Thursday, January 24, 2008

উত্তরের হাওয়া

নেপাল থেকে ফিরে খুব ভাব নিয়েছি কয়দিন। কোন শীতের কাপড় পরিনা। সবাই ঠান্ডায় কাঁপতে থাকে, আর আমার রুমে দিব্যি ফ্যান চলে। আজকের ঘটনা ভিন্ন। জামার উপর সোয়েটার, তার উপর চাদর। সকাল থেকেই হঠাৎ করে উত্তুরে হিমেল হাওয়া বইছে আজ। বেলা বাড়তেই শুরু হল গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। বাসায় ফেরার পথে রিক্সা নিলাম, ভাগ্যিস রিক্সার পলিথিনটা ছিল। কারণ, অনেককেই দেখলাম পলিথিন না থাকায় রিক্সার হুড তুলে তিন নাম্বার সিটে বসে পা তুলে রেখেছে বসার সিটে। ঠান্ডায় জুবুথুবু হয়ে বসে থাকা মানুষগুলোকে দেখতে যদিও খুব হাস্যকর লাগছিল, আবার মায়াও লাগছিল। ফেরার পথে ভাবছিলাম কোন পুণ্যের বদলে আজকে যদি বাসায় গিয়ে দেখি গরুর গোশত না হলেও ইলিশ মাছ ভাজি দিয়ে খিচুড়ি - আহ, বেশ জমত তাহলে। বাসায় এসে দুঃখের সাথে টের পেলাম- নাহ, খাতায় এখন পর্যন্ত কোন পুণ্য তো জমেইনি, বরং খিচুড়ি-গোশতের কথা ভাবতে ভাবতে শাক-মাছ দিয়ে ভাত খাওয়াই আমার ভবিতব্য। একটু ঠান্ডা বা বৃষ্টি হলেই তা উপভোগ করার নানা চিন্তায় ব্যস্ত হতে বেশ লাগে আমার। বর্ষায় বৃষ্টি মোটামুটি হলেও ঢাকায় আজকাল শীত বলতে গেলে তেমন পড়েইনা। বাসায় তো ভারী সোয়েটার পরার দরকারই হয়না। অনেক শীত বলতে এখন শুধু গভীর রাতে একটু ঠান্ডার প্রকোপ- তাই লেপ, আর সকালের দিকে বাইরে যাওয়ার সময় সামান্য একটু কাঁপাকাঁপি- তাই চাদর। সারাদিন আর তেমন ঠান্ডা কোথায়? ছোটবেলায় শীত বুঝতাম নানু-দাদূর বাড়ি গেলে। আজকাল যাওয়াও হয়না, তাই বোঝা ও হয়না। আজ অনেকদিন পরে ঢাকায় শীত পড়ল। অনেকের অনেক কষ্ট হচ্ছে জানি, তবু আমাদের যাদের ঠান্ডায় কোন সমস্যা নেই তারা লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়ে আজকের দিনটা ভালই কাটাব। বিছানায় বসে, লেপের নিচে, এক হাতে গল্পের বই, আরেক হাতে চায়ের কাপ- ভাবতেই ভাল লাগছে!

