সুনীলের কবিতা পড়তে অন্যরকম ভাল লাগে। নীরাকে নিয়ে লেখা কবিতাগুলো কেমন যেন উদাস করা। অনেক ভালবাসা ভরা বলেই হয়ত। কবিতা-গান-গল্প যা-ই পড়িনা কেন, বা শুনিনা কেন, তার মাঝে নিজেকে অথবা নিজের চেনা কিছু খুঁজতে ভালবাসি। এক বিন্দু মিল পেয়ে গেলে ভাল লেগে যায় খুব। আজ সুনীলের কবিতাসমগ্রটা পড়তে গিয়ে একটা কবিতায় আটকে গেলাম। এমন না যে নীরা বিষয়ক এটাই সবচেয়ে ভাল লাগা কবিতা। কিন্তু আজ রাতে কেন যেন এ কবিতাটাই সবচেয়ে বেশী ভাল লাগছে। শোনাই.....
এই কবিতার জন্য আর কেউ নেই, শুধু তুমি নীরা
এ-কবিতা মধ্যরাত্রে তোমার নিভৃত মুখ লক্ষ্য করে
ঘুমের ভিতরে তুমি আচমকা জেগে উঠে টিপয়ের
থেকে জল খেতে গিয়ে জিভ কামড়ে একমুহূর্ত ভাববে
কে তোমার কথা মনে করছে এত রাত্রে–তখন আমার
এই কবিতার প্রতিটি লাইন শব্দ অক্ষর কম ড্যাস রেফ্
ও রয়ের ফুট্কি সমেত ছুটে যাচ্ছে তোমার দিকে, তোমার
আধোঘুমন্ত নরম মুখের চারপাশে এলোমেলো চুলে ও
বিছানায় আমার নিশ্বাসের মতো নিঃশব্দ এই শব্দগুলি
এই কবিতার প্রত্যেকটি অক্ষর গুণিনের বাণের মতো শুধু
তোমার জন্য, এরা শুধু তোমাকে বিদ্ধ করতে জানে
তুমি ভয় পেয়ো না, তুমি ঘুমোও, আমি বহু দূরে আছি
আমার ভয়ংকর হাত তোমাকে ছোঁবে না, এই মধ্যরাত্রে
আমার অসম্ভব জেগে ওঠা, উষ্ণতা, তীব্র আকাঙ্খা ও
চাপা আর্তরব তোমাকে ভয় দেখাবে না–আমার সম্পূর্ণ আবেগ
শুধু মোমবাতির আলোর মতো ভদ্র হিম,
শব্দ ও অক্ষরের কবিতায়
তোমার শিয়রের কাছে যাবে–এরা তোমাকে চুম্বন করলে
তুমি টের পাবে না, এরা তোমার সঙ্গে সারারাত শুয়ে থাকবে
এক বিছানায়–তুমি জেগে উঠবে না, সকালবেলা তোমার পায়ের
কাছে মরা প্রজাপতির মতো এরা লুটোবে। এদের আত্মা মিশে
থাকবে তোমার শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে, চিরজীবনের মতো
বহুদিন পরে তোমার সঙ্গে দেখা হলে ঝর্ণার জলের মতো
হেসে উঠবে, কিছুই না জেনে। নীরা, আমি তোমার অমন
সুন্দর মুখে বাঁকা টিপের দিকে চেয়ে থাকবো। আমি অন্য কথা
বলার সময় তোমার প্রস্ফুটিত মুখখানি আদর করবো মনে মনে
ঘরভর্তি লোকের মধ্যেও আমি তোমার দিকে
নিজস্ব চোখে তাকাবো।
তুমি জানতে পারবে না–তোমার সম্পূর্ণ শরীরে মিশে আছে
আমার একটি অতি-ব্যক্তিগত কবিতার প্রতিটি শব্দের আত্মা।।
.
.
Sunday, March 7, 2010
তুই কি আমার দুঃখ হবি...?

আনিসুল হকের লেখা এই কবিতাটা ভীষন প্রিয় আমার। বিষন্নতায় ভরা সময়গুলোকে আরো বিষন্ন করে দেয়ার মত। ভাললাগা কবিতাগুলো বারবার পড়ি আর অবাক হই, মানুষ এত সুন্দর করে লেখে কি করে?
---
তুই কি আমার দুঃখ হবি?
এই আমি এক উড়নচন্ডী আউলা বাউল
রুখো চুলে পথের ধুলো
চোখের নীচে কালো ছায়া।
সেইখানে তুই রাত বিরেতে স্পর্শ দিবি।
তুই কি আমার দুঃখ হবি?
তুই কি আমার শুষ্ক চোখে অশ্রু হবি?
মধ্যরাতে বেজে ওঠা টেলিফোনের ধ্বনি হবি?
তুই কি আমার খাঁ খাঁ দুপুর
নির্জনতা ভেঙে দিয়ে
ডাকপিয়নের নিষ্ঠ হাতে
ক্রমাগত নড়তে থাকা দরজাময় কড়া হবি?
একটি নীলাভ এনভেলাপে পুরে রাখা
কেমন যেন বিষাদ হবি।
তুই কি আমার শুন্য বুকে
দীর্ঘশ্বাসের বকুল হবি?
নরম হাতের ছোঁয়া হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি।
নিজের ঠোট কামড়ে ধরা রোদন হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি।
প্রতীক্ষার এই দীর্ঘ হলুদ বিকেল বেলায়
কথা দিয়েও না রাখা এক কথা হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি।
তুই কি একা আমার হবি?
তুই কি আমার একান্ত এক দুঃখ হবি?
এই আমি এক উড়নচন্ডী আউলা বাউল
রুখো চুলে পথের ধুলো
চোখের নীচে কালো ছায়া।
সেইখানে তুই রাত বিরেতে স্পর্শ দিবি।
তুই কি আমার দুঃখ হবি?
তুই কি আমার শুষ্ক চোখে অশ্রু হবি?
মধ্যরাতে বেজে ওঠা টেলিফোনের ধ্বনি হবি?
তুই কি আমার খাঁ খাঁ দুপুর
নির্জনতা ভেঙে দিয়ে
ডাকপিয়নের নিষ্ঠ হাতে
ক্রমাগত নড়তে থাকা দরজাময় কড়া হবি?
একটি নীলাভ এনভেলাপে পুরে রাখা
কেমন যেন বিষাদ হবি।
তুই কি আমার শুন্য বুকে
দীর্ঘশ্বাসের বকুল হবি?
নরম হাতের ছোঁয়া হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি।
নিজের ঠোট কামড়ে ধরা রোদন হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি।
প্রতীক্ষার এই দীর্ঘ হলুদ বিকেল বেলায়
কথা দিয়েও না রাখা এক কথা হবি?
একটুখানি কষ্ট দিবি।
তুই কি একা আমার হবি?
তুই কি আমার একান্ত এক দুঃখ হবি?
---
Sunday, February 14, 2010
এবং একটি অর্থহীন ভালবাসার গল্প
“দুচ্ছাই” বলে চাবিটা এপকেট ওপকেট খুঁজতে খুঁজতেই চোখ পড়ল সাদা রঙ করা কাঠের প্রাচীরের ওপারে। বেশ খানিকটা দূরে, ক্রুশবিদ্ধ যীশুর মূর্তিই হবে হয়ত, সামনে হাতজোড় করে নির্মিলিত নেত্রে ধ্যানরত সে। সাদা শাড়িতে নীল পাড়। শুভ্রতায় আচ্ছন্ন সর্বাঙ্গের বসন। মোহাবিষ্ট হয়ে সামনে এগিয়ে গেল যুবক। শুনশান নিরবতা। অত ভোরে হয়ত ঘুম ভাঙ্গেনি শহরের বেশিরভাগ মানুষের। দু’চারটে সাইকেল টিং টিং ঘন্টা বাজিয়ে পাশ কাটিয়ে গিয়েছিল খানেক আগে। অনেক দূরে হঠাৎ হঠাৎ ভোঁ শব্দে গাড়ি চলে যাচ্ছে, আওয়াজ বলতে এটুকুই।******
খুব ভোরে আজ ঘুম ভেঙ্গেছে এলেনার। প্রতিদিনই ভোরে উঠতে হয় তাদের, কিন্তু আজ আলো ফোঁটার আগেই বিছানা ছেড়েছে সে। ঘুম ভাংতেই কেন যেন আজ খুব বাড়ির কথা মনে পড়ছে হুড়মুড়িয়ে। বাবা-মা, ছোট ভাই পল আর বড় বোন আগাথার জন্য মনটা খুব কেমন করছে তখন থেকেই। অনেকদিন দেখা হয়না। শেষবার যেবার পল এসেছিল নাকের নিচে গোঁফের রেখা দেখা দিচ্ছে কেবল। ভাইটা খুব কেঁদেছিল সেবার। প্রায় দু’বছর হতে চলল এলেনা ব্রত নিচ্ছে। প্রথম প্রথম স্বভাবসুলভ চঞ্চলতায় সব তালগোল পাকিয়ে ফেলত। এখন অনেকটাই থিতু হয়ে এসেছে সব। জন্মাবার আগে থেকেই বাবা-মায়ের ইচ্ছে ছিল মেয়ে হলে তাকে ধর্মের পথে, যীশুর পথে উৎসর্গ করবেন। এলেনাকে মানুষ করা হয়েছে একথা মাথায় রেখেই। এলেনাও কখনো আপত্তি জানায়নি। আসলে আপত্তি জানানোর কোন কারনও ছিলনা। ধর্মকে কখনো বোঝা মনে হয়নি তার। প্রতি রোববার বাবার হাত ধরে চার্চে আসার দিনগুলো ছিল এলেনার ভীষন প্রিয়। প্রার্থনাসংগীত আর বাইবেলের পংক্তিগুলো মনের একেবারে ভেতরে গেঁথে নিত সে। বাবা-মায়ের উৎসাহে আর নিজের ইচ্ছায় আজ সে এখানে। আর মাসকয় পরেই হয়ত সে পুরোদস্তুর সিস্টার এলেনা হয়ে উঠবে।
******
চোখ খুলতেই সামনে অচেনা যুবক।
“শুভ সকাল, কাউকে খুঁজছেন বুঝি?” - মিষ্টি হাসি হেসে জিজ্ঞেস করল এলেনা।
“না না, এমনিই, এখানে..আসলে..না মানে আমি...”- থতমত খেয়ে হড়বড় করে বলে গেল যুবা।
“জ্বী, আমি এলেনা। আপনি এত সকালে? আজ তো রবিবারও নয়। তাই জানতে চাইলাম কাউকে খুঁজছেন কিনা, হয়ত আপনাকে সাহায্য করতে পারি”= এলেনার সহজ হাসি খানিক স্বস্তি দিল যুবাকে। “না না, এ পথ দিয়েই যাচ্ছিলাম। হঠাৎ কি মনে করে যেন....কিছু মনে করবেন না প্লিজ।“
হাঁটতে হাঁটতে এমনি আরও কিছু টুকিটাকি কথায় সদর দরজার গোড়ায় পৌঁছে গেল তারা।
“বিদায়, যীশু আপনার মঙ্গল করুন”- শান্ত সৌম্য দৃষ্টি আর মায়াময় হাসি উপহার দিয়ে চার্চের ডানের আবাসিক হুলের দিকে হেঁটে গেল এলেনা।
যুবার নাম রায়হান।
******
পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা শহরটা খুব বেশী বড় নয়। এখানে সবাই প্রায় সবাইকে চেনে। নানার বাড়ীতে তেমন একটা আসা হয়ে ওঠেনা রায়হানের। একবার আসলে আবার যেতেও প্রাণ সায় দেয়না। এবারেও তাই এসেছে বেশ অনেকটা সময় হাতে নিয়ে। পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়াতে সে যে কি অদ্ভুত ভাললাগা। নির্জন দুপুরগুলোর বেশীরভাগই কাটে নাম না জানা পাহাড়ি গাছগুলো দেখে, আর কুল কুল করে বয়ে যাওয়া ছোট ছোট ঝর্নাগুলোর পাশে বসে। আসা-যাওয়ার পথেই চার্চটা। বেশ পুরোনো। ছোটবেলায় গিয়েছিল বেশ কয়বার ওখানে। শেষ ক’বার আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি।
“শুভ বিকেল, এদিকেই কোথাও থাকেন বুঝি?” - আগের দিনের মতই শান্তচোখে মিষ্টি হাসি মেখে জিজ্ঞাসা এলেনার।
“না, খুব আশেপাশে না, তবে খুব দুরেও না। আপনার সব চলছে কেমন? খরগোশটা খাচ্ছে তো ঠিকমত? আর গোলাপগূলোর রঙ ফিরেছে?“ - মাফলার ঠিক করতে করতে সামনে এগিয়ে গেল রায়হান।
“জ্বী, আপনার পরামর্শ ভালই কাজে দিয়েছে! পাহাড়ে ঘোরাঘুরি কেমন চলছে আপনার?”
এলেনার নিরাভরন শরীরে শেষ বিকেলের আলো।
নিস্পাপ মুখে শেষ রৌদ্রের ছটা।
মুগ্ধতা রায়হানের।
******
আরো কিছু দিন কাটে।
আরো কিছু ঘন্টা।
পৃথিবীর হিসেবে আরো কিছু সময়।
কিছু কথা জমে, কিছু ভাললাগা ও।
মুগ্ধতা বড্ড বেয়াড়া।
কেবলি বেড়ে চলে।
শনশন।
শনশন।
******
“এ হতে পারে না! আমাকে মাফ করবেন। দয়া করে আর এখানে আসবেন না আপনি।“ - হনহন করে একবারও পিছে না তাকিয়ে চলে যাচ্ছে এলেনা। রায়হানের পৃথিবীটা ভেঙ্গে যাচ্ছে, গুড়িয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে গড়ে ওঠা রঙ্গিন পৃথিবীটা ক্রমশঃ ধুসর হয়ে যাচ্ছে।
“আমি কিছুই জানতে চাইনা, বুঝতেও চাইনা।“ - যুবকের অস্ফুট চিৎকারে আকাশে-মেঘে মাতম লাগে যেন।
“না হয়না....সংযম, সংযম! যীশু শক্তি দাও আমায়!”
ক্রুশবিদ্ধ যীশু কি টলে উঠলেন?
******
নির্ঘুম রাত।
নিস্তব্ধ চরাচর।
‘বিধান নেই, বিধান নেই!’ , ‘যীশু তোমাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনুন!’ , ‘সংসার করার অধিকার নেই তোমার!’
--হায়, মানুষগুলো না হয় বুঝল না যুবতীর মন...স্বর্গের দেবতাদের চোখেও কি একফোঁটা মায়াশ্রু জমেনি যুবতীর আর্তচিৎকারে?
******
“ফাদার, কি করতে পারি আমি? স্বেচ্ছায় এসেছি ব্রত পালন করতে। ভালবেসেছি অজান্তেই। তবে কি আমি মহাপাতকী হলাম? যদি ফিরে যেতে চাই!”
“পার তুমি ফিরে যেতে, তবে ভেবে দেখ সমাজের কথা, পরিবারের কথা।“
অতঃপর ভাবনা...
হায়রে সমাজ।
হায়রে পরিবার....
******
বিদায়কালে সেই একই শান্তচোখের সৌম্যদৃষ্টি এলেনার।
রায়হানের গালে জলের দাগ ছিল তখনো।
রায়হানের চোখে নিষ্ঠুর এলেনা।
জগতের কাছে এলেনা অসহায় ছিল।
******
******
[ টিভিতে দেখা একটি নাটকে উদ্বুদ্ধ হয়ে....]
Friday, February 12, 2010
দু' ইঞ্চি সুখ চাই

আমার ডাইনে দুঃখ, বায়ে দুঃখ
সামনে দুঃখ, পেছনে দুঃখ,
দুঃখ ছাড়া আমার কিছু নাই,
আমি তোমার কাছে দু’ইঞ্চি সুখ চাই...
আমার আকাশে কষ্ট, মাটিতে কষ্ট
সাগরে কষ্ট, পাহাড়ে কষ্ট,
কষ্টে কষ্টে জীবন নষ্ট তাই,
আমি তোমার কাছে দু’ইঞ্চি সুখ চাই...
ইট-কাঠ পাথরের আমার এ শহর
সবকিছু কেড়ে দিয়ে করে দিল পর,
বিষাদের যন্ত্রণায় খাঁ খাঁ করে বুক,
হৃদয়ের পিঠে পড়ে স্মৃতির চাবুক।
ভাগ্যের সাপ লুডু খেলা জঞ্জাল,
কষ্ট ছোবলে আমি বেহুঁশ মাতাল।
বিধাতার খেয়ালি খেলা চলমান,
কারো বুকে বাগিচা, কারো বিরান...
প্রানহীন এ শহরে ভালবাসা নাই,
তাই তোমার কাছে দু’ইঞ্চি সুখ চাই...
......
বেশি কিছু চাইতে বড় ভয় পাই,
তাই তোমার কাছে দু’ইঞ্চি সুখ চাই....
[প্রিতমের এ গানটা উৎসর্গ করলাম আমার সবচেয়ে প্রিয় আর সবচেয়ে কাছের মানুষটাকে]
http://www.esnips.com/doc/797827cc-3c10-41b6-b05b-25d6dcabb5e1/Solo_Dui_Inch_Sukh_Chai-Pritom_Ahmed___
Wednesday, February 10, 2010
ছন্নছাড়া ভাবনাগুলো - ২

আজকের সকালটা খুব সকালের মতন। একটু ঠান্ডা ঠান্ডা আবার হালকা একটুখানি মায়া মায়া রোদ্দুর। এর সাথে খুব অল্প একটু জ্বর জ্বর ভাব। ভালই লাগছে। অনেক ছোটবেলার মত একটা অনভুতি হচ্ছে। ওই যে সেই বয়সটা যখন দিন পনের যেতে না যেতেই ঠান্ডা-জ্বর বেধে যেত আমার। তখনও প্রায়-চলে-যাওয়া শীতের সকালগুলোতে এমন একটা ভাললাগা রেশ থাকত যেন। আজ সকাল থেকে মনটাও বেশি খারাপ না। খানিকটা ফুরফুরে মেজাজেই আছি বলা যায়। অবশ্য কতক্ষন এমন কাটবে বলতে পারছিনা। চোখের সামনে ঠিক এই মুহুর্তে দেখতে পাচ্ছি একটা পুচ্চু সেফটিপিন। প্রয়োজনের সময় যেটা কখনই পাইনা এখন তা দিব্বি নাকের সামনে ঝুলছে। আর আছে আমার নকিয়ার ইয়ারফোনটা, যেটা কিনা অর্ধ-নষ্ট, ক্যামেরার ডেটা-ক্যাবল আর আমার অনেক পুরোনো ট্রানসেন্ডের ২৫৬ পেনড্রাইভটা। আহা, যখন কিনেছিলাম ক্লাশে আমারটাই ছিল হাইয়েস্ট ক্যাপাসিটির পেনড্রাইভ। এর আগেরটা ছিল টুইনমসের এমপিথ্রি পেনড্রাইভ। সেও ছিল ক্লাশে প্রথম। কি যত্নেই না রাখতাম। কিন্তু কপাল খারাপ। মাসকয় যেতে না যেতেই নষ্ট হয়ে গেল। ওয়ারেন্টি ছিল বলে রক্ষা। পালটে নিয়ে এসেছিলাম খুব সুন্দর মেয়েলী ছাপের ২৫৬ পেনড্রাইভটা। গেল মাসে আমার এত সাধের ক্যামেরাটাও নষ্ট হয়ে গেল। মাদার বোর্ডে নাকি সমস্যা। সার্ভিস চার্জ ১২০০০ টাকা। ধ্যাত বলে কিনে ফেললাম আরেকটা। কিন্তু আগের ক্যামেরার মায়া এখনো ছাড়তে পারিনি। তাই নতুনটা হাতে নিতে ভাল লাগেনা একদম। মোবাইলটার জীবনিশক্তিও শেষ হবার পথে। বেচারা আমাকে অনেকদিন ধুন্ধুমার সার্ভিস দিয়ে গেছে। আজকাল চার্জ থাকছেনা। কোন এক অদ্ভুত কারনে ব্যাটারীটা ফুলে-ফেঁপে গেছে। দেখি কি করা যায়।
বাইরেটা এখন বেশ মেঘলা হয়ে আছে। আজ মনে হয় সূর্যেরও আলসেমী লাগছে আমার মতন। এক দু’বার চোখদুটো পিটিপিটি করে খুলে আবার মুখ ঢেকে ফেলছে লেপের নিচে। অলস একটা মায়াবী দিন। বইমেলায় যেতে ইচ্ছে করছে। অনেকের মত আমি সারাবছর হয়ত বইমেলার অপেক্ষা করিনা, কিন্তু মেলা শুরু হলে ভালই লাগে। ক্যাম্পাসে কেমন একটা উৎসব উৎসব রব পড়ে যায়। দুইধারের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে যেন মেলা বসে যায়। ফুটপাথে, ডিভাইডারের উপর যেখানে খুশী বসে থাকা যায়। সত্যি বলতে কি মেলার ভেতরের চেয়ে বাইরের এসব টুকিটাকি দেখতেই বেশী ভাল লাগে আমার, আর আনন্দও হয় খুব। গতকাল রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে টিপের পাতা নিয়ে মামার সাথে দরদাম করছি যখন ছোট্ট একটা ছেলে চকলেট নিয়ে এসে কি যেন চাইল। অত খেয়াল করিনি, কথা বলতে বলতে আর হাসতে হাসতেই ‘না’ বলে ফেললাম। ছেলেটা কিন্তু একটুও মন খারাপ করলনা, দৌড়ে যেতে যেতে আমাকে বলে গেল ‘কিপটা আপা!’ । শুনে খারাপ তো লাগলই না, কেন যেন উলটা মজা লাগল। ইচ্ছে করল ডেকে নিয়ে এসে কিনে দিই যা চেয়েছিল। কিন্তু চোখের পলকেই উধাও।
কি শুরু করলাম, আর কি বলছি।
তাল নেই কোন।
আরে, বেঁচে থাকাটা খারাপ কিসের ?
বাইরেটা এখন বেশ মেঘলা হয়ে আছে। আজ মনে হয় সূর্যেরও আলসেমী লাগছে আমার মতন। এক দু’বার চোখদুটো পিটিপিটি করে খুলে আবার মুখ ঢেকে ফেলছে লেপের নিচে। অলস একটা মায়াবী দিন। বইমেলায় যেতে ইচ্ছে করছে। অনেকের মত আমি সারাবছর হয়ত বইমেলার অপেক্ষা করিনা, কিন্তু মেলা শুরু হলে ভালই লাগে। ক্যাম্পাসে কেমন একটা উৎসব উৎসব রব পড়ে যায়। দুইধারের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে যেন মেলা বসে যায়। ফুটপাথে, ডিভাইডারের উপর যেখানে খুশী বসে থাকা যায়। সত্যি বলতে কি মেলার ভেতরের চেয়ে বাইরের এসব টুকিটাকি দেখতেই বেশী ভাল লাগে আমার, আর আনন্দও হয় খুব। গতকাল রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে টিপের পাতা নিয়ে মামার সাথে দরদাম করছি যখন ছোট্ট একটা ছেলে চকলেট নিয়ে এসে কি যেন চাইল। অত খেয়াল করিনি, কথা বলতে বলতে আর হাসতে হাসতেই ‘না’ বলে ফেললাম। ছেলেটা কিন্তু একটুও মন খারাপ করলনা, দৌড়ে যেতে যেতে আমাকে বলে গেল ‘কিপটা আপা!’ । শুনে খারাপ তো লাগলই না, কেন যেন উলটা মজা লাগল। ইচ্ছে করল ডেকে নিয়ে এসে কিনে দিই যা চেয়েছিল। কিন্তু চোখের পলকেই উধাও।
কি শুরু করলাম, আর কি বলছি।
তাল নেই কোন।
আরে, বেঁচে থাকাটা খারাপ কিসের ?
Friday, February 5, 2010
জ্বর জ্বর, তিতা তিতা

আবার জ্বর জ্বর। সারা গায়ে ব্যাথা। ঘাড়ে ব্যাথা। মাঝে বেশ অনেকদিন তেমন কোন অসুখ না হওয়াতে ভাবতাম অন্তত জ্বর হলেও ভাল হত। কিছুদিন শুয়ে বসে কাটানো যেত। এখন খুব বিরক্ত লাগছে। ছোটবেলা থেকেই কাশি জিনিসটা খুব অপছন্দ আমার। মাঝে মাঝে দু’একটা হাঁচি দিতে খারাপ লাগেনা। কিন্তু ফুসফুস ফাটানো কাশির দমক অসহ্য লাগে খুব। গায়ে ব্যাথা বলে কাশতেও কষ্ট হচ্ছে। ছোটবেলায় এমন অসুখ হলে সময়টা খারাপ কাটতনা। মা পাশে থাকত অনেকটা সময়। আর রাতে কাশতে কাশতে যখন ঘুম ভেঙ্গে যেত তখনও দেখতাম মা জেগে আছে পাশে। মাঝরাতে উঠে পানি খেতে চাইতাম খুব - মনে আছে আমার। এখন আর এমন হয়না। একাই থাকা হয় যত অসুখই হোক। মাঝরাতে ঘুম ভাংলে একাই জেগে থাকি। মা-কে জাগাতে মায়া লাগে। ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমানোর বয়স চলে এসেছে মায়ের। ধ্যাত, বড় বয়সের অসুখে মজা নেই।
Thursday, January 14, 2010
বুঝল না কেউ...

মাথার ভেতরকার সব যন্ত্র যেন বিকল হয়ে গেছে। চিন্তা, দুশ্চিন্তা সব মিলিয়ে মাথার ভেতর পুরা ভজঘট পাকিয়ে গেছে। কিছু আর চিন্তা করার শক্তি নেই, সামর্থও নেই। এমন অবস্থায় নিজেকে বিশ্রামও দিতে পারছিনা। সব ভুলে যদি কিছুটা সময়ও পার করতে পারতাম! গান শুনে নার্ভ ঠান্ডা করতে চাইছি, পারছি কই? মুভি? তাও না। ভাল লাগেনা। ভাল লাগেনা..... ! ! ! আমাকে সবাই বলে, আমারি নাকি ডিসিশন নিতে হবে সব, আমার হাতেই সব! আমিও জানি, কিন্তু কি করব আমি? কেউ যদি আমার হয়ে আমার মত করে সব ভেবে দিতে পারত...আমি ছুটি চাই! নিজের থেকে ছুটি, সবার চোখ থেকে ছুটি! আমি বুঝি, আমি আসলে একটা দূর্বল চিত্তের মানুষ। আর একজন দূর্বল মানুষ কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। পেন্ডুলামের মত শুধু এদিক-ওদিক ঘোরা-ই সার।
Sunday, January 10, 2010
ডাক্তার লেন ১০৪

একটা সবুজ রঙের সেলোয়ার
জয়িতা,
একটা কোনমতে টিকে থাকা সংসার
জয়িতা,
একটা নড়বড়ে সিঁড়ি বেয়ে তিনখানা ঘর
জয়িতা,
ডাক্তার লেন ১০৪।
বাবা তার পেনশন নিয়ে ঘরে পঙ্গু
জয়িতা
মা তার গেছে হারিয়ে আকাশে
জয়িতা
ছোটভাই আছে অভিনেতা হবে
জয়িতা
ডাক্তার লেন ১০৪।
তাই বয়েসের সাথে সাথে বাড়ছে দায়িত্ব
জয়িতা
পড়তে বসেনা সে আর তার জানালায়।
ইশকুল থেকে নাম কাটা গেছে গতমাসে,
জয়িতা
এখন সে সুরুচিতে রান্না করতে যায়।
ইংরাজিতে পেত একশ’তে তিরাশি
জয়িতা
জ্যামিতিতে চিরকাল উনআশি
জয়িতা
তাই মাঝে মাঝে রাত্তিরে কান্না পেয়ে যায়
জয়িতা
ডাক্তার লেন ১০৪।
রোজ সাতসকালে উঠে কাজে চলে যেতে হয়
জয়িতা
সবুজ রঙের সেলোয়ার, ছেঁড়া চটি পায়,
ষোল বছরেই সে স্বাবলম্বী
জয়িতা
ডাক্তার লেন ১০৪।
আমি উলটো দিকের জানালায় বসে
জয়িতা
সঙ্গী আমার একটা গিটার
জয়িতা
কখন যে মনে মনে চেয়েছি তোমাকে জয়িতা
কখন যে গেয়ে ফেলি আরো একটা গান
ডাক্তার লেন ১০৪।
জয়ি জয়ি জয়ি জয়িতা আমার
ডাক্তার লেন ১০৪।
জয়ি জয়ি জয়ি জয়িতা আমার...
......
অঞ্জনের এই মন খারাপ করা গানটা শুনেছি খুব বেশিদিন হয়নি। জয়িতার সাথে কোথায় জানি একটা মিল পাই নিজের, তাই খুব আপন মনে হয় জয়িতাকে। ১০৪ ডাক্তার লেনের সেই তিনখানা ঘরও নিজের মনে হয় অনেক। আজ জিজ্ঞেস করেছিলাম এক বন্ধুকে, যে জয়িতার মত একটা মেয়েকে সে কখনো নিজের সঙ্গি করে নিতে পারত কি না। উত্তর ছিল ‘মনে হয় না...’ । কেন যেন খারাপ লাগল। মনে মনে ভাবছিলাম আমি ছেলে হলে কি অমন সারাদিন জয়ির জন্য উলটো দিকের জানালায় বসে অপেক্ষা করতে পারতাম? গান লিখে যেতে পারতাম?
ভাল লাগছেনা।
মনটা খারাপ।
গানটা শুনতে শুনতে আরেকটু খারাপ হল।
জয়িতা,
একটা কোনমতে টিকে থাকা সংসার
জয়িতা,
একটা নড়বড়ে সিঁড়ি বেয়ে তিনখানা ঘর
জয়িতা,
ডাক্তার লেন ১০৪।
বাবা তার পেনশন নিয়ে ঘরে পঙ্গু
জয়িতা
মা তার গেছে হারিয়ে আকাশে
জয়িতা
ছোটভাই আছে অভিনেতা হবে
জয়িতা
ডাক্তার লেন ১০৪।
তাই বয়েসের সাথে সাথে বাড়ছে দায়িত্ব
জয়িতা
পড়তে বসেনা সে আর তার জানালায়।
ইশকুল থেকে নাম কাটা গেছে গতমাসে,
জয়িতা
এখন সে সুরুচিতে রান্না করতে যায়।
ইংরাজিতে পেত একশ’তে তিরাশি
জয়িতা
জ্যামিতিতে চিরকাল উনআশি
জয়িতা
তাই মাঝে মাঝে রাত্তিরে কান্না পেয়ে যায়
জয়িতা
ডাক্তার লেন ১০৪।
রোজ সাতসকালে উঠে কাজে চলে যেতে হয়
জয়িতা
সবুজ রঙের সেলোয়ার, ছেঁড়া চটি পায়,
ষোল বছরেই সে স্বাবলম্বী
জয়িতা
ডাক্তার লেন ১০৪।
আমি উলটো দিকের জানালায় বসে
জয়িতা
সঙ্গী আমার একটা গিটার
জয়িতা
কখন যে মনে মনে চেয়েছি তোমাকে জয়িতা
কখন যে গেয়ে ফেলি আরো একটা গান
ডাক্তার লেন ১০৪।
জয়ি জয়ি জয়ি জয়িতা আমার
ডাক্তার লেন ১০৪।
জয়ি জয়ি জয়ি জয়িতা আমার...
......
অঞ্জনের এই মন খারাপ করা গানটা শুনেছি খুব বেশিদিন হয়নি। জয়িতার সাথে কোথায় জানি একটা মিল পাই নিজের, তাই খুব আপন মনে হয় জয়িতাকে। ১০৪ ডাক্তার লেনের সেই তিনখানা ঘরও নিজের মনে হয় অনেক। আজ জিজ্ঞেস করেছিলাম এক বন্ধুকে, যে জয়িতার মত একটা মেয়েকে সে কখনো নিজের সঙ্গি করে নিতে পারত কি না। উত্তর ছিল ‘মনে হয় না...’ । কেন যেন খারাপ লাগল। মনে মনে ভাবছিলাম আমি ছেলে হলে কি অমন সারাদিন জয়ির জন্য উলটো দিকের জানালায় বসে অপেক্ষা করতে পারতাম? গান লিখে যেতে পারতাম?
ভাল লাগছেনা।
মনটা খারাপ।
গানটা শুনতে শুনতে আরেকটু খারাপ হল।
Friday, January 1, 2010
ছন্নছাড়া ভাবনাগুলো

শুভ সকাল। ঘুম ভাংতেই দেখি ঘড়িতে ৭টা বাজে। একটা মজার ব্যাপার হল। অন্য দিনগুলোতে ঘড়িতে যখন ৮ টা বাজে, তখন ৭ টা মনে করে আবার ঘুমিয়ে যাই। ৯/৯.৩০ বাজলে ৮/৮.৩০ ভেবে জেগে উঠি। আজ যখন দেখলাম ৭ টা, হঠাৎ মনে পড়ল গতকাল এক ঘন্টা পিছিয়ে দিয়েছি ঘড়িটা। ৮টা ভেবে বিছানা ছাড়লাম। নতুন বছরের শুরুতে এই আমার প্রথম একটা ভাল কাজ। অনেক দিন থেকেই ভাবছি সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসটা শুরু করব আবার। পারছিলামনা। আজ কিভাবে যেন হয়ে গেল। আমি খুশীঈঈঈ। উহু, শুধু একদিন জেগেছি বলেই এত খুশি হচ্ছি ব্যাপারটা এমন না। জানি যে আগামী ২/৩ দিন ঠিক এমন সময়েই ঘুম ভাংবে আমার। তখন যদি কষ্ট করে কম্বল থেকে বেরোতে পারি, তাহলেই হয়ে যাবে অভ্যাসটা!
আজ থেকে আমার থিসিসের কাজ শুরু করার কথা। কিন্তু আজ যে আবার রিমির এংগেজমেন্ট! তাহলে কি আজ শুরু করা হবেনা? ফাঁকিবাজ যে কি হয়েছি! উহু, আমি বলছি আজ চেষ্টা করব একটুখানি হলেও পড়তে! করব করব করব! ! হাতে আর মাত্র দু’মাস। সিরিয়াস হবার সময় চলে এসেছে!
বছরের শেষদিনটায় মুফের সাথে দেখা হয়নি। আজ শুরুর দিনটাতেও দেখা হচ্ছেনা। রাগ করছে মুফ, জানি আমি। কি করা যায়? আচ্ছা, আজ বিকেলে কি একবার সময় পাব? উহু, মনে হয় না। আহারে...
আচ্ছা এবছরে কি কি ঘটবে আমার জীবনে? সবকিছু যদি আমার প্ল্যানমত হয়, তাহলে এবছরটা চরম একটা ঘটনাবহুল বছর হবে আমার জন্য। বন্ধুরা সবাই নিশ্চয়ই এবছরের মধ্যেই দোকলা হয়ে যাবে, কত কতজন পাড়ি জমাবে দেশের বাইরে। তামুরও কি এবছরেই বিয়ে হচ্ছে? তানুমনির তো স্বপ্নের ভার্সিটি লাইফ শুরু হতে যাচ্ছে কিছুদিনের মাঝেই। আর মা? মা কেমন থাকবে? মা’র শুকনো কাশিটা বেড়ে যাচ্ছে মাঝে মাঝেই। গত বছর তো পা ভেঙ্গে খুব ভুগল ক’টা দিন। শরীরটা ভাল যাচ্ছেনা মায়ের একদমই। মনও না। এ বছর....থাক।
রুমুর ছেলেটা নাকি স্কুলে ভর্তি হবে। কি অবাক কান্ড। এই না সেদিন জন্মাল? সময় এত তাড়াতাড়ি যায়...আচ্ছা, লুপুর বিয়েতে মজা করব কিভাবে? আমাকে দেখলেই নিশ্চয়ই লেবু মেজাজ গরম করে চোখ পাকিয়ে তাকাবে! লুপুকে আমি এত দেখতে পারি, কিন্তু লেবুকে যে একটুও সহ্য হয়না! ! উফফ, যাবনা ওদের বিয়েতে! ধুর রিমির বিয়েটা পড়বে আমার থিসিসের আগে আগে। মাথায় একটা থিসিস বিষয়ক যন্ত্রনা নিয়ে আনন্দ করা যায় নাকি?? আহা, রিমিটা চলে গেলে একদম একা হয়ে যাব। আমার মন খারাপ হলে কাকে গিয়ে সব খুলে বলব? গভীর রাত পর্যন্ত যে করিডরে বসে থাকতাম, দিনে-রাতে ইচ্ছেমত যে দুম করে চলে যেতাম ওর কাছে...অনেক অনেক মন খারাপ হবে আমার। ইন ফ্যাক্ট লিখতে গিয়েই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাহলে এটাও থাক...
আমার মা আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু। অনেকের মা-ই হয়ত অনেকের বন্ধু থাকে, কিন্তু আমাকে যারা চেনে, তারা বুঝতে পারবে কেবল আমার মা আমার কতটা বন্ধু। মা-কে আমি পৃথিবীর যে কোন কিছুর চেয়ে, যে কারো চেয়ে বেশি ভালবাসি। এমনকি নিজের চেয়েও। এবছরটাতে আমি আমার মা’র মুখে হাসি ফোঁটাতে চাই, অন্য অনেক বছরের চেয়ে এবছরের চাওয়াটা আলাদা কিছু। আমি খুব চাই, খুব, খুব। একদম নির্ভেজাল, প্রানবন্ত হাসি...কতদিন মা’কে হাসতে দেখিনা অমন...
আর লিখবনা।
.......................
আজ থেকে আমার থিসিসের কাজ শুরু করার কথা। কিন্তু আজ যে আবার রিমির এংগেজমেন্ট! তাহলে কি আজ শুরু করা হবেনা? ফাঁকিবাজ যে কি হয়েছি! উহু, আমি বলছি আজ চেষ্টা করব একটুখানি হলেও পড়তে! করব করব করব! ! হাতে আর মাত্র দু’মাস। সিরিয়াস হবার সময় চলে এসেছে!
বছরের শেষদিনটায় মুফের সাথে দেখা হয়নি। আজ শুরুর দিনটাতেও দেখা হচ্ছেনা। রাগ করছে মুফ, জানি আমি। কি করা যায়? আচ্ছা, আজ বিকেলে কি একবার সময় পাব? উহু, মনে হয় না। আহারে...
আচ্ছা এবছরে কি কি ঘটবে আমার জীবনে? সবকিছু যদি আমার প্ল্যানমত হয়, তাহলে এবছরটা চরম একটা ঘটনাবহুল বছর হবে আমার জন্য। বন্ধুরা সবাই নিশ্চয়ই এবছরের মধ্যেই দোকলা হয়ে যাবে, কত কতজন পাড়ি জমাবে দেশের বাইরে। তামুরও কি এবছরেই বিয়ে হচ্ছে? তানুমনির তো স্বপ্নের ভার্সিটি লাইফ শুরু হতে যাচ্ছে কিছুদিনের মাঝেই। আর মা? মা কেমন থাকবে? মা’র শুকনো কাশিটা বেড়ে যাচ্ছে মাঝে মাঝেই। গত বছর তো পা ভেঙ্গে খুব ভুগল ক’টা দিন। শরীরটা ভাল যাচ্ছেনা মায়ের একদমই। মনও না। এ বছর....থাক।
রুমুর ছেলেটা নাকি স্কুলে ভর্তি হবে। কি অবাক কান্ড। এই না সেদিন জন্মাল? সময় এত তাড়াতাড়ি যায়...আচ্ছা, লুপুর বিয়েতে মজা করব কিভাবে? আমাকে দেখলেই নিশ্চয়ই লেবু মেজাজ গরম করে চোখ পাকিয়ে তাকাবে! লুপুকে আমি এত দেখতে পারি, কিন্তু লেবুকে যে একটুও সহ্য হয়না! ! উফফ, যাবনা ওদের বিয়েতে! ধুর রিমির বিয়েটা পড়বে আমার থিসিসের আগে আগে। মাথায় একটা থিসিস বিষয়ক যন্ত্রনা নিয়ে আনন্দ করা যায় নাকি?? আহা, রিমিটা চলে গেলে একদম একা হয়ে যাব। আমার মন খারাপ হলে কাকে গিয়ে সব খুলে বলব? গভীর রাত পর্যন্ত যে করিডরে বসে থাকতাম, দিনে-রাতে ইচ্ছেমত যে দুম করে চলে যেতাম ওর কাছে...অনেক অনেক মন খারাপ হবে আমার। ইন ফ্যাক্ট লিখতে গিয়েই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাহলে এটাও থাক...
আমার মা আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু। অনেকের মা-ই হয়ত অনেকের বন্ধু থাকে, কিন্তু আমাকে যারা চেনে, তারা বুঝতে পারবে কেবল আমার মা আমার কতটা বন্ধু। মা-কে আমি পৃথিবীর যে কোন কিছুর চেয়ে, যে কারো চেয়ে বেশি ভালবাসি। এমনকি নিজের চেয়েও। এবছরটাতে আমি আমার মা’র মুখে হাসি ফোঁটাতে চাই, অন্য অনেক বছরের চেয়ে এবছরের চাওয়াটা আলাদা কিছু। আমি খুব চাই, খুব, খুব। একদম নির্ভেজাল, প্রানবন্ত হাসি...কতদিন মা’কে হাসতে দেখিনা অমন...
আর লিখবনা।
.......................
Subscribe to:
Posts (Atom)