Sunday, August 23, 2009

রঞ্জনা, আমি আর আসবনা...


কৈশোরবেলার প্রেম নিয়ে গাওয়া অঞ্জনের ‘রঞ্জনা’ গানটা শুনেছি আমি কিশোর সময়েই। স্কুলের গন্ডি পেরোইনি তখনো। নাইন- টেনে পড়ি। তাই সেই সময়টায় এ গানগুলোর আবেদন-ই ছিল অন্যরকম। শুনতে শুনতে কিশোরী আমি চলে যেতাম রঞ্জনাদের পাড়ায়। দুপুরের ভাত-ঘুম দিতে ঘরের সবাই যখন শুয়ে, তখন রঞ্জনাকে দেখতাম চুপি চুপি বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে সাইকেল-আরোহী কিশোর অঞ্জনের অপেক্ষায়। নিজের কিছু করার সাহস ছিলনা বলে মনে মনে অঞ্জন-রঞ্জনার ভীরু ভালবাসার কথা ভাবতে আরো বেশী ভাল লাগত যেন। আরো অনেক অনেক কিশোরীর মত রঞ্জনার জায়গায় নিজেকে ভাবতাম আমি। বালিকাবেলা থেকেই মেজভাইয়াকে একটু ভয় পেতাম বলে গানে যখন রঞ্জনার মেজদাকে নিয়ে অভিযোগ তুলত অঞ্জন, মিল খুঁজে পেয়ে খুশি হতাম। নিজের রঞ্জনাত্ব আরেকটু গাঢ় হত তখন। এভাবেই প্রথম শোনার সময়ের যে কল্পনা আর ভাল লাগা- আজো মাঝে মাঝে কখনো শুনলে সে ভাললাগাটাই ফিরে আসে যেন। কল্পনাটা বা ভাবনাগুলো হয়ত কখনো কাউকে জানানো হয়নি, তবু মনের কোনে ঘাপটি মেরে ছিল এতদিন।
আজ রেডিও শুনতে গিয়ে স্টেশন ঘুরাতেই হঠাৎ রঞ্জনা নামটা কানে আসতেই থামলাম। নতুন গান অঞ্জনের। রঞ্জনা, আমি আর আসবোনা তোমাদের পাড়ায়। রঞ্জনা এখন সারাদিন কম্পিউটার নিয়েই মেতে থাকে। দুপুরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষার সময় নেই আর তার। অভিমানি অঞ্জন যখন গঙ্গাপাড় আর গড়ের মাঠে ঘুরে বেড়ায়, রঞ্জনার দৃষ্টি থাকে মনিটরের চ্যাট স্ক্রিনে। তাই অঞ্জন আসবেনা আর ওদের পাড়ায়। অভিমান হয় আমার। এতটা বছর অপেক্ষা করেছি কবে অঞ্জন একটু সাহসী হবে, মেজদার চোখ রাঙ্গানি আর পাড়াত ভাইদের ধমক অগ্রাহ্য করতে শিখবে- কোত্থেকে কি হয়ে গেল...খেয়ালী রঞ্জনার উপর না, আমার সত্যি অভিমান হয় অঞ্জনের উপরেই। কেন বলল অমন কথা? কেন আসবেনা?? অনেক আগে যখন বলত ‘রঞ্জনা, আমি আর আসবনা’ - সেই বলার ভঙ্গিতে যেন অক্ষম আকুলতা ছিল, আর আজ যখন শুনেছি ‘রঞ্জনা, আমি আর আসবোনা তোমাদের পাড়ায়’ - এই ভঙ্গিতে যেন হতাশা। আমার ভাল লাগেনা। সত্যিই ভাল লাগেনা।
কেন গানটা এমন হল?