Friday, January 1, 2010

ছন্নছাড়া ভাবনাগুলো







শুভ সকাল। ঘুম ভাংতেই দেখি ঘড়িতে ৭টা বাজে। একটা মজার ব্যাপার হল। অন্য দিনগুলোতে ঘড়িতে যখন ৮ টা বাজে, তখন ৭ টা মনে করে আবার ঘুমিয়ে যাই। ৯/৯.৩০ বাজলে ৮/৮.৩০ ভেবে জেগে উঠি। আজ যখন দেখলাম ৭ টা, হঠাৎ মনে পড়ল গতকাল এক ঘন্টা পিছিয়ে দিয়েছি ঘড়িটা। ৮টা ভেবে বিছানা ছাড়লাম। নতুন বছরের শুরুতে এই আমার প্রথম একটা ভাল কাজ। অনেক দিন থেকেই ভাবছি সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাসটা শুরু করব আবার। পারছিলামনা। আজ কিভাবে যেন হয়ে গেল। আমি খুশীঈঈঈ। উহু, শুধু একদিন জেগেছি বলেই এত খুশি হচ্ছি ব্যাপারটা এমন না। জানি যে আগামী ২/৩ দিন ঠিক এমন সময়েই ঘুম ভাংবে আমার। তখন যদি কষ্ট করে কম্বল থেকে বেরোতে পারি, তাহলেই হয়ে যাবে অভ্যাসটা!

আজ থেকে আমার থিসিসের কাজ শুরু করার কথা। কিন্তু আজ যে আবার রিমির এংগেজমেন্ট! তাহলে কি আজ শুরু করা হবেনা? ফাঁকিবাজ যে কি হয়েছি! উহু, আমি বলছি আজ চেষ্টা করব একটুখানি হলেও পড়তে! করব করব করব! ! হাতে আর মাত্র দু’মাস। সিরিয়াস হবার সময় চলে এসেছে!

বছরের শেষদিনটায় মুফের সাথে দেখা হয়নি। আজ শুরুর দিনটাতেও দেখা হচ্ছেনা। রাগ করছে মুফ, জানি আমি। কি করা যায়? আচ্ছা, আজ বিকেলে কি একবার সময় পাব? উহু, মনে হয় না। আহারে...

আচ্ছা এবছরে কি কি ঘটবে আমার জীবনে? সবকিছু যদি আমার প্ল্যানমত হয়, তাহলে এবছরটা চরম একটা ঘটনাবহুল বছর হবে আমার জন্য। বন্ধুরা সবাই নিশ্চয়ই এবছরের মধ্যেই দোকলা হয়ে যাবে, কত কতজন পাড়ি জমাবে দেশের বাইরে। তামুরও কি এবছরেই বিয়ে হচ্ছে? তানুমনির তো স্বপ্নের ভার্সিটি লাইফ শুরু হতে যাচ্ছে কিছুদিনের মাঝেই। আর মা? মা কেমন থাকবে? মা’র শুকনো কাশিটা বেড়ে যাচ্ছে মাঝে মাঝেই। গত বছর তো পা ভেঙ্গে খুব ভুগল ক’টা দিন। শরীরটা ভাল যাচ্ছেনা মায়ের একদমই। মনও না। এ বছর....থাক।

রুমুর ছেলেটা নাকি স্কুলে ভর্তি হবে। কি অবাক কান্ড। এই না সেদিন জন্মাল? সময় এত তাড়াতাড়ি যায়...আচ্ছা, লুপুর বিয়েতে মজা করব কিভাবে? আমাকে দেখলেই নিশ্চয়ই লেবু মেজাজ গরম করে চোখ পাকিয়ে তাকাবে! লুপুকে আমি এত দেখতে পারি, কিন্তু লেবুকে যে একটুও সহ্য হয়না! ! উফফ, যাবনা ওদের বিয়েতে! ধুর রিমির বিয়েটা পড়বে আমার থিসিসের আগে আগে। মাথায় একটা থিসিস বিষয়ক যন্ত্রনা নিয়ে আনন্দ করা যায় নাকি?? আহা, রিমিটা চলে গেলে একদম একা হয়ে যাব। আমার মন খারাপ হলে কাকে গিয়ে সব খুলে বলব? গভীর রাত পর্যন্ত যে করিডরে বসে থাকতাম, দিনে-রাতে ইচ্ছেমত যে দুম করে চলে যেতাম ওর কাছে...অনেক অনেক মন খারাপ হবে আমার। ইন ফ্যাক্ট লিখতে গিয়েই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাহলে এটাও থাক...

আমার মা আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু। অনেকের মা-ই হয়ত অনেকের বন্ধু থাকে, কিন্তু আমাকে যারা চেনে, তারা বুঝতে পারবে কেবল আমার মা আমার কতটা বন্ধু। মা-কে আমি পৃথিবীর যে কোন কিছুর চেয়ে, যে কারো চেয়ে বেশি ভালবাসি। এমনকি নিজের চেয়েও। এবছরটাতে আমি আমার মা’র মুখে হাসি ফোঁটাতে চাই, অন্য অনেক বছরের চেয়ে এবছরের চাওয়াটা আলাদা কিছু। আমি খুব চাই, খুব, খুব। একদম নির্ভেজাল, প্রানবন্ত হাসি...কতদিন মা’কে হাসতে দেখিনা অমন...

আর লিখবনা।

.......................

2 comments:

Syeed said...

অনেক ভালো লেগেছে..

শিশিরবিন্দু said...

অনেক ভাল লাগার জন্য অনেক ধন্যবাদ :)