Monday, January 21, 2008
আনন্দ নগর
আজকাল দিনগুলো ভালই কাটছে। ভাই এসেছে বিদেশ থেকে বৌ-বাচ্চা নিয়ে। ছেলেটা একদমই ছোট, শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে হাসে; আর ভাইজিটা আধো আধো বুলিতে ইংরেজী বলে। শুনতে ভালই লাগে। বাসায় কেউ আসলে ওকে ডেকে নিয়ে সামান্য একটু গর্ব ভরে বলি “ মা, একটা ছড়া বল তো!” ও যদি মাথা নেড়ে বলে “ no, I can't ” , তাতেও মনে হয় - হে হে, উচ্চারণ শুনেছ? পারবে এমন? ভাবখানা এমন করি যেন তারা কত না দুর্ভাগা যারা ওর rhyme শুনতে পারলনা! নাহ, যত যাই কিছু বলি না কেন ওরা আসাতে সময়টা ভাল কাটছে। ট্যুর থেকে ফেরার পর মনটা যেমন সারাদিন উদাস হয়ে থাকত, এখন তা বেশ কমে গেছে। অবশ্য ওরা যতক্ষণ বাসায় থাকে ততক্ষণি। দেশে ফিরে ওদের ছাতা-মাথা এত কিসের কাজ থাকে কে জানে? সারাদিন শুধু বাইরে আর বাইরে। এরমাঝে আছে পিচ্চিগুলোর নানু বাসা। ওরা নানু বাসায় গেলে মনে হয়- ইশ দেশে এসেছে মাত্র কয়টা দিনের জন্যে, তাও এখানে বেশী সময় থাকতে পারছেনা। স্বার্থপরের মত ভাবি নানুবাসায় এত যাওয়ার দরকার কি? আমাদের বাসাটা সাধারনত একদম চুপচাপ। মাঝে মাঝে ছোট দুই বোনের ঝগড়ার আওয়াজে তাও ঘরে মনুষ্য বসবাসের আলামত টের পাওয়া যায়। আমার মা সাধারণত প্রবল দুঃখে থাকেন কেন আমরা যে যার মত শুধু নিজেকে নিয়েই থাকি? এই ঘরে নাকি তিনি কথা বলার মানুষ পান না। ভাইবোনদের অর্ধেকই এখন দেশের বাইরে থাকে। ঘরটা তাই ফাঁকাই থাকে বলতে গেলে। মাঝে মাঝে ওরা আসলে ঘরটা সরগরম হয়ে ওঠে কিছুদিনের জন্য। মায়ের অভিযোগ থেকে বাঁচি কয়টা দিন। ওরা চলে গেলে কয়দিন ভীষণ ফাঁকা ফাঁকা লাগে। আবার দিনগুলো যে-ই সে-ই হয়ে ওঠে। আবার সেই একই অভিযোগ। অন্যবার কেউ দেশে এলেই দেখা যায় আমাদের কারো না কারো কোন না কোন পরীক্ষা লেগেই থাকে। সে দিক দিয়ে এবার বেঁচে গেছি। সব্বাই ফ্রি। এদিকে আবার ছোট ভাইয়ার বিয়ে। মেয়ে খুঁজছি। মাস দু’এক ভালই আনন্দে কাটবে মনে হচ্ছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment