Saturday, October 27, 2007

দুষ্টু, কিন্তু বেশী নয়!

আমাদের এলাকাটা বেশ নিরিবিলি। পুরো এলাকার মাঝে আবার আমাদের গলিটা বেশিরকম চুপচাপ। বেলা হলে কিছু ফেরীওয়ালার ডাক আর মাঝে মাঝে কিছু গাড়ির হর্ণ। পাশের বাসার মিকি যদিও প্রথম প্রথম বেশ চিৎকার করত কাউকে চিনতনা বলে, কিন্তু ছেলেপুলেদের আওয়াজ পাওয়া যায়না বললেই চলে। আর আজকাল বাচ্চাগুলোতো ঘরের বাইরে এসে খেলাও ভুলে গেছে। করিডরে মাঝে মাঝে দু’একজনকে খেলতে দেখি। করিডরের দেয়ালে দেয়ালে কি কি সব লিখে রেখেছে। “সামিন পঁচা ছেলে” বা “পৃথা একটা আস্ত বোকা মেয়ে” ভুল বানানে এরকম কিছু প্রায়ই লিখে যায় ওরা। মাঝে মাঝে ওদের হুটোপুটিও শুনি বেশ, তবে খুব বেশী না। পড়াশুনা নিয়েই বেশী ব্যস্ত। নয়ত নাচের ক্লাশ, আঁকার ক্লাশ, ম্যাথের টিচার - আরো কত কি! সময় কোথায় হৈ-হুল্লোড় করার? খুব হঠাৎ হঠাৎ পিয়াল-পুশনরা বেড়াতে আসলে পরে বাচ্চাগুলো প্রাণ পায় আবার। মাঝে মাঝে দেখি আমার বাসায় চলে আসে।নিজেরাই পি.সি. নিয়ে বসে যায়। পিয়াল-পুশন তো সব গেমসই খেলতে পারে। সামিন ওদের সামনে পুরো ন্যাতানো। ভয় পায় মনে হয়। পৃথাটা তাও একটু ফটফট করে যেতে পারে সমান তালে, সেহরীন তো আর ছোট। ওকে সামিনই পাত্তা দেয়না, আবার পিয়াল-পুশন! সামিনের সাথে আবার আমার বেশ ঝগড়া। সামিন সব রোজা রাখতে পারেনা, আমি পারি। বা ওর হাতের লেখা বেশী সুন্দর, আমারটা তো একদমই গুটিগুটি। আমি অংক কষতেই পারিনা, আর টিচার শিখিয়ে দিলে ও চটপট সব অংক কষে ফেলে! ওর মামার চেয়ে আমি লম্বা হলে কি হবে, ও ঠিকই বড় হয়ে আমার চেয়ে লম্বা হয়ে যাবে- এইসব নিয়ে হরদম ঝগড়া চলতেই থাকে আমাদের। মাঝে মাঝে মারামারিও করি না যে তা না। ভুঁড়িতে একটা গোত্তা দিলেই ও রেগেমেগে একশেষ। যা মুখে আসে তা-ই বলে যায়! সেবার ওর সাথে সন্ধি করেছিলাম আর ঝগড়া করবনা বলে। মাঝে মাঝে মারামারি বা ঝগড়ার তুঙ্গে ওঠার পর মনে করিয়ে দিই সে কথা। ভাল ছেলে। থেমে যায়। আমার থার্ড ইয়ার ফাইনালের সময় একটা পেন্সিলও উপহার দিয়েছিল আমাকে। ওর যে অনেক পেন্সিল! তখন তখন আমাদের বেশ ভাব ছিল। চাইতেই পরেরদিন একটা নিয়ে আসল! আরেকবার একটা ‘mojo’ ও নিয়ে এসেছিল আমার জন্যে! পৃথা দারুন স্মার্ট। খুব ভাল নাচে। ওর কাজিন যে ঐশী- ও কিন্তু খুব ভাল গান করে।আরশী তো এখনো খুবই ছোট।তাই ও শুধু ছড়া বলতে পারে। আরেকটু বড় হলেই ও গান-নাচ শিখে ফেলবে।

সামনে পরীক্ষা বলে আজকাল বাচ্চাগুলোর দেখাই পাওয়া যাচ্ছেনা। পিয়াল - পুশনও মনে হয় ব্যাস্ত। আসা যাওয়ার পথে মাঝে মাঝে ওদেরকে যা ও দেখি তা ও কোন না কোন টিচারের বাসায় যাচ্ছে। মিকিও সবাইকে চেনে এখন। তাই আর চিৎকারও করেনা। সব চুপচাপ।

No comments: