গত হপ্তায়। এক বন্ধুহঠাৎ জিজ্ঞেস করল, “ আচ্ছা, তোমাকে যদি একটা সুযোগ দেয়া হয় অন্য কোন সময়ে জন্ম নেবার, কোন সময়টা বেছে নেবে?” চিন্তায় পড়ে গেলাম। ভাবছি। তাই তো? কোন সময়ে জন্ম নিতাম?
গত কয়দিন সুনীলের “ সেই সময়" পড়লাম। এত ভাল একটা বই, অথচ আগে পড়া হয়নি। অনেকদিন পরে এত ভাললাগা নিয়ে কোন বই শেষ করলাম। ধন্যবাদ সুনীলকে। সেই সময়কার সমাজটাকে এত চমৎকার করে তুলে ধরেছে সুনীল, এক কথায় অসাধারন। যাই হোক, সেই সময়-- এর কথা কেন তুল্লাম বলি। বন্ধুর সাথে সেদিন আসলে এই বইটা নিয়েই কথা হচ্ছিল। এই বইটা মানে সেই সময়টা। তখনকার বিধবাদের কথা - বিশেষ করে বালবিধবাদের কথা পড়ে খারাপ লেগেছে ভীষণ। আগেও পড়েছি, কিন্তু এভাবে উপলব্ধি করতে পারিনি । সাম্প্রতিককালে ইন্ডিয়াতে বিধবাদেরকে নিয়ে একটা মুভি হয়েছে “ওয়াটার” । দারুন একটা মুভি। সে সময়কার বিধবাদের আরেকটা করুন চিত্র পাওয়া যায় এখানে। একটা উক্তি বলি এখানে। বই থেকেই ধার করা। “ হিন্দু বিধবাদের আত্মত্যাগেই হিন্দু ধর্ম টিকে আছে” - কি মর্মান্তিক উক্তি! যে নিদারুন আত্মত্যাগ বিধবাদের করতে হত তাতে এ উক্তি কোন বিধবার নিজের মুখ নিঃসৃত হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই, বরং যথার্থইউক্তিটি নিঃসৃত হয়েছিল কোন পুরুষের মুখ থেকেই। আরেকটা ব্যাপার পড়ে খারাপ লাগল খুব তা হল বিধবাদেরকে কাশী বা বেনারস পাঠিয়ে দেবার পর তাদের পরিবারের সদস্যরা অনেকটা যেন দায়িত্বমুক্ত হয়ে যেত। খবরাখবর নেয়ার কোন তাড়া দেখা যেতনা কারো মাঝে, এমনকি যে বিধবাদের কাউকে মন দেয়া - হোক না যতই গোপনে- নিষিদ্ধ ছিল, এমনকি ভয়ানক পাপ বলে বিবেচিত হত- তারাই কাশী গিয়ে কোন বাবুর রক্ষিতা হয়ে গেলেও কারো কোন মাথাব্যাথা ছিলনা! এইটুকু এইটুকু মেয়েরা যারা কিনা পৃথিবীকে বুঝে ওঠার আগেই বিধবা হয়ে যেত তাদের জন্য পৃথিবীর সব আনন্দ নিষিদ্ধ করে দেয়া হত! কি ভয়ানক অমানুষিক ব্যাপার। অন্যদিকে সে সমাজে পুরুষদের কথাই চিন্তা করা যাক।অকালবৃদ্ধ কি না কুমারী উদ্ধারের নামে ৮ বছরের বালিকাকে বিয়ে করতে পারত। তাদের ক্ষেত্রে কোন বাধা তো দুরের কথা, সবাই বরং বাহবা দিত এই উদ্ধার কার্যের কারনে। আর তাদের জন্য তো ২-৪ টা বাধা মেয়েমানুষ রাখা কোন ব্যাপারই ছিলনা, বরং না রাখাটাই মানহানিকর বলে মনে করত অনেকে। আচ্ছা, এ ভয়ানক প্রথাগুলো কারা চালু করেছিল? তাদের কারো কি ঘরে মেয়ে ছিলনা? কেউ প্রাণে ধরে নিজের মেয়েদের সর্বনাশ করতে পারে? হিন্দু ধর্ম নিয়ে আমার কোন বিরোধিতা নেই, তবে সে সময়কার প্রথাগুলো আমাকে অবাক করে শুধু... নাহ, যদিও সে সময়ে সমাজ সংস্কারের অনেক কাজ হয়েছে, একই সাথে শিল্প- সাহিত্য অনেক ক্ষেত্রেই প্রভূত উন্নতি হয়েছিল, আমি তবু সেই কলংকিত সমাজে জন্ম নিতে চাই না।
আমি যুদ্ধের মাঝেও জন্ম নিতে চাই না। আমরা কি ভাগ্যবান, যারা যুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন দেশে জন্ম নিয়েছি! একটা যুদ্ধ, আমি ভাবতেও পারি না। আমাকে ভীরু, কাপুরুষ যাই বলনা কেন....
তাহলে কবে জন্ম নিতাম?
ভাবছি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী অবস্থা নিয়ে বেশ অনেক লেখা পড়েছি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত জার্মানী বা রাশিয়া। কেমন টালমাটাল হয়ে পড়েছিল ওদের সব। যুদ্ধটুকু বাদ দিয়ে শুধু পরের অবস্থাটা দেখার জন্য একবার সে সময়টায় জন্ম নেয়া যেতে পারে! নাহ, জন্ম না, একবার ঘুরে আসা যায় বরং।
যাদুঘরে সেবার একটা কোরিয়ান মুভি দেখেছিলাম। নাম মনে নেই। দেখেছিলাম, ওরা গ্রামে যারা থাকে অনেকের মধ্যে এখনো গোষ্ঠীবদ্ধভাবে থাকার প্রবণতা দেখা যায়। গ্রামের সব ছেলেরা একসাথে ক্ষেতে কাজ করে, মেয়েরা একসাথেই সবাই মাঠে গিয়ে তাদের খাবার দিয়ে আসে। আর মৌসুম শেষে সব ফসল একসাথে তুলে রাখা হয়। সেখান থেকে গোষ্ঠীপতি সবার প্রয়োজন অনুযায়ী বিলি-বন্টণ করেন।সমাজতান্ত্রিক ব্যাবস্থা অনেকটা। কারো ব্যাক্তিগত ফসল নয়, ফসল সবার। ভাল লেগেছিল খুব। কাজ শেষে সবাই রাতে একসাথে বসে হৈ-হুল্লোড়, গান-বাজনা করছে। সব একসাথে। এমন একটা সমাজে জন্মাতে ইচ্ছে হয় মাঝে মাঝে।
আবার মাঝে মাঝে মনে হয় স্কটল্যান্ডের কোন গ্রামের মেয়ে হতাম যদি। উহু, স্কটল্যান্ডের কোন গ্রাম দেখিনি আমি। কিন্তু কল্পনায় দেখি। আমার ভাল লাগে.....
কিন্তু এগুলো তো নির্দিষ্ট কোন সময়ে জন্মাবার কথা হল না। তাহলে?
হুমম...ভাবছি...
Sunday, October 7, 2007
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment