শুরুটা যে কিভাবে করি বুঝতে পারছিনা! মাথায় কিছুই আসছে না। এমনি তো দিব্যি কতই লিখতে পারি। ক্লাশে যখন ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে যেতে চায়, ঘুম তাড়াতে খাতায় কত লাইন আঁকিবুকি করি না? “আজ আকাশ মেঘলা বলে আমার মন ভাল নেই”, “আসার সময় চা খাওয়া হয়নি, ক্লাশ শেষে একবার আলমের দোকানে যাওয়া লাগবে” আর নয়ত পাশের ডেস্কে ছোট চিরকুট- “ স্যারের দিকে অমন হা করে কি দেখছিস?” নয়ত “ স্যারকে কিন্তু নীল রঙ্গে বেশ মানায় “ আরো কত কি! আর রান্নার অনুষ্ঠানগুলোর সময় মা যখন চেঁচিয়ে ডাকে- “ খাতাটা নিয়ে আয় তো! “ দৌড়ে খাতা নিয়ে এসে চটজলদি লিখতে পারি না রেসিপিগুলো ? পারি তো! তবে? শুধু সমস্যা হয়ে যায় এক্সাম পেপারে এন্সারগুলো লেখার সময়, আর যখন কেউ বলে ‘লেখ!’ ঠিক এ সময়গুলোতে মাথা যেন পুরো ফাঁকা হয়ে যায়। এক্সামের সময় তো ঠিক ঠিক লিখতে থাকি যা মনে আসে তা ই, কিন্তু যখনই টিচারগুলো পুরো হল রুম বাদ দিয়ে আমার ডেস্কের সামনে এসে দাঁড়ায়, মাথার ভেতরটা তো পুরোপুরি গড়ের মাঠ হয়ে যায় ই, সেই গড়ের মাঠে অদ্ভুত সব চিন্তা এসে হাজির হয়। লেখা থামিয়ে আমি উদাস হয়ে তখন এদিক ওদিক তাকাতে থাকি আর ভাবতে থাকি হলরুমের এতজনকে বাদ দিয়ে ঠিক কোন কারণে আমার পাশে এসে দাঁড়ালেন তিনি। হতে পারে আমার চেহারার মধ্যে একটা চোর চোর ভাব আছে, কিন্তু দূর থেকে আমাকে দেখলে কি চলতনা? ঠিক সে সময়ে আমার দেখতে ইচ্ছা করে পাশের টেবিলের জন আজকে কোন জামা পড়ে এসেছে, কয়জন গার্ড দিচ্ছেন আমাদেরকে, নাহয় হঠাৎ ভীষণ হাসি পেতে থাকে কোন তুচ্ছ জিনিস দেখেও। আমার হাবভাব দেখে টিচার ততক্ষনে মোটামুটি শিওর হয়ে যান যে আমার মাথায় কিঞ্চিত সমস্যাআছে, হতাশ হয়ে পাশে থেকে চলে যান- -আমি আবার ভদ্রমানুষ হয়ে ইচ্ছেমত খাতায় আঁকিবুকি করতে শুরু করি। আহা, নিজেকে নিয়ে এত হতাশ হচ্ছি কেন? মনে পড়েছে আমার, ছোটবেলায় আমি লিখতাম তো! মা যখন বলত, “ নানুর কাছে একটা চিঠি লেখ ত দেখি” - আমি আর আমার বোন বসে যেতাম খাতা-পেন্সিল নিয়ে। আমি যখন ঘন্টা আধেকের চেষ্টায় আকাশ পাতাল ভেবে সবে দু’লাইন লিখেছি, “ নানু, আমার সালাম নিবেন। আমরা সবাই ভাল আছি।” আমার বোন আমার দিকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টি হেনে চিঠি শেষ করে উঠে যেত। কত মিনতি করতাম, “ আপু, একবার দেখি না। আমি ওরকম লিখবনা তো!” আমার কথা কানে না তুলেই খাতাটা লুকিয়ে চলে যেত। ও চলে গেলে ওর ডেস্ক ঘেঁটে খুঁজে বের করে ফেলতাম চিঠিটা। এরপর আর কি? দশ মিনিটের মাথায় গোটা গোটা অক্ষরে আমার চিঠি লেখাও শেষ হয়ে যেত! আজকাল আর অমন সুন্দর সুন্দর চিঠি লেখা হয়না। চিঠি লেখার কালচার তো উঠেই গেছে। তবে সেদিন খুব অদ্ভুতভাবে একটা চিঠি পেয়েছিলাম! এত ভাল লাগল, বোনটাকে মিস করছিলাম খুব। ও থাকলে তো ওকে দিয়ে একটা উত্তর লিখিয়ে নিতে পারতাম। একদম কিছু না লিখলে খারাপ দেখায় ভেবে শেষমেশ ছোট করে যা লিখলাম তা হল “ তোমার চিঠি পেয়ে আমি খুব খুশী হয়েছি। কিন্তু আমি যে লিখতে পারিনা কিছু!” যাকে লিখেছি সে আমার উত্তর পেয়ে কতটুকু খুশী হয়েছে কে জানে, কিন্তু আমার খুব ফুরফুরে লাগছে যে কারোটা না দেখেও আমি অবশেষে লিখতে পেরেছি! কবে যেন এক লেখকের সাক্ষাৎকারে পড়েছিলাম - “ লেখাটা হচ্ছে প্রসব যন্ত্রণার মত। যখন লিখতে ইচ্ছে হয়, লেখাটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত শান্তি পাওয়া যায় না।” তাই ভাবছি জোর করে তো আর প্রসব যন্ত্রণা আনা যায় না! তাই লেখালেখির দুরূহ চেষ্টা এবেলায় না করাই ভাল। অবশ্য পড়তে ভাল লাগে আমার। মোটামুটি সবই পড়ি। মাঝে মাঝে কতক লেখা পড়ে অবাক হয়ে ভাবি, “ আরে, আমিও তো এভাবেই ভেবেছিলাম, তবে আমি কেন অত সুন্দর করে গুছিয়ে লিখতে পারলাম না?” লেখাটা একটা বিরাট গুণ আসলেই। আমার মত অভাজন কোন সাহসে যে এতক্ষন লিখে যাচ্ছে তাই ভাবছি।
অনেকগুলো লাইন লিখে ফেললাম!
এবার থামা উচিৎ!
Friday, May 16, 2008
বৃষ্টি, আমি ও বাস্তবতা..
যখন লিখছি, বৃষ্টি হচ্ছে। পুরো ঝমঝম বৃষ্টি যাকে বলে! সামনে পরীক্ষা। পি.সি. ছেড়ে উঠে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। দেখলাম আশেপাশের সব বাসায় সব জানালা গুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দুদ্দাড় করে। জানালার ধারে আমার পড়ার টেবিলটা ভিজে একসার। হঠাৎ খেয়াল হল বই খাতাগুলো তো ভিজে যাচ্ছে! সরিয়ে নিলাম ওগুলো, তবু জানালা খোলাই রইল। বেশিরভাগ মেয়ের মত আমিও খানিকটা বৃষ্টি বিলাসী। কিন্তু একয়দিন পড়াশুনার চাপে বৃষ্টি দেখা হয়নি সেভাবে। অবশ্য শেষকয়দিন বৃষ্টিটা রাতে পড়েছে বলেই হয়ত শুধু অনুভব করছি, আর শব্দ শুনেছি। আজ হঠাৎ চারদিক কালো করে বৃষ্টি আসল, আর বসে থাকতে পারলামনা। দেখতে দেখতে কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম, চেনা বাস্তবতা থেকে খানিকটা দূরে। একটুখানি অবসর। হঠাৎ কি মনে হতে পেছনে ফিরতেই পি.সি-র দিকে চোখ পড়ল। হতাশ হাসি হেসে জানালা থেকে মুখ ফিরিয়ে পড়তে বসলাম।
Subscribe to:
Posts (Atom)