির্বিঘ্নে অনার্স ফাইনাল দিয়ে বের হয়ে যাব। হলনা।সাড়ে চার মাসে কোর্স শেষ করার কথা, সে আশায় গুড়ে বালি। দুই মাসের ধাক্কা। কাটিয়ে উঠতে আরো দু’ মাসের বেশি লাগবে মনে হয়। মাঝে মাঝে ভাবি- এই তো বেশ, চাকরী বাকরীর চিন্তা নেই - খাচ্ছি, দাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি। আর কি চাই? আবার মাঝে মাঝে খুব টেনশন হয়। হতাশ হতাশ লাগে। বুয়েট, মেডিক্যাল - সবার ক্লাশ চলছে, শুধু আমরাই বসে আছি। বন্ধুরা অনেকে পাশ করে বেরিয়ে গেছে , আর আমরা এখনো Graduate- ই হতে পারিনি । কার দোষে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন জ্যাম থাকবে - জেনেই ভর্তি হয়েছি। কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে হতাশ হয়ে পড়ছি দিনদিন। জীবন থেকে খুব মুল্যবান কিছু সময় হারিয়ে যাচ্ছে। কিছু করার নেই। নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগে। এ অবস্থা শুধু আমার একার না, হাজার হাজার ছাত্র- ছাত্রীর। এবারের গন্ডগোলের কথা ভিন্ন। এবার না হয় সংগত কারণেই ভার্সিটি বন্ধ। এবং এক্ষেত্রে আমি পুরোপুরি ছাত্রদের সাথে একাত্ব, যদিও শেষদিকে অন্যদের হস্তক্ষেপে ব্যাপারটা অনেকটা তিক্ত হয়ে গিয়েছিল, তবু যতক্ষন ছাত্ররা আন্দোলন করেছে তাদের সাথে একাত্ব থেকেছি, কিন্তু অন্য সময়গূলোতে? ছাত্রনামধারী কিছু অছাত্রেরহাতে গোটা ইউনিভার্সিটি জিম্মি! স্বীকার করি একসময় এদেশের রাজনীতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। কিন্তু এখন তো অবস্থা সেরকম নয়! আমাদের নিজেদের দেশ, আমাদের নিজেদের সরকার। সেক্ষেত্রে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তাটা কি? শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য, এছাড়া আর কি ই বা কারণ থাকতে পারে। মুখ্যত ছাত্র রাজনীতির কারণেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন জ্যাম আছে - এ কথা কে না জানে? তবু কেন সংশ্লিষ্ট কারো টনক নড়েনা? তাদের ছেলেমেয়েরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ণ করছেনা বলে? একেকজন ছাত্র নেতা কত বছর তার ছাত্রত্ব ধরে রাখে তার একটা জরীপ চালালে মন্দ হতনা। শুধু নিজেদের ছাত্রত্ব বজায় রাখার জন্য হাজার হাজার ছাত্রের জীবন নিয়ে জুয়া খেলা চলছে দিব্যি। যে ছেলেটার উপর তার পুরো পরিবার ভরসা করে আছে যে সে পাশ করে কোন চাকরীতে প্রবেশ করলে কৃষক বাবা বিশ্রাম পাবে- সেই ছেলেটার জীবন থেকে এই সময়গুলো কেড়ে নেবার অধিকার আমাদের রাজনীতিবিদদের কে দিয়েছে?
এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরই প্রথমদিককার সময়ে শুনেছিলাম আইন করে বন্ধ করে দেয়া হবে ছাত্র- রাজনীতি। খুশী হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আমাদের ছাত্র জীবনে না হলেও হয়ত ছোট বোনটার ছাত্রজীবনে হয়ত এর সুফল দেখতে পাব। কিন্তুবিধি বাম, এর কোন বাস্তব প্রয়োগএখন পর্যন্ত দেখছিনা।
Sunday, October 7, 2007
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
4 comments:
এই কথাগুলো একবার সামহোয়্যারে বলেছিলাম বলে কি প্রচন্ড হ্যারাসমেন্টের শিকার হতে হয়েছিল । আমরা যারা এমন করে ভাবি , তারা বিচ্ছিন্ন ভাবনাগুলো কখনো কনসলিডেটেড হতে দিই না । অথচ যারা এই শোষণমূলক ভাবনাগুলোর উত্তরাধিকারী তাদের মাঝে কি অদ্ভূত সম্প্রীতি । তাদের আক্রমণের তোড়ে ভালো ভাবনাগুলো কোনদিনও দানা বাঁধতে পারে না
হায় আফসোস...
আমি একে বারে নতুন তাই কোন মন্তব্য করলাম না, পাছে ভুল হয়।
না ভাই, মন্তব্য করতে চাইলে পুরোন হতে হবে এমন কথা কে বলল? হুম? :)
নতুন ভাইয়ার জন্য শুভকামনা।
Post a Comment