Thursday, January 14, 2010

বুঝল না কেউ...


মাথার ভেতরকার সব যন্ত্র যেন বিকল হয়ে গেছে। চিন্তা, দুশ্চিন্তা সব মিলিয়ে মাথার ভেতর পুরা ভজঘট পাকিয়ে গেছে। কিছু আর চিন্তা করার শক্তি নেই, সামর্থও নেই। এমন অবস্থায় নিজেকে বিশ্রামও দিতে পারছিনা। সব ভুলে যদি কিছুটা সময়ও পার করতে পারতাম! গান শুনে নার্ভ ঠান্ডা করতে চাইছি, পারছি কই? মুভি? তাও না। ভাল লাগেনা। ভাল লাগেনা..... ! ! ! আমাকে সবাই বলে, আমারি নাকি ডিসিশন নিতে হবে সব, আমার হাতেই সব! আমিও জানি, কিন্তু কি করব আমি? কেউ যদি আমার হয়ে আমার মত করে সব ভেবে দিতে পারত...আমি ছুটি চাই! নিজের থেকে ছুটি, সবার চোখ থেকে ছুটি! আমি বুঝি, আমি আসলে একটা দূর্বল চিত্তের মানুষ। আর একজন দূর্বল মানুষ কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। পেন্ডুলামের মত শুধু এদিক-ওদিক ঘোরা-ই সার।

Sunday, January 10, 2010

ডাক্তার লেন ১০৪



একটা সবুজ রঙের সেলোয়ার
জয়িতা,
একটা কোনমতে টিকে থাকা সংসার
জয়িতা,
একটা নড়বড়ে সিঁড়ি বেয়ে তিনখানা ঘর
জয়িতা,
ডাক্তার লেন ১০৪।

বাবা তার পেনশন নিয়ে ঘরে পঙ্গু
জয়িতা
মা তার গেছে হারিয়ে আকাশে
জয়িতা
ছোটভাই আছে অভিনেতা হবে
জয়িতা
ডাক্তার লেন ১০৪।


তাই বয়েসের সাথে সাথে বাড়ছে দায়িত্ব
জয়িতা
পড়তে বসেনা সে আর তার জানালায়।
ইশকুল থেকে নাম কাটা গেছে গতমাসে,
জয়িতা
এখন সে সুরুচিতে রান্না করতে যায়।


ইংরাজিতে পেত একশ’তে তিরাশি
জয়িতা
জ্যামিতিতে চিরকাল উনআশি
জয়িতা
তাই মাঝে মাঝে রাত্তিরে কান্না পেয়ে যায়
জয়িতা
ডাক্তার লেন ১০৪।

রোজ সাতসকালে উঠে কাজে চলে যেতে হয়
জয়িতা
সবুজ রঙের সেলোয়ার, ছেঁড়া চটি পায়,
ষোল বছরেই সে স্বাবলম্বী
জয়িতা
ডাক্তার লেন ১০৪।


আমি উলটো দিকের জানালায় বসে
জয়িতা
সঙ্গী আমার একটা গিটার
জয়িতা
কখন যে মনে মনে চেয়েছি তোমাকে জয়িতা
কখন যে গেয়ে ফেলি আরো একটা গান

ডাক্তার লেন ১০৪।
জয়ি জয়ি জয়ি জয়িতা আমার
ডাক্তার লেন ১০৪।
জয়ি জয়ি জয়ি জয়িতা আমার...

......

অঞ্জনের এই মন খারাপ করা গানটা শুনেছি খুব বেশিদিন হয়নি। জয়িতার সাথে কোথায় জানি একটা মিল পাই নিজের, তাই খুব আপন মনে হয় জয়িতাকে। ১০৪ ডাক্তার লেনের সেই তিনখানা ঘরও নিজের মনে হয় অনেক। আজ জিজ্ঞেস করেছিলাম এক বন্ধুকে, যে জয়িতার মত একটা মেয়েকে সে কখনো নিজের সঙ্গি করে নিতে পারত কি না। উত্তর ছিল ‘মনে হয় না...’ । কেন যেন খারাপ লাগল। মনে মনে ভাবছিলাম আমি ছেলে হলে কি অমন সারাদিন জয়ির জন্য উলটো দিকের জানালায় বসে অপেক্ষা করতে পারতাম? গান লিখে যেতে পারতাম?

ভাল লাগছেনা।
মনটা খারাপ।
গানটা শুনতে শুনতে আরেকটু খারাপ হল।

Friday, January 1, 2010

ছন্নছাড়া ভাবনাগুলো







শুভ সকাল। ঘুম ভাংতেই দেখি ঘড়িতে ৭টা বাজে। একটা মজার ব্যাপার হল। অন্য দিনগুলোতে ঘড়িতে যখন ৮ টা বাজে, তখন ৭ টা মনে করে আবার ঘুমিয়ে যাই। ৯/৯.৩০ বাজলে ৮/৮.৩০ ভেবে জেগে উঠি। আজ যখন দেখলাম ৭ টা, হঠাৎ মনে পড়ল গতকাল এক ঘন্টা পিছিয়ে দিয়েছি ঘড়িটা। ৮টা ভেবে বিছানা ছাড়লাম। নতুন বছরের শুরুতে এই আমার প্রথম একটা ভাল কাজ। অনেক দিন থেকেই ভাবছি সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসটা শুরু করব আবার। পারছিলামনা। আজ কিভাবে যেন হয়ে গেল। আমি খুশীঈঈঈ। উহু, শুধু একদিন জেগেছি বলেই এত খুশি হচ্ছি ব্যাপারটা এমন না। জানি যে আগামী ২/৩ দিন ঠিক এমন সময়েই ঘুম ভাংবে আমার। তখন যদি কষ্ট করে কম্বল থেকে বেরোতে পারি, তাহলেই হয়ে যাবে অভ্যাসটা!

আজ থেকে আমার থিসিসের কাজ শুরু করার কথা। কিন্তু আজ যে আবার রিমির এংগেজমেন্ট! তাহলে কি আজ শুরু করা হবেনা? ফাঁকিবাজ যে কি হয়েছি! উহু, আমি বলছি আজ চেষ্টা করব একটুখানি হলেও পড়তে! করব করব করব! ! হাতে আর মাত্র দু’মাস। সিরিয়াস হবার সময় চলে এসেছে!

বছরের শেষদিনটায় মুফের সাথে দেখা হয়নি। আজ শুরুর দিনটাতেও দেখা হচ্ছেনা। রাগ করছে মুফ, জানি আমি। কি করা যায়? আচ্ছা, আজ বিকেলে কি একবার সময় পাব? উহু, মনে হয় না। আহারে...

আচ্ছা এবছরে কি কি ঘটবে আমার জীবনে? সবকিছু যদি আমার প্ল্যানমত হয়, তাহলে এবছরটা চরম একটা ঘটনাবহুল বছর হবে আমার জন্য। বন্ধুরা সবাই নিশ্চয়ই এবছরের মধ্যেই দোকলা হয়ে যাবে, কত কতজন পাড়ি জমাবে দেশের বাইরে। তামুরও কি এবছরেই বিয়ে হচ্ছে? তানুমনির তো স্বপ্নের ভার্সিটি লাইফ শুরু হতে যাচ্ছে কিছুদিনের মাঝেই। আর মা? মা কেমন থাকবে? মা’র শুকনো কাশিটা বেড়ে যাচ্ছে মাঝে মাঝেই। গত বছর তো পা ভেঙ্গে খুব ভুগল ক’টা দিন। শরীরটা ভাল যাচ্ছেনা মায়ের একদমই। মনও না। এ বছর....থাক।

রুমুর ছেলেটা নাকি স্কুলে ভর্তি হবে। কি অবাক কান্ড। এই না সেদিন জন্মাল? সময় এত তাড়াতাড়ি যায়...আচ্ছা, লুপুর বিয়েতে মজা করব কিভাবে? আমাকে দেখলেই নিশ্চয়ই লেবু মেজাজ গরম করে চোখ পাকিয়ে তাকাবে! লুপুকে আমি এত দেখতে পারি, কিন্তু লেবুকে যে একটুও সহ্য হয়না! ! উফফ, যাবনা ওদের বিয়েতে! ধুর রিমির বিয়েটা পড়বে আমার থিসিসের আগে আগে। মাথায় একটা থিসিস বিষয়ক যন্ত্রনা নিয়ে আনন্দ করা যায় নাকি?? আহা, রিমিটা চলে গেলে একদম একা হয়ে যাব। আমার মন খারাপ হলে কাকে গিয়ে সব খুলে বলব? গভীর রাত পর্যন্ত যে করিডরে বসে থাকতাম, দিনে-রাতে ইচ্ছেমত যে দুম করে চলে যেতাম ওর কাছে...অনেক অনেক মন খারাপ হবে আমার। ইন ফ্যাক্ট লিখতে গিয়েই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাহলে এটাও থাক...

আমার মা আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু। অনেকের মা-ই হয়ত অনেকের বন্ধু থাকে, কিন্তু আমাকে যারা চেনে, তারা বুঝতে পারবে কেবল আমার মা আমার কতটা বন্ধু। মা-কে আমি পৃথিবীর যে কোন কিছুর চেয়ে, যে কারো চেয়ে বেশি ভালবাসি। এমনকি নিজের চেয়েও। এবছরটাতে আমি আমার মা’র মুখে হাসি ফোঁটাতে চাই, অন্য অনেক বছরের চেয়ে এবছরের চাওয়াটা আলাদা কিছু। আমি খুব চাই, খুব, খুব। একদম নির্ভেজাল, প্রানবন্ত হাসি...কতদিন মা’কে হাসতে দেখিনা অমন...

আর লিখবনা।

.......................