কয়দিন থেকে ভাবছি ব্লগ লেখার স্টাইলটা পালটে ফেলব। মাঝে মাঝে চিঠি লেখার মত করে ব্লগ লিখলে কেমন হয়? আমি এমন একজনকে কল্পনা করে লিখতে থাকব যাকে আমি খুব চিনি, খুব জানি। আমার সব অপূর্ণতা যাকে দিয়ে পূর্ণ হয়। আমার যা নেই সবই তার আছে, আমি যা না- সে তাই। হুম, এমনি করে লিখতে পারলে মন্দ হতনা। কিন্তু লেখার সম্বোধনটা যে কি হবে তা-ই ভাবছি। কি বলে ডাকব তাকে? নাম-না-জানা? অচেনা বন্ধু? কিন্তু আমি তো এমন কাউকে লিখতে চাই যে হবে আমার ভীষণ চেনা! তাহলে তো এমন নাম মানায়না! তবে? কোন রাশভারী নাম দিতে ইচ্ছা করছেনা, আবার খুব হাল্কা কোন নামও তাকে মানায়না।
হুম। ভাবছি।
...
...
...
ছোটবেলায়। স্কুলের এক স্যার আমাকে ডাকতেন লাবন্য বলে। তার কিছুদিন আগে ‘শেষের কবিতা’ পড়েছি মাত্র। লাবন্য আমার কোন প্রিয় চরিত্র না, অমিত-লাবন্যের অতসব কঠিন কঠিন কথা বোঝার বয়সও হয়নি তখন। স্যার আমাকে লাবন্য ডাকলে কেন যেন সেই লাবন্যের কথা মনে হত। এটা সে সময়ের কথা যখন স্কুলের টিচারদের সাথে খুব সহজ সম্পর্ক ছিলনা আমাদের, তখন তাদেরকে ভয়ই করতাম বেশী। তবু সাহস করে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম,” স্যার, আপনি তো আমার নাম জানেনই, তাহলে লাবন্য ডাকেন কেন?” উনি হেসে বলেছিলেন,” কেন, তোর নামটা পছন্দ না বুঝি? যা, আর ডাকবো না!” বললে কি হবে? যথারীতি উনি আমাকে পুরো স্কুলজীবনে লাবন্যই ডেকে গেছেন। আরেকদিন বলেছিলেন,” তোর নামটা মনে থাকেনা, বরং তোকে দেখলে এ নামটাই মনে আসে কেন জানি।” এরপর আর কখনো নাম নিয়ে আপত্তি করিনি আমি। বেশ কয়বছর পরে স্যারের সাথে দেখা হলে স্যার যখন ‘লাবন্য!’ বলে ডেকে উঠেছিলেন কেন যেন খুব ভাল লেগেছিল!
তাহলে কি দাঁড়াল?
চিঠির সম্বোধন তাহলে লাবন্য-ই হবে?
হোক তবে।
অন্তত নতুন কিছু মাথায় না আসা পর্যন্ত এ নামটাই থাক।
লাবন্য আমার দ্বিতীয় সত্ত্বা। আমি যা না, লাবন্য তা-ই।
আমি যখন ভরা বর্ষা, লাবন্য তখন শরতের রোদ।
আমি যখন রোদেলা দুপুর, লাবন্য তখন ঝিরঝিরে বিকেল।
Wednesday, October 24, 2007
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment