Wednesday, February 10, 2010

ছন্নছাড়া ভাবনাগুলো - ২


আজকের সকালটা খুব সকালের মতন। একটু ঠান্ডা ঠান্ডা আবার হালকা একটুখানি মায়া মায়া রোদ্দুর। এর সাথে খুব অল্প একটু জ্বর জ্বর ভাব। ভালই লাগছে। অনেক ছোটবেলার মত একটা অনভুতি হচ্ছে। ওই যে সেই বয়সটা যখন দিন পনের যেতে না যেতেই ঠান্ডা-জ্বর বেধে যেত আমার। তখনও প্রায়-চলে-যাওয়া শীতের সকালগুলোতে এমন একটা ভাললাগা রেশ থাকত যেন। আজ সকাল থেকে মনটাও বেশি খারাপ না। খানিকটা ফুরফুরে মেজাজেই আছি বলা যায়। অবশ্য কতক্ষন এমন কাটবে বলতে পারছিনা। চোখের সামনে ঠিক এই মুহুর্তে দেখতে পাচ্ছি একটা পুচ্চু সেফটিপিন। প্রয়োজনের সময় যেটা কখনই পাইনা এখন তা দিব্বি নাকের সামনে ঝুলছে। আর আছে আমার নকিয়ার ইয়ারফোনটা, যেটা কিনা অর্ধ-নষ্ট, ক্যামেরার ডেটা-ক্যাবল আর আমার অনেক পুরোনো ট্রানসেন্ডের ২৫৬ পেনড্রাইভটা। আহা, যখন কিনেছিলাম ক্লাশে আমারটাই ছিল হাইয়েস্ট ক্যাপাসিটির পেনড্রাইভ। এর আগেরটা ছিল টুইনমসের এমপিথ্রি পেনড্রাইভ। সেও ছিল ক্লাশে প্রথম। কি যত্নেই না রাখতাম। কিন্তু কপাল খারাপ। মাসকয় যেতে না যেতেই নষ্ট হয়ে গেল। ওয়ারেন্টি ছিল বলে রক্ষা। পালটে নিয়ে এসেছিলাম খুব সুন্দর মেয়েলী ছাপের ২৫৬ পেনড্রাইভটা। গেল মাসে আমার এত সাধের ক্যামেরাটাও নষ্ট হয়ে গেল। মাদার বোর্ডে নাকি সমস্যা। সার্ভিস চার্জ ১২০০০ টাকা। ধ্যাত বলে কিনে ফেললাম আরেকটা। কিন্তু আগের ক্যামেরার মায়া এখনো ছাড়তে পারিনি। তাই নতুনটা হাতে নিতে ভাল লাগেনা একদম। মোবাইলটার জীবনিশক্তিও শেষ হবার পথে। বেচারা আমাকে অনেকদিন ধুন্ধুমার সার্ভিস দিয়ে গেছে। আজকাল চার্জ থাকছেনা। কোন এক অদ্ভুত কারনে ব্যাটারীটা ফুলে-ফেঁপে গেছে। দেখি কি করা যায়।

বাইরেটা এখন বেশ মেঘলা হয়ে আছে। আজ মনে হয় সূর্যেরও আলসেমী লাগছে আমার মতন। এক দু’বার চোখদুটো পিটিপিটি করে খুলে আবার মুখ ঢেকে ফেলছে লেপের নিচে। অলস একটা মায়াবী দিন। বইমেলায় যেতে ইচ্ছে করছে। অনেকের মত আমি সারাবছর হয়ত বইমেলার অপেক্ষা করিনা, কিন্তু মেলা শুরু হলে ভালই লাগে। ক্যাম্পাসে কেমন একটা উৎসব উৎসব রব পড়ে যায়। দুইধারের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে যেন মেলা বসে যায়। ফুটপাথে, ডিভাইডারের উপর যেখানে খুশী বসে থাকা যায়। সত্যি বলতে কি মেলার ভেতরের চেয়ে বাইরের এসব টুকিটাকি দেখতেই বেশী ভাল লাগে আমার, আর আনন্দও হয় খুব। গতকাল রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে টিপের পাতা নিয়ে মামার সাথে দরদাম করছি যখন ছোট্ট একটা ছেলে চকলেট নিয়ে এসে কি যেন চাইল। অত খেয়াল করিনি, কথা বলতে বলতে আর হাসতে হাসতেই ‘না’ বলে ফেললাম। ছেলেটা কিন্তু একটুও মন খারাপ করলনা, দৌড়ে যেতে যেতে আমাকে বলে গেল ‘কিপটা আপা!’ । শুনে খারাপ তো লাগলই না, কেন যেন উলটা মজা লাগল। ইচ্ছে করল ডেকে নিয়ে এসে কিনে দিই যা চেয়েছিল। কিন্তু চোখের পলকেই উধাও।

কি শুরু করলাম, আর কি বলছি।
তাল নেই কোন।
আরে, বেঁচে থাকাটা খারাপ কিসের ?

2 comments:

Syeed said...

বেঁচে থাকাটা খারাপ না!
অনেক ভালো লিখেছো!

শিশিরবিন্দু said...

আসলেই 'মাঝে মাঝে' মনে হয় বেঁচে থাকাটা খারাপ না। হাহা, অনেক যে ভাল লিখিনি জানি আমি, তবু কারো কাছে ভাল লেগেছে জানলে চোরা চোরা একটা ভাল লাগা ঠিকই লাগে! :)