
কৈশোরবেলার প্রেম নিয়ে গাওয়া অঞ্জনের ‘রঞ্জনা’ গানটা শুনেছি আমি কিশোর সময়েই। স্কুলের গন্ডি পেরোইনি তখনো। নাইন- টেনে পড়ি। তাই সেই সময়টায় এ গানগুলোর আবেদন-ই ছিল অন্যরকম। শুনতে শুনতে কিশোরী আমি চলে যেতাম রঞ্জনাদের পাড়ায়। দুপুরের ভাত-ঘুম দিতে ঘরের সবাই যখন শুয়ে, তখন রঞ্জনাকে দেখতাম চুপি চুপি বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে সাইকেল-আরোহী কিশোর অঞ্জনের অপেক্ষায়। নিজের কিছু করার সাহস ছিলনা বলে মনে মনে অঞ্জন-রঞ্জনার ভীরু ভালবাসার কথা ভাবতে আরো বেশী ভাল লাগত যেন। আরো অনেক অনেক কিশোরীর মত রঞ্জনার জায়গায় নিজেকে ভাবতাম আমি। বালিকাবেলা থেকেই মেজভাইয়াকে একটু ভয় পেতাম বলে গানে যখন রঞ্জনার মেজদাকে নিয়ে অভিযোগ তুলত অঞ্জন, মিল খুঁজে পেয়ে খুশি হতাম। নিজের রঞ্জনাত্ব আরেকটু গাঢ় হত তখন। এভাবেই প্রথম শোনার সময়ের যে কল্পনা আর ভাল লাগা- আজো মাঝে মাঝে কখনো শুনলে সে ভাললাগাটাই ফিরে আসে যেন। কল্পনাটা বা ভাবনাগুলো হয়ত কখনো কাউকে জানানো হয়নি, তবু মনের কোনে ঘাপটি মেরে ছিল এতদিন।
আজ রেডিও শুনতে গিয়ে স্টেশন ঘুরাতেই হঠাৎ রঞ্জনা নামটা কানে আসতেই থামলাম। নতুন গান অঞ্জনের। রঞ্জনা, আমি আর আসবোনা তোমাদের পাড়ায়। রঞ্জনা এখন সারাদিন কম্পিউটার নিয়েই মেতে থাকে। দুপুরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষার সময় নেই আর তার। অভিমানি অঞ্জন যখন গঙ্গাপাড় আর গড়ের মাঠে ঘুরে বেড়ায়, রঞ্জনার দৃষ্টি থাকে মনিটরের চ্যাট স্ক্রিনে। তাই অঞ্জন আসবেনা আর ওদের পাড়ায়। অভিমান হয় আমার। এতটা বছর অপেক্ষা করেছি কবে অঞ্জন একটু সাহসী হবে, মেজদার চোখ রাঙ্গানি আর পাড়াত ভাইদের ধমক অগ্রাহ্য করতে শিখবে- কোত্থেকে কি হয়ে গেল...খেয়ালী রঞ্জনার উপর না, আমার সত্যি অভিমান হয় অঞ্জনের উপরেই। কেন বলল অমন কথা? কেন আসবেনা?? অনেক আগে যখন বলত ‘রঞ্জনা, আমি আর আসবনা’ - সেই বলার ভঙ্গিতে যেন অক্ষম আকুলতা ছিল, আর আজ যখন শুনেছি ‘রঞ্জনা, আমি আর আসবোনা তোমাদের পাড়ায়’ - এই ভঙ্গিতে যেন হতাশা। আমার ভাল লাগেনা। সত্যিই ভাল লাগেনা।
কেন গানটা এমন হল?
আজ রেডিও শুনতে গিয়ে স্টেশন ঘুরাতেই হঠাৎ রঞ্জনা নামটা কানে আসতেই থামলাম। নতুন গান অঞ্জনের। রঞ্জনা, আমি আর আসবোনা তোমাদের পাড়ায়। রঞ্জনা এখন সারাদিন কম্পিউটার নিয়েই মেতে থাকে। দুপুরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষার সময় নেই আর তার। অভিমানি অঞ্জন যখন গঙ্গাপাড় আর গড়ের মাঠে ঘুরে বেড়ায়, রঞ্জনার দৃষ্টি থাকে মনিটরের চ্যাট স্ক্রিনে। তাই অঞ্জন আসবেনা আর ওদের পাড়ায়। অভিমান হয় আমার। এতটা বছর অপেক্ষা করেছি কবে অঞ্জন একটু সাহসী হবে, মেজদার চোখ রাঙ্গানি আর পাড়াত ভাইদের ধমক অগ্রাহ্য করতে শিখবে- কোত্থেকে কি হয়ে গেল...খেয়ালী রঞ্জনার উপর না, আমার সত্যি অভিমান হয় অঞ্জনের উপরেই। কেন বলল অমন কথা? কেন আসবেনা?? অনেক আগে যখন বলত ‘রঞ্জনা, আমি আর আসবনা’ - সেই বলার ভঙ্গিতে যেন অক্ষম আকুলতা ছিল, আর আজ যখন শুনেছি ‘রঞ্জনা, আমি আর আসবোনা তোমাদের পাড়ায়’ - এই ভঙ্গিতে যেন হতাশা। আমার ভাল লাগেনা। সত্যিই ভাল লাগেনা।
কেন গানটা এমন হল?
8 comments:
খুব সুন্দর লেখা। ছবিটাও দারুণ।
ধন্যবাদ অনেক।
রন্জনার অবহেলাটাকে কি শুধু খেয়ালিই মনে হলো?
আপনার লেখার হাত যথার্থই সুন্দর।
@মুক্তপাখিঃ আসলেই যে তা-ই মনে হল।
@লতিফঃ ধন্যবাদ।
@শিশিরবিন্দু,
তাহলে মনে হয় সুবিচার করা গেলো না.. :-(
এখনকার রঞ্জনাদের দিন কাটে হয় চ্যাট স্ক্রীন এর দিকে তাকিয়ে নতুবা মুঠোফোনে কান পেতে, তাই তাদের আর অঞ্জনদের ডেকে আনার প্রয়োজনও হয়না। আর আগে অভিসার এর প্রচলন কম ছিল বলে অঞ্জনদের ডেকে না আনলে দেখা হত না, তাই মনে হয় গানটা এরকম হয়েছে। আরও একটা বিষয় এখন অঞ্জন আসতে চাইলে রঞ্জনারা মনে হয় অন্য কিছু মনে করে বসতে পারে, এর সবকিছুই এর কারণ হতে পারে , বা এমনি নিছকই গানটা এরকম হতে পারে, আসলে লেখকি এটা ভাল বলতে পারবেন।
ধন্যবাদ MSU আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্য। ভাল থাকবেন।
Post a Comment