ডিপার্টমেন্ট থেকে স্টাডি ট্যুরে যাব মনে হয় এ মাসের ৩০ তারিখ। পিছিয়ে অবশ্য জানুয়ারীর ২ তারিখও হতে পারে। নেপাল, দার্জিলিং। দেশের বাইরে যাওয়া হয়নি এর আগে কখনো। সেজন্য মনে মনে একটু উত্তেজিতই হয়ে আছি বলতে গেলে। এখন বেশ মনে হচ্ছে খুব মজা হবে, খুব মজা করব বন্ধুরা মিলে, গেলে কি হয় দেখা যাবে। হয়ত কিছুই মজা হবেনা, আমরা দেশে ফিরে শুধু ভান করতে থাকব যে আমরা অনেক এনজয় করে এসেছি, দেশে থাকা বন্ধুদেরকে কথায় কথায় বারবার বলব, “ তোরা তো জানিসনা কি মিসটা যে করলি!” হাঃ হাঃ!
দেশ-বিদেশে ঘোরাঘুরির অনেক শখ আমার। সাধ আছে, সাধ্য নেই। সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় যেদিন ঘটবে সেদিন হয়ত আর ইচ্ছেটা থাকবেনা। মনটা মরে যাবে কি? হয়ত, আবার হয়ত না। মাঝে মাঝে মনে হয় কি হবে ছাতামাথা এত লেখাপড়া করে? সেই চাকরি, সংসার, আর একঘেঁয়ে জীবন। এর চেয়ে যদি ইচ্ছেমত কোথাও বেরিয়ে পরতে পারতাম! জীবনের একেকটা দিন যদি একেক রকম হত! খুব ছেলেবেলা থেকেই আমাদের চারপাশে একটা ছক কেটে দেয় আমাদের পরিচিত মানুষগুলো। আমাদেরকে শেখানো হয় এই ছকের বাইরে যেন না যাই। সব মেনে যারা সেই ছকে বাঁধা জীবন কাটাতে পারে তারা বাবা-মায়ের বাধ্য ছেলেমেয়ে। সবার কাছে আদর্শ। আর যেই তুমি এক পা বাইরে বেরিয়েছ অমনি সবাই হা হা করতে করতে ছুটে আসবে তোমাকে রুখে দিতে। অমন অবাধ্য হবার ইচ্ছেটাকে দমিয়ে তুমি যদি সবার মন রেখে চলতে পার তবেই তুমি সার্থক। জান লাবন্য, ছোটবেলা থেকে খুব চাইতাম একটা ভাল মেয়ে হতে। ভাল কি সেই সংজ্ঞার কথা ভাবতামনা। শুধু এটাই ভাবতাম - ভাল হতে পারছি তো? আর এখন নিজেকেই প্রশ্ন করি এত চেষ্টা করেও আদৌ কি সবার কাছে ভাল হতে পেরেছি? পারিনি। তাহলে? আজকাল আমার খুব অবাধ্য হতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে যা খুশি তাই করার। মুখের কথায় রাজা উজির মেরে ফেলি এক নিমেষেই, কিন্তু কাজের বেলায় এখনো সেই পুরনো সংস্কার রয়ে গেল। আমার আর অবাধ্য হওয়া হলনা।
Sunday, December 23, 2007
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
4 comments:
সমালোচকের দৃষ্টি দিয়ে দেখে বলছি লেখার ভঙ্গী আর গাঁথুনি অনেক ভাল। আর পাঠক হিসেবে বলব কথাগুলো খুব সত্যি। জন্মের সাথে সাথে পায়ে এঁটে দেয়া অর্গলটা ভেঙে ছুটে বেরোতে আমার নিজেরও খুব ইচ্ছা হয়। কিন্তু আসলেই হয়ত ভাল মেয়ে ভাল মানুষ এসব হবার চেষ্টা করা ছাড়া আর কিছুই করা হবে না। এমনকি খাঁচার দরজা খুলে দিলেও বহুদিনের পোষা পাখির মত ঝিম মেরে ভেতরেই বসে থাকব আমরা। লেখার জন্য ধন্যবাদ।
শুকতারা, মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
obadhdho hoya bolte ki bujachcho?
@রাকিবঃ 'অবাধ্য' - কথাটার মানে তোমার না বোঝারই কথা! বোঝাতে পারবনা আসলে..
Post a Comment