Tuesday, October 9, 2007

ওপেন্টি বাইস্কোপ, নাইন টেন টেস্কোপ!

অনেকদিন অসহ্য গরমের পর কাল থেকে বৃষ্টি শুরু হল। কি যে শান্তি। এ দুইদিন টানা বৃষ্টি হচ্ছে।সেই সাথে উপরি পাওয়া হিসেবে পাচ্ছি বৃষ্টির সোঁদা গন্ধ। মাতাল করে দেয়া এ গন্ধটা যে আমার কি ভীষণ প্রিয়! খুব ভাল লাগছে, ছেলেমানুষি ভাল লাগা। বাসার সামনে মনে হয় আজকে পানি জমে গেছে, নিচে নেমে দেখা হয়নি। মাঝে মাঝে বৃষ্টিতে ধেই ধেই করে নাচতে ইচ্ছে হয় না?আজ আমার তেমনি নাচতে ইচ্ছে হচ্ছে। ছাদে উঠতে পারলে হত। কয়পাক নেচেই ছাড়তাম।

এবার বর্ষাতেও তেমন বৃষ্টি হয়নি। আবহাওয়াটাই কেমন যেন হয়ে গেছে আজকাল। সারা বছর শুধু গরম আর গরম। বর্ষাকালে বৃষ্টি নেই, এমনকি শীতকালে শীতটাও ঠিকমত পড়েনা। মনে আছে, ছোটবেলায় স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে দাদুবাড়ী আর নানুবাড়ী বেড়াতে যেতাম সবাই মিলে। ছোটবেলা থেকেই আমার ঠান্ডার ধাতটা একটু বেশিই । গরম কাপড়ের উপর আরো গরম কাপড় চড়িয়ে দিত মা। গলায় থাকত নানুর বোনা উলের মাফলার, তাও ছিল আবার বেশ ফ্যাশনেবল।মাথায় উলের টুপি, আর পায়ে মোজা তো বাধ্যতামুলক। এত্ত এত্ত শীতের কাপড় পরে সকালে উঠোনে বসে থাকতাম।ধান ভানা দেখতাম। দাদু বাড়িতে আমাদের চারপাশে তেমন কোন বাড়ি ছিলনা, সবচেয়ে কাছের বাড়িটাও ছিল বেশ দূরে। আমরা ছোটরা মিলে ইচ্ছেমত দস্যিপনা করতাম। আর ঢাকা থেকে এসেছি বলে বাড়তি খাতির তো থাকতোই। মায়ের উপর রাগ হত আমাকে এত্ত এত্ত ভারী কাপড় পরিয়ে রাখতো বলে। এগুলো পরে সবার মত ছুটোছুটি করতে পারতাম না যে, তাই মায়ের চোখের আড়ালে গিয়েই চটপট খুলে ফেলতাম টুপি, মাফলার, আর মোজা। ইচ্ছেমত লাফালাফি করে যখন ওগুলো হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরতাম, আর মায়ের সামনে গিয়ে পড়তাম- কি যে বকুনি খেতে হত! ইস, কতদিন তেমন মজা করা হয়না...

আর নানুবাড়ি গিয়ে নানুর কাছে আর কিছু খাবার আবদার না করলেও সকালে খোলাজালি পিঠা (রুটির মত এক ধরনের পিঠা ) খাওয়ার আবদার করতে ছাড়তামনা। সেই সকালগুলোতে নারিকেল-গুড় দিয়ে পিঠা খাওয়ার স্মৃতি - নাহ, ভোলার নয়। খেজুরের রস খেতে চাইতাম না বলে নানুর সেই যে কত কসরত আমাকে রস খাওয়ানোর জন্যে! বড়বেলায় একবার নানুবাড়ি গিয়ে খেয়ে এসেছিলাম ফেনা ওঠা সেই রস - ওহ, অসাধারণ। আগে খাইনি বলে খুব আফসোস করেছিলাম।

ঢাকায় ছোটবেলার তেমন কোন শীতের স্মৃতি নেই বললেই চলে। ওহো মনে পড়েছে। পরীক্ষা শেষে দাদুবাড়ি যাওয়ার আগে কিছুদিন তো ঢাকায় থাকতাম। তখন প্রতিদিন রাতের বেলা সব বন্ধুরা মিলে খেলতে বের হতাম। রাতের বেলা টিলেস-পিলেস ( হা হা, বড় হবার পর ঠিক নামটা শিখেছি। কিন্তুআমাদের কাছে সবসময় খেলাটা টিলেস-পিলেস ই থাকবে! ) খেলতাম । সবার সাথে সবাই সোয়েটার পাল্টা-পাল্টি করে নিতাম যেন চোর আমাদেরকে এক ঝলক দেখে চিনতে না পারে।একেত রাতের বেলা, তার ওপর সোয়েটার ও পালটানো - আহারে, চোর বেচারার জন্যে এখন মায়াই লাগে। যে চোর হত সেদিন সারা খেলায় তাকে চোর হয়েই থাকতে হত।

বৃষ্টির কথা লিখতে গিয়ে কি যে সব হাবিজাবি ছোটবেলার কথা লিখতে শুরু করলাম। নস্টালজিয়া পেয়ে বসেছে হঠাৎ।

ছোটবেলা থেকেই ঠান্ডার ধাতটা বেশী ছিল বলে বৃষ্টিতে তেমন একটা ভেজা হতনা। আবার একদমই যে ভেজা হতনা তাও না কিন্তু। ঝুম বৃষ্টিতে ঘর থেকে বন্ধুরা বের হয়ে গেলে মাকে খুব করে ধরতাম একটু বাইরে যেতে দেয়ার অনুমতির জন্যে। খুব করে বলার পরেও যদি রাজি না হত তখন শেষ অস্ত্র হিসেবে করুনমুখে বলতাম - “ মা, বৃষ্টিতে না ভিজলে যে আমার ঘামাচির যন্ত্রণাটা বেড়ে যায়!” আর যায় কোথায়? মাও রাজি হয়ে যেত। কিন্তু শুধু অল্প সময়ের জন্য ভিজতে অনুমতি মিলত। তাতেই সই আমার। একবার বের হতে পারলে আর ঘরে কে ফেরে সময়মত? বেশী দেরী করে ফেললে প্রতিবারই সেই একই অজুহাত- “ বাইরে বৃষ্টির তোড় কমে গিয়েছিল যে! সারা গায়ে পানি লাগাতে হবেনা?” হায়রে ছেলেবেলা। হায়রে দস্যিপনা।

আর বড়বেলার কথা বলতে গেলে দুটো ঘটনার কথা না বললেই চলেনা। এক ছিল ইউনিভার্সিটিতে নতুন ভর্তি হবার পর ডিপার্টমেন্টের ছাদে বৃষ্টিতে ভেজা, আরেকদিন চারুকলায় - পৃথিবী তোলপাড় করা বৃষ্টি নেমেছিল সেদিন। আর এখন তো মাঝে মাঝেই বৃষ্টির মাঝে ছাতা নিয়ে বন্ধুদের সাথে ডিপার্টমেন্ট থেকে বের হয়ে চা খাওয়া নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জীবনটা আসলেই সুন্দর।
আহা....

2 comments:

Syeed said...

সুন্দর লেখাটা....পড়তে পড়তে হঠাৎ কখন আরশি হয়ে গেল....

শিশিরবিন্দু said...

ধন্যবাদ syeed.
syeed, নামটা বাংলায় লিখলে হয় না?