Saturday, October 27, 2007
দুষ্টু, কিন্তু বেশী নয়!
সামনে পরীক্ষা বলে আজকাল বাচ্চাগুলোর দেখাই পাওয়া যাচ্ছেনা। পিয়াল - পুশনও মনে হয় ব্যাস্ত। আসা যাওয়ার পথে মাঝে মাঝে ওদেরকে যা ও দেখি তা ও কোন না কোন টিচারের বাসায় যাচ্ছে। মিকিও সবাইকে চেনে এখন। তাই আর চিৎকারও করেনা। সব চুপচাপ।
Friday, October 26, 2007
যায়- যায় বেলা..
বেলা বাড়তে থাকলে বাইরে রাস্তায় ফেরীওয়ালাদের হাঁক-ডাক শুরু হয়ে যায়। এই হাঁক ডাক না শুনলে আজকাল ভালই লাগেনা। মনে হয় দিনটাই যেন কেমন ম্যারম্যারা। খুব খেয়াল করে শুনে দেখ, তুমিও আমার মত উপভোগ করতে পারবে। ভাল লাগবে। ওদের কাউকে দেখিনা, শুধু শুনি - “এই যে লেপ-তোষক....” বা “শব্জী লাগবে...? তাজা তাজা শব্জী...” । আর ওই যে পাশের বাড়ির জানালায় বুড়ো মত যে দাদু বসে থাকে মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে- সবটাতেই ভীষণ প্রাণ খুঁজে পাই। মনে হয় বেঁচে থাকাটাই খুব সুখের।
আর সবচেয়ে ভাল লাগে অলস দুপুরগুলো। দুপুরে ভাত টাত খেয়ে যখন কোন কাজ থাকেনা, একটা গল্পের বই হাতে নিয়ে বা কিছুই না করে শুধু চুপ-চাপ শুয়ে থাকা...আর ভাবতে থাকা...। রোদটা যখন একটু থিতিয়ে আসে, মাঝে মাঝে কা-কা শব্দ, আর খুব মাঝে মাঝে দু’একটা ফেরীওয়ালার ডাক- আমার শুধু ভাল লাগতে থাকে। ছোটবেলায় এই দুপুরগুলোতে বসে বসে ক্লাশের হোম-ওয়ার্ক করতাম। মা শুয়ে থাকত, পাশে বসে আমার পড়াশুনা চলত। দুপুরে ঘুমানোর অভ্যাস আগে ছিলইনা বলতে গেলে, এখন ছুটি-ছাটা থাকলে মাঝে মাঝে ঘুমিয়ে পড়ি। এই ভাল লাগা দুপুরগুলোতে ঘুমিয়ে গেলেই খালি আফসোস হয়- “আহা, সময়টা নষ্ট হল” । আর বিকেলগুলো? ছেলেবেলায় তো সারাক্ষন মুখিয়ে থাকতাম বিকেলের জন্য। কখন বিকেল হবে, খেলতে যাব। আর বড়বেলায় বিকেলগুলোয় কিছু করার নেই। গান শুনি। ওহো বলাই হয়নি। গান শুনতে খুব ভাল লাগে আমার। স্লো মিউজিক পছন্দ করি সবসময়। ধুম-ধাড়াক্কা গান একটু শুনলেই মাথা ধরে যায়। তাই বলে শুধু রবিবাবুর গান শুনি তা কিন্তু না! ধিমে তালের যে কোন গানই ভাল লাগে। তবে আজকাল নতুন কিছু রিমিক্স বের হচ্ছে যে মাঝে মাঝে ওগুলোও শুনছি। যে যাই বলুক, আমার মনে হয় আমাদের মিউজিকের মান অনেক ভাল হচ্ছে ইদানিং। আগে রাস্তায় বের হলেই যেখানে হিন্দী সিনেমার গান শোনা যেত চারদিকে, এখন তা বেশ কমে গেছে। সে জায়গায় সবাই শুনছে টুটুল, হাবীব, তাহসান বা আমাদেরি অন্য কারো গান।
আর রাতগুলোতে শুধু অপেক্ষা করি কখন পরের দিন আসবে। নতুন একটা দিন। পুরনো সব কাজ। পুরনো সব অভ্যাস।
Wednesday, October 24, 2007
দ্বিতীয় সত্ত্বা
হুম। ভাবছি।
...
...
...
ছোটবেলায়। স্কুলের এক স্যার আমাকে ডাকতেন লাবন্য বলে। তার কিছুদিন আগে ‘শেষের কবিতা’ পড়েছি মাত্র। লাবন্য আমার কোন প্রিয় চরিত্র না, অমিত-লাবন্যের অতসব কঠিন কঠিন কথা বোঝার বয়সও হয়নি তখন। স্যার আমাকে লাবন্য ডাকলে কেন যেন সেই লাবন্যের কথা মনে হত। এটা সে সময়ের কথা যখন স্কুলের টিচারদের সাথে খুব সহজ সম্পর্ক ছিলনা আমাদের, তখন তাদেরকে ভয়ই করতাম বেশী। তবু সাহস করে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম,” স্যার, আপনি তো আমার নাম জানেনই, তাহলে লাবন্য ডাকেন কেন?” উনি হেসে বলেছিলেন,” কেন, তোর নামটা পছন্দ না বুঝি? যা, আর ডাকবো না!” বললে কি হবে? যথারীতি উনি আমাকে পুরো স্কুলজীবনে লাবন্যই ডেকে গেছেন। আরেকদিন বলেছিলেন,” তোর নামটা মনে থাকেনা, বরং তোকে দেখলে এ নামটাই মনে আসে কেন জানি।” এরপর আর কখনো নাম নিয়ে আপত্তি করিনি আমি। বেশ কয়বছর পরে স্যারের সাথে দেখা হলে স্যার যখন ‘লাবন্য!’ বলে ডেকে উঠেছিলেন কেন যেন খুব ভাল লেগেছিল!
তাহলে কি দাঁড়াল?
চিঠির সম্বোধন তাহলে লাবন্য-ই হবে?
হোক তবে।
অন্তত নতুন কিছু মাথায় না আসা পর্যন্ত এ নামটাই থাক।
লাবন্য আমার দ্বিতীয় সত্ত্বা। আমি যা না, লাবন্য তা-ই।
আমি যখন ভরা বর্ষা, লাবন্য তখন শরতের রোদ।
আমি যখন রোদেলা দুপুর, লাবন্য তখন ঝিরঝিরে বিকেল।
Thursday, October 18, 2007
একজন বিপ্লবী - চে গুয়েভারা
I believe in the armed struggle as the only solution for those people who fight to free themselves, and I am consistent with my beliefs.
Many will call me an adventurer- and that I am, only one of a different sort: one of those who risks his skin to prove his platitudes.- চে গুয়েভারা
কয়দিন ধরে মাথায় চে গুয়েভারা-র কথা ঘুরছে। সেদিন এক বন্ধুর বাসায় উনার ছবি দেখার পর থেকে মাথা থেকে তাড়াতে পারছিনা। আমি সবসময় চে-র একটা ছবিই দেখেছি। টি-শার্টের গায়ে যেটা থাকে সবসময়, বন্ধুর বাসায় আরো কিছু ছবি দেখে সুপুরুষ এই মহান মানুষটাকে নিয়ে কৌতুহল বেড়ে গেল হঠাৎ। বাসায় এসে Encarta খুলে বসলাম। উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী পড়লাম। ছোটবেলায় এ মানুষটার নাম শুনলেই কেন জানি মনে হত বুঝি চেকশ্লোভাকিয়ার কেউ হবে, বড় হয়ে জেনেছিলাম উনি আর্জেন্টাইন। সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন অবহেলিত মানুষদের মুক্তির জন্যে।
পুরো নাম আর্নেস্ট গুয়েভারা। ল্যাটিন অ্যামেরিকান এই গেরিলা নেতা বিশ্বাস করতেন বিপ্লব ছাড়া ল্যাটিন অ্যামেরিকার সামাজিক বৈষম্যদূরিকরণ অসম্ভব। কিউবান বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বিপ্লবে সাহায্যের জন্য এবং জনসমর্থন বাড়ানোর জন্যে ম্যাক্সিকো আসলে তার সাথে দেখা হয়ে যায় চে-র।একই আদর্শে বিশ্বাসী দু’জন সেই থেকে একই পথযাত্রী। বিপ্লব, বিদ্রোহ। কিউবাতে ক্যাস্ট্রোর গেরিলা যুদ্ধে তার বিশেষ অবদানের কারণে ক্যাস্ট্রো ক্ষমতায় গেলে চে- কিউবার শিল্প মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। চে বিশ্বাস করতেন, তৃতীয় বিশ্বের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন আসতে পারে কৃষকদের বিদ্রোহে। এ বিশ্বাসে ১৯৬৫ সালে কিউবা থেকে হঠাৎ চলে যান বলিভিয়ায়। সেখানে কৃষক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিতে। কিন্তু দুর্ভাগ্য। ১৯৬৭ সালে এক ব্যর্থ মিশনে, ব্যর্থ অপারেশনে মারা পরেন তাঁর সহযোগী বেশ কিছু যোদ্ধা সহ।
প্রায় ত্রিশ বছর পরে অবসরপ্রাপ্ত এক বলিভিয়ান সেনা অফিসার খোঁজ জানান চে-র শেষ সমাধির। আট-দশজন সাধারণ মানুষের মত তাঁকে সমাহিত করা হয়েছিল বলিভিয়ার এক গ্রামে। একি সাথে সমাহিত হয়েছিল তাঁর আরো তিন সহযোদ্ধা। অবশেষে অনেক পরীক্ষা- নিরিক্ষার পর চে-র লাশ সনাক্ত করা হয়।অনেক পরীক্ষা- নিরিক্ষার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উদ্ধার করা লাশটির ব্যাপারে আরো বেশী নিশ্চিত হতে পেরেছিলেন মৃতদেহের দু’টো হাতই কাটা দেখে। বলিভিয়া সরকার চে-গুয়েভারার মৃত্যুর পর প্রমাণস্বরুপ তাঁর হাত দু’টো কেটে কিউবায় পাঠিয়ে দেয়। যদিও অনেকে এখনও বলেন এটা স্রেফ একটা প্রপাগান্ডা ছাড়া আর কিছুই নয়। অনেকেই এখনো বিশ্বাস করেন না লাশটি চে-র ছিল বলে।
অবশেষে ত্রিশ বছর পরে এ বিপ্লবী নেতা ফিরে আসেন তাঁর প্রিয় কিউবাতে। তাঁকে সমাহিত করা হয় সান্তা ক্লারায়, যেখানে তিনি বিদ্রোহ পরিচালনা করেছিলেন প্রাক্তন কিউবান শাসক বাতিস্তার বিরুদ্ধে। সমাহিত করা হয়েছিল তাঁর ত্রিশতম মৃত্যুবার্ষিকিতে।
বি. দ্রঃ খুব সংক্ষিপ্ত জীবনী পড়েছি আমি চে-গুয়েভারার। এর মাঝে কোন ভুল তথ্য যদি দিয়ে থাকি তাহলে আমি বিশেষভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
Tuesday, October 9, 2007
ওপেন্টি বাইস্কোপ, নাইন টেন টেস্কোপ!
এবার বর্ষাতেও তেমন বৃষ্টি হয়নি। আবহাওয়াটাই কেমন যেন হয়ে গেছে আজকাল। সারা বছর শুধু গরম আর গরম। বর্ষাকালে বৃষ্টি নেই, এমনকি শীতকালে শীতটাও ঠিকমত পড়েনা। মনে আছে, ছোটবেলায় স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে দাদুবাড়ী আর নানুবাড়ী বেড়াতে যেতাম সবাই মিলে। ছোটবেলা থেকেই আমার ঠান্ডার ধাতটা একটু বেশিই । গরম কাপড়ের উপর আরো গরম কাপড় চড়িয়ে দিত মা। গলায় থাকত নানুর বোনা উলের মাফলার, তাও ছিল আবার বেশ ফ্যাশনেবল।মাথায় উলের টুপি, আর পায়ে মোজা তো বাধ্যতামুলক। এত্ত এত্ত শীতের কাপড় পরে সকালে উঠোনে বসে থাকতাম।ধান ভানা দেখতাম। দাদু বাড়িতে আমাদের চারপাশে তেমন কোন বাড়ি ছিলনা, সবচেয়ে কাছের বাড়িটাও ছিল বেশ দূরে। আমরা ছোটরা মিলে ইচ্ছেমত দস্যিপনা করতাম। আর ঢাকা থেকে এসেছি বলে বাড়তি খাতির তো থাকতোই। মায়ের উপর রাগ হত আমাকে এত্ত এত্ত ভারী কাপড় পরিয়ে রাখতো বলে। এগুলো পরে সবার মত ছুটোছুটি করতে পারতাম না যে, তাই মায়ের চোখের আড়ালে গিয়েই চটপট খুলে ফেলতাম টুপি, মাফলার, আর মোজা। ইচ্ছেমত লাফালাফি করে যখন ওগুলো হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরতাম, আর মায়ের সামনে গিয়ে পড়তাম- কি যে বকুনি খেতে হত! ইস, কতদিন তেমন মজা করা হয়না...
আর নানুবাড়ি গিয়ে নানুর কাছে আর কিছু খাবার আবদার না করলেও সকালে খোলাজালি পিঠা (রুটির মত এক ধরনের পিঠা ) খাওয়ার আবদার করতে ছাড়তামনা। সেই সকালগুলোতে নারিকেল-গুড় দিয়ে পিঠা খাওয়ার স্মৃতি - নাহ, ভোলার নয়। খেজুরের রস খেতে চাইতাম না বলে নানুর সেই যে কত কসরত আমাকে রস খাওয়ানোর জন্যে! বড়বেলায় একবার নানুবাড়ি গিয়ে খেয়ে এসেছিলাম ফেনা ওঠা সেই রস - ওহ, অসাধারণ। আগে খাইনি বলে খুব আফসোস করেছিলাম।
ঢাকায় ছোটবেলার তেমন কোন শীতের স্মৃতি নেই বললেই চলে। ওহো মনে পড়েছে। পরীক্ষা শেষে দাদুবাড়ি যাওয়ার আগে কিছুদিন তো ঢাকায় থাকতাম। তখন প্রতিদিন রাতের বেলা সব বন্ধুরা মিলে খেলতে বের হতাম। রাতের বেলা টিলেস-পিলেস ( হা হা, বড় হবার পর ঠিক নামটা শিখেছি। কিন্তুআমাদের কাছে সবসময় খেলাটা টিলেস-পিলেস ই থাকবে! ) খেলতাম । সবার সাথে সবাই সোয়েটার পাল্টা-পাল্টি করে নিতাম যেন চোর আমাদেরকে এক ঝলক দেখে চিনতে না পারে।একেত রাতের বেলা, তার ওপর সোয়েটার ও পালটানো - আহারে, চোর বেচারার জন্যে এখন মায়াই লাগে। যে চোর হত সেদিন সারা খেলায় তাকে চোর হয়েই থাকতে হত।
বৃষ্টির কথা লিখতে গিয়ে কি যে সব হাবিজাবি ছোটবেলার কথা লিখতে শুরু করলাম। নস্টালজিয়া পেয়ে বসেছে হঠাৎ।
ছোটবেলা থেকেই ঠান্ডার ধাতটা বেশী ছিল বলে বৃষ্টিতে তেমন একটা ভেজা হতনা। আবার একদমই যে ভেজা হতনা তাও না কিন্তু। ঝুম বৃষ্টিতে ঘর থেকে বন্ধুরা বের হয়ে গেলে মাকে খুব করে ধরতাম একটু বাইরে যেতে দেয়ার অনুমতির জন্যে। খুব করে বলার পরেও যদি রাজি না হত তখন শেষ অস্ত্র হিসেবে করুনমুখে বলতাম - “ মা, বৃষ্টিতে না ভিজলে যে আমার ঘামাচির যন্ত্রণাটা বেড়ে যায়!” আর যায় কোথায়? মাও রাজি হয়ে যেত। কিন্তু শুধু অল্প সময়ের জন্য ভিজতে অনুমতি মিলত। তাতেই সই আমার। একবার বের হতে পারলে আর ঘরে কে ফেরে সময়মত? বেশী দেরী করে ফেললে প্রতিবারই সেই একই অজুহাত- “ বাইরে বৃষ্টির তোড় কমে গিয়েছিল যে! সারা গায়ে পানি লাগাতে হবেনা?” হায়রে ছেলেবেলা। হায়রে দস্যিপনা।
আর বড়বেলার কথা বলতে গেলে দুটো ঘটনার কথা না বললেই চলেনা। এক ছিল ইউনিভার্সিটিতে নতুন ভর্তি হবার পর ডিপার্টমেন্টের ছাদে বৃষ্টিতে ভেজা, আরেকদিন চারুকলায় - পৃথিবী তোলপাড় করা বৃষ্টি নেমেছিল সেদিন। আর এখন তো মাঝে মাঝেই বৃষ্টির মাঝে ছাতা নিয়ে বন্ধুদের সাথে ডিপার্টমেন্ট থেকে বের হয়ে চা খাওয়া নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জীবনটা আসলেই সুন্দর।
আহা....
Monday, October 8, 2007
ভালবাসা শুনেছি যা...
একটা গান শুনছি। নিখাদ ভালবাসার গান। ভালবাসা নিয়ে কিছু লেখা যায় কি না ভাবছি।
আচ্ছা, যাই হোক - মাথায় যা আসছে তা- নিয়েই লিখি।
“ আমি জোছনা হব,
জোছনা হব,
ভরা জোছনার এ রাতে”
-ফাহমিদা নবীর গাওয়া গান। শুনতে ভাল লাগছে।
ভালবাসা কি? যুগ যুগ ধরে মানুষ ভালবেসে আসছে, এরপরও এ প্রশ্ন আসলেই অবান্তর। মানুষ কেন ভালবাসে? সহজ উত্তর- ভালবাসতে ইচ্ছে করে, তাই বাসে! আর আমি কি ভাবছি ভালবাসা নিয়ে? হুমমম, বলি। এ অনুভূতিটা আসলেই চমৎকার। বুক ভরে যায়- এত চমৎকার। একজন মানুষ, একজন পুরো মানুষ - পুরোপুরিই আমার। কারো হাসি, কান্না, ভাললাগা সবকিছুই শুধু আমাকে ঘিরেই আবর্তিত- এই অনুভুতিটা আসলে ভাষায় বর্ণনা করার মত না। ভালবাসি- শুধু ছোট্ট এ কথাটাই মনের মাঝে কি দারুন সুখ এনে দিতে পারে, আর দিতে পারে শক্তি। ভালবাসার শক্তি।
ভালবাসতে বাসতে কখনো কখনো নিঃস্ব হয়ে যেতে ইচ্ছে করে...
ভালবাসি।
ভালবাসি।
ভালবাসি।
Sunday, October 7, 2007
বিবর্ণ হতাশা...
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন জ্যাম থাকবে - জেনেই ভর্তি হয়েছি। কিন্তু বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে হতাশ হয়ে পড়ছি দিনদিন। জীবন থেকে খুব মুল্যবান কিছু সময় হারিয়ে যাচ্ছে। কিছু করার নেই। নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগে। এ অবস্থা শুধু আমার একার না, হাজার হাজার ছাত্র- ছাত্রীর। এবারের গন্ডগোলের কথা ভিন্ন। এবার না হয় সংগত কারণেই ভার্সিটি বন্ধ। এবং এক্ষেত্রে আমি পুরোপুরি ছাত্রদের সাথে একাত্ব, যদিও শেষদিকে অন্যদের হস্তক্ষেপে ব্যাপারটা অনেকটা তিক্ত হয়ে গিয়েছিল, তবু যতক্ষন ছাত্ররা আন্দোলন করেছে তাদের সাথে একাত্ব থেকেছি, কিন্তু অন্য সময়গূলোতে? ছাত্রনামধারী কিছু অছাত্রেরহাতে গোটা ইউনিভার্সিটি জিম্মি! স্বীকার করি একসময় এদেশের রাজনীতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। কিন্তু এখন তো অবস্থা সেরকম নয়! আমাদের নিজেদের দেশ, আমাদের নিজেদের সরকার। সেক্ষেত্রে ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তাটা কি? শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য, এছাড়া আর কি ই বা কারণ থাকতে পারে। মুখ্যত ছাত্র রাজনীতির কারণেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন জ্যাম আছে - এ কথা কে না জানে? তবু কেন সংশ্লিষ্ট কারো টনক নড়েনা? তাদের ছেলেমেয়েরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ণ করছেনা বলে? একেকজন ছাত্র নেতা কত বছর তার ছাত্রত্ব ধরে রাখে তার একটা জরীপ চালালে মন্দ হতনা। শুধু নিজেদের ছাত্রত্ব বজায় রাখার জন্য হাজার হাজার ছাত্রের জীবন নিয়ে জুয়া খেলা চলছে দিব্যি। যে ছেলেটার উপর তার পুরো পরিবার ভরসা করে আছে যে সে পাশ করে কোন চাকরীতে প্রবেশ করলে কৃষক বাবা বিশ্রাম পাবে- সেই ছেলেটার জীবন থেকে এই সময়গুলো কেড়ে নেবার অধিকার আমাদের রাজনীতিবিদদের কে দিয়েছে?
এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরই প্রথমদিককার সময়ে শুনেছিলাম আইন করে বন্ধ করে দেয়া হবে ছাত্র- রাজনীতি। খুশী হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আমাদের ছাত্র জীবনে না হলেও হয়ত ছোট বোনটার ছাত্রজীবনে হয়ত এর সুফল দেখতে পাব। কিন্তুবিধি বাম, এর কোন বাস্তব প্রয়োগএখন পর্যন্ত দেখছিনা।
যদি ফের জন্ম নিতাম
গত কয়দিন সুনীলের “ সেই সময়" পড়লাম। এত ভাল একটা বই, অথচ আগে পড়া হয়নি। অনেকদিন পরে এত ভাললাগা নিয়ে কোন বই শেষ করলাম। ধন্যবাদ সুনীলকে। সেই সময়কার সমাজটাকে এত চমৎকার করে তুলে ধরেছে সুনীল, এক কথায় অসাধারন। যাই হোক, সেই সময়-- এর কথা কেন তুল্লাম বলি। বন্ধুর সাথে সেদিন আসলে এই বইটা নিয়েই কথা হচ্ছিল। এই বইটা মানে সেই সময়টা। তখনকার বিধবাদের কথা - বিশেষ করে বালবিধবাদের কথা পড়ে খারাপ লেগেছে ভীষণ। আগেও পড়েছি, কিন্তু এভাবে উপলব্ধি করতে পারিনি । সাম্প্রতিককালে ইন্ডিয়াতে বিধবাদেরকে নিয়ে একটা মুভি হয়েছে “ওয়াটার” । দারুন একটা মুভি। সে সময়কার বিধবাদের আরেকটা করুন চিত্র পাওয়া যায় এখানে। একটা উক্তি বলি এখানে। বই থেকেই ধার করা। “ হিন্দু বিধবাদের আত্মত্যাগেই হিন্দু ধর্ম টিকে আছে” - কি মর্মান্তিক উক্তি! যে নিদারুন আত্মত্যাগ বিধবাদের করতে হত তাতে এ উক্তি কোন বিধবার নিজের মুখ নিঃসৃত হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই, বরং যথার্থইউক্তিটি নিঃসৃত হয়েছিল কোন পুরুষের মুখ থেকেই। আরেকটা ব্যাপার পড়ে খারাপ লাগল খুব তা হল বিধবাদেরকে কাশী বা বেনারস পাঠিয়ে দেবার পর তাদের পরিবারের সদস্যরা অনেকটা যেন দায়িত্বমুক্ত হয়ে যেত। খবরাখবর নেয়ার কোন তাড়া দেখা যেতনা কারো মাঝে, এমনকি যে বিধবাদের কাউকে মন দেয়া - হোক না যতই গোপনে- নিষিদ্ধ ছিল, এমনকি ভয়ানক পাপ বলে বিবেচিত হত- তারাই কাশী গিয়ে কোন বাবুর রক্ষিতা হয়ে গেলেও কারো কোন মাথাব্যাথা ছিলনা! এইটুকু এইটুকু মেয়েরা যারা কিনা পৃথিবীকে বুঝে ওঠার আগেই বিধবা হয়ে যেত তাদের জন্য পৃথিবীর সব আনন্দ নিষিদ্ধ করে দেয়া হত! কি ভয়ানক অমানুষিক ব্যাপার। অন্যদিকে সে সমাজে পুরুষদের কথাই চিন্তা করা যাক।অকালবৃদ্ধ কি না কুমারী উদ্ধারের নামে ৮ বছরের বালিকাকে বিয়ে করতে পারত। তাদের ক্ষেত্রে কোন বাধা তো দুরের কথা, সবাই বরং বাহবা দিত এই উদ্ধার কার্যের কারনে। আর তাদের জন্য তো ২-৪ টা বাধা মেয়েমানুষ রাখা কোন ব্যাপারই ছিলনা, বরং না রাখাটাই মানহানিকর বলে মনে করত অনেকে। আচ্ছা, এ ভয়ানক প্রথাগুলো কারা চালু করেছিল? তাদের কারো কি ঘরে মেয়ে ছিলনা? কেউ প্রাণে ধরে নিজের মেয়েদের সর্বনাশ করতে পারে? হিন্দু ধর্ম নিয়ে আমার কোন বিরোধিতা নেই, তবে সে সময়কার প্রথাগুলো আমাকে অবাক করে শুধু... নাহ, যদিও সে সময়ে সমাজ সংস্কারের অনেক কাজ হয়েছে, একই সাথে শিল্প- সাহিত্য অনেক ক্ষেত্রেই প্রভূত উন্নতি হয়েছিল, আমি তবু সেই কলংকিত সমাজে জন্ম নিতে চাই না।
আমি যুদ্ধের মাঝেও জন্ম নিতে চাই না। আমরা কি ভাগ্যবান, যারা যুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন দেশে জন্ম নিয়েছি! একটা যুদ্ধ, আমি ভাবতেও পারি না। আমাকে ভীরু, কাপুরুষ যাই বলনা কেন....
তাহলে কবে জন্ম নিতাম?
ভাবছি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী অবস্থা নিয়ে বেশ অনেক লেখা পড়েছি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত জার্মানী বা রাশিয়া। কেমন টালমাটাল হয়ে পড়েছিল ওদের সব। যুদ্ধটুকু বাদ দিয়ে শুধু পরের অবস্থাটা দেখার জন্য একবার সে সময়টায় জন্ম নেয়া যেতে পারে! নাহ, জন্ম না, একবার ঘুরে আসা যায় বরং।
যাদুঘরে সেবার একটা কোরিয়ান মুভি দেখেছিলাম। নাম মনে নেই। দেখেছিলাম, ওরা গ্রামে যারা থাকে অনেকের মধ্যে এখনো গোষ্ঠীবদ্ধভাবে থাকার প্রবণতা দেখা যায়। গ্রামের সব ছেলেরা একসাথে ক্ষেতে কাজ করে, মেয়েরা একসাথেই সবাই মাঠে গিয়ে তাদের খাবার দিয়ে আসে। আর মৌসুম শেষে সব ফসল একসাথে তুলে রাখা হয়। সেখান থেকে গোষ্ঠীপতি সবার প্রয়োজন অনুযায়ী বিলি-বন্টণ করেন।সমাজতান্ত্রিক ব্যাবস্থা অনেকটা। কারো ব্যাক্তিগত ফসল নয়, ফসল সবার। ভাল লেগেছিল খুব। কাজ শেষে সবাই রাতে একসাথে বসে হৈ-হুল্লোড়, গান-বাজনা করছে। সব একসাথে। এমন একটা সমাজে জন্মাতে ইচ্ছে হয় মাঝে মাঝে।
আবার মাঝে মাঝে মনে হয় স্কটল্যান্ডের কোন গ্রামের মেয়ে হতাম যদি। উহু, স্কটল্যান্ডের কোন গ্রাম দেখিনি আমি। কিন্তু কল্পনায় দেখি। আমার ভাল লাগে.....
কিন্তু এগুলো তো নির্দিষ্ট কোন সময়ে জন্মাবার কথা হল না। তাহলে?
হুমম...ভাবছি...
Saturday, October 6, 2007
অনাধুনিক আমি
একটা মুভি
আসলে আমরা বড়রা বাচ্চাদের সাইকোলজিটা বুঝতে চেষ্টা করিনা। আমরা ভাবি যা আমরা ভাল মনে করছি তাই বুঝি ওদের জন্যে ভাল হবে। যেমন মুভিটা ছিল এই নিয়ে যে, স্বামী- স্ত্রীর মাঝে মনের মিল না হলে দুম করে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাচ্ছে। একবারও কি ওরা ভাবছে এতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হচ্ছে কাদের? অবশ্যই তাদের সন্তানদের! এটা ঠিক যে যখন দুজনের মনের মিল হচ্ছেনা, বরং অশান্তিটাই বেশী হচ্ছে সেক্ষেত্রে সংসার হয়ত টিকিয়ে রাখার কোন মানে হয়না, কিন্তু আরেকবার চেষ্টা করা যায়না? নাহ, এ কথাটাও মনে হয় সবার বেলায় খাটেনা। কেউ কেউ হয়ত সত্যি- ই চায় সংসারটা টিকিয়ে রাখতে, হয়ত শেষমেষ বাধ্য হয়েই সংসার ভাঙ্গে। বাবা হয়ত বাচ্চাদের সুবিধার জন্য বা নিজেরো কিঞ্চিত সুবিধার জন্য আবার বিয়ে করছে, কিন্তু বাচ্চারা তাদের নতুন মা-কে কতটা স্বাভাবিকভাবে গ্রহন করছে? বা নতুন মা-ই বা কতটা প্রান দিয়ে তাদেরকে ভালবাসতে পারছে?
মুভিটা ভাল...