Monday, January 21, 2008

আনন্দ নগর

আজকাল দিনগুলো ভালই কাটছে। ভাই এসেছে বিদেশ থেকে বৌ-বাচ্চা নিয়ে। ছেলেটা একদমই ছোট, শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে হাসে; আর ভাইজিটা আধো আধো বুলিতে ইংরেজী বলে। শুনতে ভালই লাগে। বাসায় কেউ আসলে ওকে ডেকে নিয়ে সামান্য একটু গর্ব ভরে বলি “ মা, একটা ছড়া বল তো!” ও যদি মাথা নেড়ে বলে “ no, I can't ” , তাতেও মনে হয় - হে হে, উচ্চারণ শুনেছ? পারবে এমন? ভাবখানা এমন করি যেন তারা কত না দুর্ভাগা যারা ওর rhyme শুনতে পারলনা! নাহ, যত যাই কিছু বলি না কেন ওরা আসাতে সময়টা ভাল কাটছে। ট্যুর থেকে ফেরার পর মনটা যেমন সারাদিন উদাস হয়ে থাকত, এখন তা বেশ কমে গেছে। অবশ্য ওরা যতক্ষণ বাসায় থাকে ততক্ষণি। দেশে ফিরে ওদের ছাতা-মাথা এত কিসের কাজ থাকে কে জানে? সারাদিন শুধু বাইরে আর বাইরে। এরমাঝে আছে পিচ্চিগুলোর নানু বাসা। ওরা নানু বাসায় গেলে মনে হয়- ইশ দেশে এসেছে মাত্র কয়টা দিনের জন্যে, তাও এখানে বেশী সময় থাকতে পারছেনা। স্বার্থপরের মত ভাবি নানুবাসায় এত যাওয়ার দরকার কি? আমাদের বাসাটা সাধারনত একদম চুপচাপ। মাঝে মাঝে ছোট দুই বোনের ঝগড়ার আওয়াজে তাও ঘরে মনুষ্য বসবাসের আলামত টের পাওয়া যায়। আমার মা সাধারণত প্রবল দুঃখে থাকেন কেন আমরা যে যার মত শুধু নিজেকে নিয়েই থাকি? এই ঘরে নাকি তিনি কথা বলার মানুষ পান না। ভাইবোনদের অর্ধেকই এখন দেশের বাইরে থাকে। ঘরটা তাই ফাঁকাই থাকে বলতে গেলে। মাঝে মাঝে ওরা আসলে ঘরটা সরগরম হয়ে ওঠে কিছুদিনের জন্য। মায়ের অভিযোগ থেকে বাঁচি কয়টা দিন। ওরা চলে গেলে কয়দিন ভীষণ ফাঁকা ফাঁকা লাগে। আবার দিনগুলো যে-ই সে-ই হয়ে ওঠে। আবার সেই একই অভিযোগ। অন্যবার কেউ দেশে এলেই দেখা যায় আমাদের কারো না কারো কোন না কোন পরীক্ষা লেগেই থাকে। সে দিক দিয়ে এবার বেঁচে গেছি। সব্বাই ফ্রি। এদিকে আবার ছোট ভাইয়ার বিয়ে। মেয়ে খুঁজছি। মাস দু’এক ভালই আনন্দে কাটবে মনে হচ্ছে।

Sunday, January 20, 2008

একলা লাগে

অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আমাদের ডিপার্টমেন্টাল ট্যুরটা সেরে আসলাম। ২ তারিখে গিয়ে ফিরে এলাম ১২ তারিখে। ট্যুরের রেশ কাটাতে কাটাতেই এতদিন। ১০ দিনের ট্যুরকে আমরা ১৭ দিনে নিয়ে এসেছি স্মৃতি রোমন্থন করে করে। আজ যখন নিজের ঘরে একলা বসে আছি, তখন মনে পড়ে যাচ্ছে এই তো কয়দিন আগে সারাটা দিন বন্ধুদের সাথে কাটিয়েছি। এক মূহুর্ত অবসর ছিলনা চুপচাপ বসে থাকার। হৈ-হুল্লোড় আর চিৎকারেই কেটে যেত সারাদিন। কোথায় কোথায় বেড়িয়েছি তা বড় কথা নয়, সবাই মিলে একসাথে আনন্দ করেছি- এই ছিল বড় পাওয়া। চার বছর এক সাথে পড়ে ওদেরকে যত না চিনেছি, এই দশদিনে তার চেয়ে বেশী চিনেছি যেন। সবাই মিলে আন্তাকশারি খেলা, ক্যাম্প ফায়ারিং, ধুন্ধুমার নাচ - কোন ফাঁকে দিন কেটে গেছে টেরও পাইনি। ক্লাশে যার মুখ দিয়ে টু শব্দ পর্যন্ত বের হয়না, ট্যুরে গিয়ে তারি দাপাদাপি দেখে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গেছে। সব বন্ধুর চোখ একসাথে মুগ্ধ হয়েছে আকাশের সৌন্দর্য দেখে, একসাথে মৌন হয়েছে সবাই পাহাড়ের বিশালতায়। ২২ টা প্রাণের স্পন্দন এক হয়েছিল এতদিন।

আজ বড্ড একা একা লাগছে।